১০১ তম - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ৩) [শেষ পর্ব]


এখন কি মাসুদ ভাইয়ের কল রিসিভ করাটা ঠিক হবে?
কাঁপা কাঁপা হাতে কল রিসিভ করলো ফাহাদ,
- হ্যালো মাসুদ ভাই!
- কি রে তোর গলা এমন কাপছে কেনো? শরীর ঠিক আছে তো? ডাক্তার দেখিয়েছিস?
- না ভাইয়া এইতো একটু ঠান্ডা লেগেছে। সেরে যাবে জলদিই।
- আচ্ছা কোথায় এখন তুই?
- আ আ আমি তো বাসায়। কেনো?
- না এমনিই৷ তুই একদিন আসলিনা, মনে হচ্ছে কতোদিন দেখি না তোকে। তোকে না দেখলে না ধান্দাটা ঠিক যায় না মাইরি।
- কি যে বলো না ভাইয়া!
- আচ্ছা রাখ সুস্থ বোধ করলে চলে আসিস।
- ঠিক আছে।
উফফ হাফ ছেড়ে বাঁচলো ফাহাদ। এর আগে কখনো এমনটা হয়নি তার।
এখন কি করা যায় এই মেয়েটিকে নিয়ে?
তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা আসে ফাহাদের।
কিন্তু মৃত একটা দেহ ফাহাদ নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে কি করবে?
নিবেই বা কিভাবে! আর রাখবে বা কোথায়!
ফাহাদের হার্টবিট বেড়ে গেলো। এ কি ভাবছে ফাহাদ! ফাহাদ কি প্রেমে ট্রেমে পড়ে যায় নি তো মেয়েটির?
কিন্তু কোথা থেকে কি? এ হতে পারে না। ফাহাদ সেখান থেকে চলে যেতে চায়লেও যেনো পারছে না।
ফাহাদ পেছনে থাকা একটি চেয়ার নিয়ে মেয়েটির লাশের পাশে গিয়ে বসলো।
কি মায়াবী চেহারা মেয়েটার।মনে হচ্ছে যেনো কোন পরী ঘুমোচ্ছে।
মনেই হচ্ছে না এটি দু'দিন পার হতে যাওয়া একটি মৃত লাশ।
ফাহাদ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হবে না ফাহাদ।
কথা বলতে চায় সে, একটু মন খুলে। নাম কি দিবে তার? ছলনাময়ী???
হ্যাঁ এটা ঠিক আছে।
লাশটার দিকে তাকিয়ে ফাহাদ বললো-
তো তুমি জিজ্ঞেসা করবে না ছলনাময়ী কেনো?
কারণ হচ্ছে আমি তোমাকে আমার ভাবনায় পাই ঠিকই কিন্তু সবটা আমার হাতে থাকে না। আমার এমন মনে হয় আমার ভাবনা কে কেউ কন্ট্রোল করছে।
আর সে আর কেউ না তুমি-ই ছলনাময়ী।
আচ্ছা ছলনাময়ী, তুমি কি জানো এই প্রথম কাউকে দেখে আমার সমস্ত দুনিয়া আটকে গিয়েছিলো?
কাল সবে মাত্র দেখা আমাদের কিন্তু এখন এমন মনেহয়, আমি সব কিছু করতে পারবো তোমার জন্যে।
তুমি, তুমি খেয়াল করেছো সেদিন কতো মিথ্যে বললাম আমি? আজও তো......
আমি না কখনোই মাসুদ ভাই কে মিথ্যে বলিনি।
আর কখনো কাউকে নিয়ে চিন্তা করার সময় টুকুও যে আমার জীবনে ছিলো তা তুমি আসার পর লক্ষ্য করলাম। আমার ভেতরেও কারো জন্যে ভালোবাসার জন্ম হতে পারে তা তোমার দ্বারায় উপলব্ধি করলাম। আমি হারিয়ে যাই বার বার হারিয়ে যাই,
তোমার ঐ মুখের দিকে তাকিয়ে। তুমি এমন একজন, যে আমার জীবনে এসে ভালোবাসা দিলে। কিন্তু মৃত। মৃত ভালোবাসা....
