Posts

Showing posts with the label ভৌতিক গল্প

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৯)

Image
আরো প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো কেটে গেলো । পৌষী ও মুহিতের কোনো খবর পাওয়া গেলোনা । ফাহাদ বাড়ির বাইরে এসে আশেপাশে খুঁজে দেখছে ৷ আর নিজের রুমে পায়চারী করছেন মিয়াজ শেখ । দুজনের জন্যই চিন্তা হচ্ছে তার । স্ত্রী আমেনাকে এই বিষয়ে কিছু জানাননি । নতুবা তিনিও দুশ্চিন্তা করতে শুরু করবেন । এরইমাঝে ফোনের রিং টোনের শব্দে ঘোর কাটলো মিয়াজ শেখের । অপরিচিত নাম্বার দেখে রিসিভ করে বললেন- আসসালামুআলাইকুম । কে বলছেন? . ওপাশ থেকে বললো- বাবা আমি মুহিত বলছি । -মুহিত! পৌষী এখনো বাসায় ফিরেনি কেনো? আর তুই এতোক্ষণ বাইরে কি করছিস? বাসায় ফোনটাও রেখে গেলি । -বাবা আসলে ছোট একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। -এক্সিডেন্ট! ঠিক আছিস তুই? -আমি ঠিক আছি । তবে পৌষী হাতে ব্যথা পেয়েছে ৷ পৌষীকে নিয়ে হাসপাতালে আসলাম । দৌড়াদৌড়িতে ছিলাম যার কারণে ফোন করা হয়নি । -কোন হাসপাতালে আছিস তোরা? আমি আসবো । . মুহিতের সাথে কথা শেষ করে মিয়াজ শেখ ফোন করলেন ফাহাদকে । মিয়াজ শেখের ফোন পেতেই রিসিভ করে ফাহাদ বললো- পৌষীর কোনো খবর পেয়েছেন? -হ্যাঁ । আসলে.... . অজান্তেই ফাহাদের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো- পৌষী ঠিক আছে? কোনো বিপদ হয়নি তো? -মুহিত বললো ছ...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৮)

Image
দরজায় তালা লাগানো বিধায় বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ফাহাদ । পৌষী এসে ফাহাদকে দেখে চমকে গেলো । আমতাআমতা করে বললো- আজও আপনি তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছেন? . শান্ত স্বরে ফাহাদ বললো- যদি না আসতাম, তাহলে তোমার ভিন্ন রূপ সম্পর্কে কিভাবে অবগত হতাম? -মানে? . পৌষীর খুব কাছে এসে ফাহাদ বললো- উষ্ণের সাথে কি সম্পর্ক তোমার? -কি সম্পর্ক মানে? -কথা ঘুরিয়ে লাভ নেই । আজ আমি তোমাকে উষ্ণের সাথে দেখেছি । -তো? -তো মানে! আমি যখন বলেছি বাইরে কোথাও যাবো, তখন বলেছিলে তোমার ক্লান্ত লাগছে । তবে এখন তোমার ক্লান্তি গেলো কোথায়? . দাঁতে দাঁত চেপে পৌষী বললো- বাহ! আজ আপনার আমাকে নিয়ে এতো অভিযোগ । কই! এই চারমাসে কোনো অভিযোগ আমি করিনি! তবে আপনি কেনো করছেন? আমি যাই করে থাকি, তাতে আপনার কি? -পৌষী! আমি কোনো মেয়ের প্রশংসা তোমার সামনে করিনি । বা কোনো মেয়ের সাথে ঘুরতে যাইনি । তোমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে পছন্দ ছিলোনা তাই দুরত্ব বজায় রেখেছি । -তো রাখুন! দুরত্ব বজায়ই রাখুন । আপনি আমাকে অবেহেলা করতে পারেন । এতে কিছুনা! আমি আমার স্বপ্নের পুরুষের সাথে দেখা করতে গেলাম । এতেই আপনার সমস্যা । -মুখে লাগাম দিয়ে কথা বলো । তুমি বি...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৭)