জানিনা আমি এগুলো কেনো বলছি। কিন্তু আজ প্রাণ খুলে সব বলতে ইচ্ছে করছে।
এই মেয়ে শুনছো? কি যাদু করেছো বলো না ঘরে আর থাকা যে হলো না।
কথাটি বলেই অট্ট হাসিতে মেতে উঠে ফাহাদ।
আবার নিজেই হাসি থামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো, ইশ কেউ শুনে ফেললে কেলেংকারী হয়ে যাবে।
ফাহাদের মনে হতে লাগলো এই মেয়ের কোন আত্মা ফাহাদকে বস করেনি তো?
না, তা হওয়ার নয়। ভূতপ্রেত জাদুটানা এসবের কিছুতেই সে বিশ্বাসী না।
কিন্তু এখন কি করবে ফাহাদ? এভাবে আর কতোদিন!
ফাহাদ আজ প্রাণ খুলে কথা বলতে চায়লেও সে আবারো ভাবনার দেশে হারিয়ে যেতে লাগলো।
এইবার ভাবতে লাগলো ছলনাময়ী কে কীভাবে তার সাথে নেওয়া যায়।
শুধুমাত্র বাসায় না ফাহাদ যেখানে যেখানে যায় সেখানেও কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া যায়।
একটা প্রশ্ন ফাহাদকে হঠাৎ তার ভাবনার জগৎ হতে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে।
আর সেটি ছিলো কাল রাতে ফাহাদ ছলনাময়ীকে ১০১ নম্বর ড্রয়ার থেকে বের করে অন্য একটি ড্রয়ারে রেখেছিলো।
কিন্তু আবার আগের ড্রয়ারে এলো কেমনে?
- তোমাকে তো আমি ঐ যে, ঐ ড্রয়ারটিতে রেখেছিলাম তুমি এখানে এলে কেমনে?
ফাহাদের কথা গুলো শুনলে কেউ হয়তো তাকে পাগল বলতো। আর নাহয় বলতো, মেয়েটা তো আর কোন জীবিত বাচ্চা না যে তুমি তাকে বাড়ির একটা রুমে ছেড়ে এলে আর সে ঠিক নিজের রুম খুঁজে নিলো।
.......
হঠাৎ কর্কশ কন্ঠে, আমি রেখেছি তাকে ১০১ এ তে।
ফাহাদ বেশ ভয় পেলো। ভয়ে তার হাত পা কাঁপতে থাকে। শার্টের ভেতর গুজে রাখা রিভলবারটি হাতে দিয়ে শক্ত করে ধরে পেছনে ফিরে তাকাতেই সে শাকিল কে দেখতে পেলো।
হাত এখনো শার্টের ভেতর। খালি হাত বের করে নিলো ফাহাদ।
ফাহাদ- শাকিল তু তুই এখানে?
- হ্যাঁ এখানে কেনো অবাক হচ্ছিস?
শাকিল দরজা থেকে একটু বা দিকে সরে আসতেই মাসুদ ভাইকে দেখতে পেলো ফাহাদ।
তার চোখ দুটি লাল, স্পষ্ট দেখতে পারছে ফাহাদ। আর মাসুদ ভাইয়ের হাতে সেই লাল ডায়েরি।
হ্যাঁ ফাহাদ ডায়েরি লিখত৷ কিন্তু সবার অগোচরে। এই ডায়েরির কথা কেউ জানতো না।
ফাহাদ- মাসুদ ভাই??
- থাম, থাম।
তোকে আর কিছু বলতে হবে না। তুই শুধু এই ডায়েরির কয়েকটা পাতা ছিড়ে ফেল।
আমাদের ছেড়ে যাবি সেটা। এই মৃত মেয়েকে নিয়ে যা যা লিখা সব। আয় ফাহাদ আবার নতুন করে শুরু কর।
ফাহাদ চুপ করে নিচে তাকিয়ে রইলো।
শাকিল- দেখেছেন মাসুদ ভাই, আমাদের এতোদিন বড় বড় জ্ঞান দিয়ে কথা বলতো মেয়েদের লাশের সাথে কিছু করা যাবে না। আর নিজে এখানে প্রেমিক হয়ে বসে আছে। মাসুদ ভাই কালকের ডিলটা কতো গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ও তা জানা সত্ত্বেও মেয়েটির লাশ গোপন রেখেছে। আমি তোমাকে বলার পরেও আমাকে বিশ্বাস করোনি তুমি। নিজ ভাইয়ের কথা শুনলে না দেখলে এবার কি হলো? পর সব সময় পর-ই হয়।
ফাহাদ- কিন্তু তুই কেমনে?......