Image
পৌষীকে নিয়ে মাথা থেকে চিন্তা ফেলে ফেবুতে প্রবেশ করলো উষ্ণ । ডানা কাটা পরীর আইডিতে একটি কবিতা আপলোড হয়েছে---- ক্লান্ত যখন মন তোমার কাঁধে মাথা, মন চাইছে চাঁদ দেখবো, নেই তো কোনো বাঁধা। তবুও মনকে প্রশ্ন করি কোথায় আমার তুমি। সত্যি বলতে তোমার খোঁজ, পাইনি এখনও আমি। . কবিতাটি পড়ে উষ্ণ ইনবক্স করলো আইডিতে - কি খবর পরী ম্যাডামের? - উষ্ণ মাহমুদ কাউকে নিজ থেকে মেসেজ করে! জানা ছিলোনা । -আপনি আমাকে কতোটুকুই বা চিনেন? -যতোটা চিনলে একজন মানুষের সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায় । . মেসেজটি পেয়ে চমকে উঠলো উষ্ণ । আজ এই কথাটি তাকে পৌষীও বলেছে । পৌষীর চিন্তা মাথা থেকে ফেলার জন্যই পরীর সাথে চ্যাটে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেয়েছে । কিন্তু পরীর আচরণেই পৌষীর কথা আবারো মনে পড়লো তার । উষ্ণের কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে পৌষী লিখলো- আজ মিয়াজ সাহেবের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোমাকে কালো জ্যাকেট-টায় অনেক মানিয়েছে । . আবারো যেনো ধাক্কা খেলো উষ্ণ । এই মেয়ে কিভাবে জানলো? সে আজ কালো জ্যাকেট পরে মিয়াজ শেখের বাড়িতে গিয়েছে । উষ্ণ লিখলো- কে আপনি? -তোমার খুব চেনা কেউ । -ভণিতা না করে বললেই পারেন! -ভণিতা করতেই ভাল...

১০১ তম - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ৩) [শেষ পর্ব]

Image
এখন কি মাসুদ ভাইয়ের কল রিসিভ করাটা ঠিক হবে? কাঁপা কাঁপা হাতে কল রিসিভ করলো ফাহাদ, - হ্যালো মাসুদ ভাই! - কি রে তোর গলা এমন কাপছে কেনো? শরীর ঠিক আছে তো? ডাক্তার দেখিয়েছিস? - না ভাইয়া এইতো একটু ঠান্ডা লেগেছে। সেরে যাবে জলদিই। - আচ্ছা কোথায় এখন তুই? - আ আ আমি তো বাসায়। কেনো? - না এমনিই৷ তুই একদিন আসলিনা, মনে হচ্ছে কতোদিন দেখি না তোকে। তোকে না দেখলে না ধান্দাটা ঠিক যায় না মাইরি। - কি যে বলো না ভাইয়া! - আচ্ছা রাখ সুস্থ বোধ করলে চলে আসিস। - ঠিক আছে। উফফ হাফ ছেড়ে বাঁচলো ফাহাদ। এর আগে কখনো এমনটা হয়নি তার। এখন কি করা যায় এই মেয়েটিকে নিয়ে? তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা আসে ফাহাদের। কিন্তু মৃত একটা দেহ ফাহাদ নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে কি করবে? নিবেই বা কিভাবে! আর রাখবে বা কোথায়! ফাহাদের হার্টবিট বেড়ে গেলো। এ কি ভাবছে ফাহাদ! ফাহাদ কি প্রেমে ট্রেমে পড়ে যায় নি তো মেয়েটির? কিন্তু কোথা থেকে কি? এ হতে পারে না। ফাহাদ সেখান থেকে চলে যেতে চায়লেও যেনো পারছে না। ফাহাদ পেছনে থাকা একটি চেয়ার নিয়ে মেয়েটির লাশের পাশে গিয়ে বসলো। কি মায়াবী চেহারা মেয়েটার।মনে হচ্ছে যেনো কোন পরী ঘুমোচ্ছে। মনেই হচ্...