শাকিল- তুই যখন আমাকে কাল ঐ ড্রয়ার গুলো দেখতে মানা করেছিলি তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম তুই নিশ্চয় কিছু লুকোচ্ছিস। তাই সবার চক্ষু কে ফাঁকি দিয়ে আমি আবার এখানে এসেছিলাম।
আর তারপরই দেখি........
মাসুদ ভাই- আহ থাম। ফাহাদ এদিকে আয়।
ফাহাদ যেতেই তার কাধে হাত রেখে তিনি বললেন, তুই তো জানিস তুই আমার জন্যে কি?আমি শাকিল কে বিশ্বাস করিনি। তারপর তোর বাসায় যাই। গিয়ে দেখি তুই নেই।
ঘরে ঢুকে দেখি এই ডায়েরিটা। যেখানে তুই আমাদের ছেড়ে যাওয়ার কথা লিখেছিলি। আর আমাদের এতো বছরের এতো সব টপ সিক্রেট জানা মানুষটাকে তো আমি আর এমনি এমনি ছেড়ে দিতে পারিনা৷
ফাহাদ অনেক ভয় পেয়ে যায় আর মাসুদ ভাই থেকে দূরে সরে আসতে চাইলে মাসুদ ভাই তাকে আরো জোরে আকড়ে ধরে আর কাধটি শক্ত করে ধরে বললো-
দেখ যা হওয়ার হলো। মেয়েটির পোস্টমর্টেম করে আমাদের কাজ শুরু করা যাক।
তার কথা শুনে ফাহাদ চোখ জোড়া বড় বড় করে ফেললো।
মাসুস ভাই- আহা, তোর চিন্তা করতে হবে না। আজ এই কাজ শাকিল করবে।
শাকিল - জিও মাসুদ ভাই। কালকে পুরো কাজটি করতে পারিনি আজ হবে।
শাকিলের এই কথা শুনে ফাহাদের মনে কেমন এক ঝড় বয়ে গেলো।
সে এই প্রথম ভাবতে পারে তার ছলনাময়ী তাকে ডাকছে সে কান্না করছে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে কিন্তু শাকিল তাকে ছাড়ছে না।
এতোক্ষণে শাকিল ছলনাময়ীর কাছে পৌঁছে যায়। শাকিল সবার সামনেই সাদা কাপড়টি উপরে ছুড়ে মারতেই একটা গুলির শব্দ আর শাকিলের কপালে গোল ছিদ্র হয়ে যায়।
ক্লিন হেড শুট। ছলনাময়ীর শরীরটা নগ্ন হওয়ার আগেই আবার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলো ফাহাদ।
ফাহাদের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝড়তে লাগলো।
মাসুদ ভাই শাকিল বলেই চিৎকার করে পর পর তিনটি গুলি ফাহাদের বুকে করে।
ফাহাদের বুক দিয়ে লাল টগবগা রক্ত বেয়ে পড়তে থাকে ঝর্ণার মতো।
ছলনাময়ীর বুকের উপর ফাহাদ হেলে পড়লো।
খুব যন্ত্রণা হলেও ফাহাদের কেনো যেনো খুশি লাগছে।
মুখটা একটু তুলে ছলনাময়ীর দিকে তাকাতেই ফাহাদ ভেবে উঠলো, তারা এক সাথে আছে হাত ধরে হাটছে ও ঘুরছে।
ফাহাদ তার মুখটা মেয়েটির কানের কাছে নিয়ে আস্তে আস্তে বললো, আমি আসছি ছলনাময়ী আমি আসছি।
ফাহাদের শরীর ধীরেধীরে নিথর হয়ে পড়ে।
একটু পর মাসুদ রাগের বসে নিজেই ছুরি নিয়ে ফাহাদের সাথে ঠিক তেমনটা করলো যেমনটা ফাহাদকে দিয়ে অন্যদের সাথে করাতো।
ফাহাদের শেষ কাজের লাশটি ছিলো ১০১তম।
কিন্তু ১০১ তম লাশটি যে সে নিজেই হয়ে যাবে কেই বা জানতো!
.