১০১ তম - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ২)

Image
রাত দেড়টা। ফাহাদের চোখে ঘুম নেই, খুব ভয়ে আসে সে।লাশ ঘরের ভেতর থেকে যে খবরটা দিয়েছিলো নতুন লাশ এসেছে মাসুদ ভাই, সেও এখন লাশ। কারণ আজকের ডিলটা মাসুদ ভাইয়ের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আর এই প্রথম ফাহাদ নিজে খুন করে নিজেই লাশ কাটার কাজ করেছে। ক্রাইম দুনিয়া থেকে যতই সে বেরিয়ে আসতে চাইছে ততই সে এসবের মাঝে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে ফাহাদের ভয় এখানে ফাহাদ মিথ্যে বলেছে, লোকটা কতো কান্নাকাটি করলো সবার পায়ে ধরলো কিন্তু মাসুদ ভাই ফাহাদকেই বিশ্বাস করেছে। আর যদি জানে যে ফাহাদ মিথ্যে বলছে তাহলে হয়তো নেক্সট ডিলে তারই......... না না এসব কি ভাবছে সে! ঠিক তখনই তার মেয়েটির কথা মনে পড়লো। সব দোষ সেই মেয়েটির। কিন্তু মেয়েটিই বা কি করলো? সে তো মৃত! আর ফাহাদ কেনো মৃত একটি মেয়ের জন্যে এসব করছে? হাজারো প্রশ্ন হয়তো তার মনে জন্ম নিতো, কিন্তু ক্লান্ত শরীর বিছানাতে এলিয়ে পড়াতে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যায় সে। . . বেলা ১২টা হঠাৎ হকচকিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ে সে। কাল রাতের মতো আবারো অঝোর ধারায় ঘামছে সে! এদিক ওদিক তাকিয়ে রান্না ঘরের দিকে দৌড়ে যায় বড় মাটির কলসটি আলগে ধরে একটানা পানি পান করতে থাকে যেনো সবে মাত্র রোজা ...

১০১ তম - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ১)

Image
১০১ তম বারের মতো লাশ চুরি করতে যাচ্ছে ফাহাদ। ভয়ে আগের মতো এখন আর হাত পা কাঁপেনা তার। তবে কি সে অভ্যস্ত তাতে? নাকি পেটের দায়ে এসব করতে হচ্ছে! ছোট বেলায় তার মা বাবা দারিদ্র্যের কারণে তাকে রেল স্টেশনে ছেড়ে যায়। বয়স তখন ৮। তাকে ভুতের ভয় কাবু করতে পারে না। কারণ তাকে তো কখনো কেউ ভূতের ভয় দেখাইনি। তাই বলে কি তার ভয় নেই? হ্যাঁ খুব ভয় তার, কিন্তু ভূতের নয় মানুষের। আজ থেকে ১১ বছর আগে যখন তার ৯ বছর তখন থেকেই সে দেখেছে মানুষের ভেতরের অংগপ্রত্যঙ্গ। মা বাবা ফেলে যাওয়ার ঠিক এক বছর আগে মাসুদ ভাই ফাহাদকে খুব নিখুঁতভাবে চুরি করতে দেখে। সেই রাতে ফাহাদকে সেখান থেকে তুলে নেয় মাসুদ ভাই। ছোট খাটো চুরি করে আর কতো আর কামাবি? তুই এসবের জন্যে না। তোর কাজের দক্ষতা আমাদের বড় কিছু দিতে পারে। ফাহাদও রাজি হয়ে যায়। এই মাঝের বছর গুলোতে ফাহাদ হয়ে উঠে মাসুদ ভাইয়ের খুব প্রিয়। দলের সবার কাছেও সে সুনাম অর্জন করে নিয়েছে। তবে ১৮ বছর বয়সে দেখা দিয়েছে নতুন এক সমস্যা। মাসুদ ভাই এর থেকে বড় কিছু করতে চায়। খবর পেয়েছে কিডনি, চোখ এসব বাইরে সাপ্লাই দিতে পারলে রাতারাতি লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়া যায়। প্রথম প্রথম ফাহাদ ...

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ২১) [শেষ পর্ব]

Image
সন্ধ্যে ঘনিয়ে রাত এসে গেলো। আরেকটা রাত অতিবাহিত হলেই কালকে নতুন একটি দিনের দেখা পাবে নিয়ন্তা। কিন্তু তার মনের কোণে জমে থাকা হাজারো প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হতে পারছেনা সে। . জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের চাঁদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করছে নিয়ন্তা। পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলো ইরফান। তার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে জিজ্ঞাসা করলো- কি ভাবছো? -কেমন যেনো লাগছে ইরফান। মনে হচ্ছে আজই সব কিছুর শেষ হতে চলেছে। -সব কিছু বলতে? -আরেকটা সুন্দর নতুন দিনের দেখা পাবোনা মনে হচ্ছে, এভাবে চাঁদের সৌন্দর্য্য আর দেখতে পাবোনা মনে হচ্ছে। . নিয়ন্তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আলতো করে তার কপালে চুমু এঁকে দিয়ে ইরফান বললো- তোমার মনে কি চলছে আমি জানিনা নিয়ন্তা। কিন্তু যা চলছে তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে দাও। দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। . আচমকা ইরফানকে জড়িয়ে ধরলো নিয়ন্তা। একনাগাড়ে বললো সে- আমি ভাবতে চাইনা কিছু। কিন্তু চলে আসে ভাবনায়। আমার সাথেই কেনো এসব হলো বলতে পারো ইরফান? সব কিছু পেয়েও নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে। কিসের শূন্যতায় ভুগছি আমি! . .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ২০)

Image
টেবিলে হরেক রকমের খাবার সাজিয়েছে নিয়ন্তা। ইরফানের সব পছন্দের খাবার রান্না করেছে আজ সে। প্লেটে ভাত নিয়ে চেঁচিয়ে ইরফানের উদ্দেশ্যে নিয়ন্তা বললো- কই? খেতে আসো। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলো বলে। . তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে টেবিলের দিকে এগিয়ে এসে ইরফান বললো- এতো চেঁচামেচি কেনো সাহেবা? -সেটা ভালোভাবে তাকালেই বুঝবেন। . টেবিলের উপর তাকিয়ে ইরফান দেখলো তার সব পছন্দের খাবার রান্না করেছে নিয়ন্তা। তা দেখে একগাল হেসে ইরফান বললো- আজ কোনো স্পেশাল ডে নাকি? -হু। -কি? -তোমাকে পিটানোর ডে আজ। -মানে? -মানে কি! পছন্দের রান্না করলেই বুঝি স্পেশাল ডে হতে হয়? .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৯)

Image
নিয়ন্তার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে ইরফান। নিয়ন্তা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো- ঠিক আছো তুমি ইরফান? -হু। -ভয় করোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। -নিয়ন্তা? -বলো? -আমরা এই বাসাটা থেকে দূরে কোথাও চলে যাই? -তোমার কি মনে হয় ওখানে বর্ণের আত্মা আমাদের পিছু নিবেনা? এইখানে যেহেতু আসতে পেরেছে দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে যেতে পারবে। . খানিকক্ষণ চুপ থেকে ইরফানের উদ্দেশ্যে নিয়ন্তা বললো- আচ্ছা? এমন কিছু কি আছে যা আমি জানিনা? . নিয়ন্তার কথা শুনে তার কোল থেকে মাথা উঠিয়ে নিলো ইরফান। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললো- কি বলতে চাইছো তুমি? -রেগে কেনো যাচ্ছো! আমি শুধুই জানতে চেয়েছি। -কি জানতে চাইছো তুমি? . ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে নিয়ন্তা বললো- কিচ্ছুনা। . .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৮)

Image
সবটাই যেনো ধোঁয়াশা লাগছে নিয়ন্তার কাছে। প্রিয়ার স্বামী যদি বাবলু হয় তাহলে ইরফানের বউ বলতে শুনেছিলো কেনো সে? আলিনা কেনো ইরফানকে বাবাই বলে ডেকেছিলো! নানারকম প্রশ্ন এসে জমেছে নিয়ন্তার মনে। এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ইরফানের সাহায্য তার প্রয়োজন। . বিছানার পাশে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় ইরফানকে দেখতে পেলো নিয়ন্তা। তার পাশে বসে কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোয়াতেই ইরফান তার চোখ জোড়া খুলে বললো- স্বপ্ন দেখছি না তো! -নাহ। তুমি ঘুমের ভান ধরে ছিলে? -আজ্ঞে না। কাল অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করার কারণে শরীরটা মেষমেষ করছে। -ওহ! তা তোমরা কে কে গিয়েছিলে? -এখানকান বন্ধু এরা। তুমি চিনবেনা। -ছবি তুলোনি? -তুলেছি। -দেখি? -এটার জন্য পারমিশন নিতে হবে নাকি! .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৭)

Image
ইরফানের সাথে ভুল পথে পা বাড়ানোর পর নিয়ন্তা সবসময় হতাশায় ভুগতো। এদিকে বর্ণ তার মুখে এক চিলতে হাসি দেখার জন্য সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতো। শ্রীমঙ্গল থেকে আসার পর নিয়ন্তার কেনো যেনো বর্ণকে সব সত্যি বলতে ইচ্ছে করেনি। কিন্তু ইরফান বারবার ফোন করার কারণে সেই রাতের ঘটনা নিয়ন্তা এক মুহুর্তের জন্যও ভুলতে পারতো না। . এক দুপুরে হঠাৎ করেই বর্ণকে সব সত্যি জানিয়ে দিলো নিয়ন্তা। বর্ণ তার কথা শুনে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেও পরমুহূর্তেই মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে বললো- ভালোবাসো ইরফান কে? -হু। -বাসো তো? নাকি ভুল করেছো বলেই যেতে চাইছো তার কাছে? -বাসি। -ঠিক আছে। তোমাকে ডির্ভোস দিবো আমি। -আমি একটু মৌলভীবাজার যেতে পারি? -ইরফানের বাসায়? -হু। ওর ফোনটা বন্ধ। আমার সাথে রাগ করেই বন্ধ রেখেছে। আজ ইরফানের জন্মদিনও... -তুমি নিজে গিয়ে ডিভোর্সের কথা বললে জন্মদিনের সেরা উপহারটি সে পাবে। তাইনা? .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৬)

Image
-৪৫০ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়ে থাকে। দেশের সবচেয়ে উন্নতমানের চা এখানেই উৎপন্ন হয়ে থাকে। চা বাগান থেকে উৎপাদিত চায়ের মাধ্যমে সিলেট এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছে। এই চা বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করছে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা। সুরমা অববাহিকা তথা সিলেটের আশেপাশের সব এলাকাই চা বাগানে আবৃত আর এ কারনেই চা বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশের.... . বর্ণের কথা শুনে নিয়ন্তা হেসে বললো- আমিও কিন্তু সিলেটের মেয়ে। এসব আমি জানি। -জানতে তো ভালোই। বর্ষাকালে চা বাগানে আগে এসেছো? -আসিনি। -বর্ষায় চা বাগানের সৌন্দর্যের একটা আলাদা রুপ ধারন করে থাকে। সবুজ গালিচার উপরে যেনো কুয়াশার ছাউনি। উপলব্ধি করতে পারছো কি? -এতো বকবক করতে থাকলে কিভাবে করবো? . নিয়ন্তার কথা শুনে চুপসে গেলো বর্ণ। চুপচাপ অন্য দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে রইলো সে। . নিয়ন্তা চোখ জোড়া বন্ধ করে প্রকৃতির ঘ্রাণ নিতে লাগলো। একপর্যায়ে বর্ণের দিকে তাকিয়ে বললো- উপলব্ধি করলাম, বর্ষায় আসলেই অন্যরকম সৌন্দর্য্য ধারণ করে চা বাগান। .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৫)

Image
প্রিয়া কি আসলেই কৌতুহলবশত এসব জানতে এসেছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে? যদি থাকে সে কারণ টাই বা কি! নানারকম প্রশ্নে অস্থির হয়ে আছে নিয়ন্তার মন। . সোফার উপর বসে পড়লো সে। আজ প্রিয়া তাকে যেসব প্রশ্ন করেছে সেসবের বেশিরভাগই সঠিক জবাব সে দেয়নি। বর্ণের সাথে বিয়ের আগে তার গর্ভে ইরা আসেনি। বরং বর্ণের সাথে বিয়ের পরেই ইরফানের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলো নিয়ন্তা। যার ফসল ইরা। বর্ণের সাথে বিয়ের এক মাস পরেই তার পরিবারের সকলে লন্ডনে গমন করলেও নিয়ন্তাকে একা রেখে বর্ণ যায়নি। কদমহাটার নিজের বাড়িতেই নিয়ন্তাকে নিয়ে থেকে যায় সে। বর্ণের পরিবারের প্রত্যেকেই নিয়ন্তাকে আপন করে নিয়েছিলো, কিন্তু নিয়ন্তাই তাদের আপন করে নিতে পারেনি।

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৪)

Image
. দুজনের বিয়ের ছবি দেখে নিয়ন্তা আবারো হারিয়ে যেতে থাকে স্মৃতির সাগরে। . . বর্ণের ফোন নাম্বার পাওয়ার পরেই ইরফান তাকে ফোন করে দেখা করতে বললো। ইরফানের কথামতো বর্ণ তার বাসায় সন্ধ্যায় দেখা করতে আসলো। . ইরফান তাকে দেখে সাদরে বাসার ভেতরে এনে সোফার উপরে বসতে বললো। বর্ণ বসতে বসতে বললো - বলুন কি বলবেন? -নিয়ন্তার পেছনে লেগেছেন কেনো আপনি? -আপনি কেনো লেগেছেন? . বর্ণের কথা শুনে এক গাল হেসে ইরফান বললো- নিয়ন্তার বফ আমি। আমাকে এসব প্রশ্ন করা সাজে? -নিয়ন্তার হবু বর আমি, আমাকে এসব প্রশ্ন করা সাজে? -নিয়ন্তা আমাকে ভালোবাসে। -আমি নিয়ন্তাকে ভালোবাসি। কথায় আছে জানেন তো, যে তোমাকে ভালোবাসে তাকেই কদর করো। -আমিও বাসি নিয়ন্তাকে। -ভুল।

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৩)

Image
প্রিয়ার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিয়ন্তা প্রশ্ন করলো- আপু আপনার স্বামী কিভাবে আমাদের না দেখেই এতো নিখুঁতভাবে ছবিটা এঁকেছেন? . নিয়ন্তার করা প্রশ্নে হালকা হেসে প্রিয়া বললো- আমি তোমাদের বর্ণনা দিয়েছিলাম। তা শুনেই আঁকলো আরকি। -বর্ণনা শুনেই এতো ভালো আঁকতে পারেন! না জানি সরাসরি দেখলে কিভাবে আঁকতেন! . নিয়ন্তার কথা শুনে হাসতে থাকলো প্রিয়া। . তার দিকে কিছুক্ষণ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো নিয়ন্তা। সে যদি ছেলে হতো নির্ঘাত প্রিয়া নামক মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। কিন্তু প্রিয়া তার স্বামীর সাথে কেনো দেখা করায়নি? . -কি ভাবছো? .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১২)

Image
নিয়ন্তার করা প্রশ্নে জবাব দিলো ইরফান- এলাকার মেয়ে। প্রতিবেশী। -ওহ! তোমরা ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসো আমি তোমাদের জন্য কফি করে আনছি। -জয়া কফি খায়না। তুমি সবার জন্য চা করো। -ঠিক আছে। . জয়ার সাথে ইরফান বেরিয়ে যেতেই আপনমনে নিয়ন্তা বলতে লাগলো- প্রতিবেশী চা নাকি কফি খান এটাও উনি জানেন! . . ড্রয়িংরুমে এসে সোফার উপরে বসতে বসতে জয়া বললো- আমিতো ভেবেছিলাম নিয়ন্তা একটা হুর পরী। -মানে? -মানে বুঝোনি? -নাতো। -আমার প্রস্তাব তুমি ওর জন্যই অগ্রাহ্য করেছিলে, তাইনা? -হু।

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১১)

Image
-আপা আপনারা এখানে কি করেন? . রকির করা প্রশ্নে পেছনে তাকিয়ে প্রিয়া বললো- আলিনাকে খুঁজতে এসেছিলাম। . আলিনাকে নিজে নিজে বকবক করতে দেখে রকি বললো- আলিনা মনি কি নতুন সাথী পাইছে? -হু। -কতোবড়? -ওর সমবয়সী। আচ্ছা তুই এখন যা। চা বানা আমার জন্য। -আচ্ছা। .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ১০)

Image
নিজের রুমে গিয়ে ইরফানকে খুঁজতে থাকলো নিয়ন্তা। ইরফানকে না দেখতে পেয়ে বুঝতে পারলো এখন বাইরে যে আছে সেই ইরফান। . ভেতরে এসে নিয়ন্তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইরফান বললো- আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সরি নিয়ন্তা। . শান্ত গলায় নিয়ন্তা বললো- হু। -ভেজা কাপড়টা বদলে আসো। ঠান্ডা লেগে যাবে। . ইরফানের কথায় ড্রয়ার থেকে একটা নাইটি বের করে নিয়ন্তা এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে। . এদিকে নিয়ন্তাকে শান্ত, চুপচাপ দেখতে পেয়ে চিন্তা হতে থাকলো তাকে নিয়ে ইরফানের। ইরার ভুত কি আবার দেখা দিয়েছে তাকে? নানারকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ইরফানের মনে। . .

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ৯)

Image
ড্রয়িংরুমে যেতেই সদর দরজা বন্ধ দেখতে পেলো নিয়ন্তা। দ্রুতবেগে এগিয়ে গিয়ে সে দরজা খুলে উঠোনে গেলো। বৃষ্টির মাঝেই ভিজতে ভিজতে বললো- কে তুমি? আজ তোমায় দেখা দিতেই হবে। দেখা দাও বলছি। -খুঁজে দেখো পাবে আমায়, আমি সেই চিরচেনা। . কথাটি দূর থেকে ভেসে আসতেই নিয়ন্তা ঘাবড়ে গেলো। ধীরপায়ে পেছনের দিকে পিছিয়ে গিয়ে বারান্দার উপরে ধপাস করে বসে পড়লো সে। বৃষ্টির ফোটার সাথে তার চোখের পানি মিশে একাকার হতে লাগলো। পুরো শরীরে ঠাণ্ডা অনুভব করছে সে। তবুও কেনো যেনো গভীর ভাবনায় তার তলিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। হুম, বর্ণের কথা মনে পড়ছে তার। তার সাথে কাটানো মুহুর্ত গুলোর কথা ভাবতে বড় ইচ্ছে করছে।

ধোঁয়াশা - সাজি আফরোজ (পর্ব ৮)

Image
নিয়ন্তাকে সারা বাড়ি খুঁজে না পেয়ে ছাদে গিয়েছিলো ইরফান। সেখানে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়ে কোলে তুলে নিজের রুমে নিয়ে আসে সে। . . বিছানার উপরে শুয়ে আছে নিয়ন্তা। একটু আগেই তার জ্ঞান ফিরলো। কিন্তু ইরফান তার কাছে একটুও আসেনি। তাই মনটা খারাপ হয়ে আছে তার। . কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে ইরফানের উদ্দেশ্যে বললো- আমি ইরাকে নিষেধ করেছি। সে আর তোমায় দেখা দিবেনা বলেছে। . চুপচাপ সোফার উপরে বসে আছে ইরফান। শোয়া থেকে উঠে ধীরপায়ে তার দিকে এগিয়ে আসলো নিয়ন্তা। তার পাশে বসে কাঁধে মাথা রেখে বললো- ইরা আমাদের অংশ। তুমি তাকে দেখতে পেয়ে খুশি হওনি? . ইরফান ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো- বিষয় সেটা নয়। -কি?