শেষে ড্রয়ার আর খালি না থাকাতে
দু'জনরেই ঠাই হলো
#১০১_এ..........#১০১_তম
#অন্তিম পর্ব
.
Shahedul Islam Mahim
.
এখন কি মাসুদ ভাইয়ের কল রিসিভ করাটা ঠিক হবে?
কাঁপা কাঁপা হাতে কল রিসিভ করলো ফাহাদ,
- হ্যালো মাসুদ ভাই!
- কি রে তোর গলা এমন কাপছে কেনো? শরীর ঠিক আছে তো? ডাক্তার দেখিয়েছিস?
- না ভাইয়া এইতো একটু ঠান্ডা লেগেছে। সেরে যাবে জলদিই।
- আচ্ছা কোথায় এখন তুই?
- আ আ আমি তো বাসায়। কেনো?
- না এমনিই৷ তুই একদিন আসলিনা, মনে হচ্ছে কতোদিন দেখি না তোকে। তোকে না দেখলে না ধান্দাটা ঠিক যায় না মাইরি।
- কি যে বলো না ভাইয়া!
- আচ্ছা রাখ সুস্থ বোধ করলে চলে আসিস।
- ঠিক আছে।
উফফ হাফ ছেড়ে বাঁচলো ফাহাদ। এর আগে কখনো এমনটা হয়নি তার।
এখন কি করা যায় এই মেয়েটিকে নিয়ে?
তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা আসে ফাহাদের।
কিন্তু মৃত একটা দেহ ফাহাদ নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে কি করবে?
নিবেই বা কিভাবে! আর রাখবে বা কোথায়!
ফাহাদের হার্টবিট বেড়ে গেলো। এ কি ভাবছে ফাহাদ! ফাহাদ কি প্রেমে ট্রেমে পড়ে যায় নি তো মেয়েটির?
কিন্তু কোথা থেকে কি? এ হতে পারে না। ফাহাদ সেখান থেকে চলে যেতে চায়লেও যেনো পারছে না।
ফাহাদ পেছনে থাকা একটি চেয়ার নিয়ে মেয়েটির লাশের পাশে গিয়ে বসলো।
কি মায়াবী চেহারা মেয়েটার।মনে হচ্ছে যেনো কোন পরী ঘুমোচ্ছে।
মনেই হচ্ছে না এটি দু'দিন পার হতে যাওয়া একটি মৃত লাশ।
ফাহাদ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হবে না ফাহাদ।
কথা বলতে চায় সে, একটু মন খুলে। নাম কি দিবে তার? ছলনাময়ী???
হ্যাঁ এটা ঠিক আছে।
লাশটার দিকে তাকিয়ে ফাহাদ বললো-
তো তুমি জিজ্ঞেসা করবে না ছলনাময়ী কেনো?
কারণ হচ্ছে আমি তোমাকে আমার ভাবনায় পাই ঠিকই কিন্তু সবটা আমার হাতে থাকে না। আমার এমন মনে হয় আমার ভাবনা কে কেউ কন্ট্রোল করছে।
আর সে আর কেউ না তুমি-ই ছলনাময়ী।
আচ্ছা ছলনাময়ী, তুমি কি জানো এই প্রথম কাউকে দেখে আমার সমস্ত দুনিয়া আটকে গিয়েছিলো?
কাল সবে মাত্র দেখা আমাদের কিন্তু এখন এমন মনেহয়, আমি সব কিছু করতে পারবো তোমার জন্যে।
তুমি, তুমি খেয়াল করেছো সেদিন কতো মিথ্যে বললাম আমি? আজও তো......
আমি না কখনোই মাসুদ ভাই কে মিথ্যে বলিনি।
আর কখনো কাউকে নিয়ে চিন্তা করার সময় টুকুও যে আমার জীবনে ছিলো তা তুমি আসার পর লক্ষ্য করলাম। আমার ভেতরেও কারো জন্যে ভালোবাসার জন্ম হতে পারে তা তোমার দ্বারায় উপলব্ধি করলাম। আমি হারিয়ে যাই বার বার হারিয়ে যাই,
তোমার ঐ মুখের দিকে তাকিয়ে। তুমি এমন একজন, যে আমার জীবনে এসে ভালোবাসা দিলে। কিন্তু মৃত। মৃত ভালোবাসা....
জানিনা আমি এগুলো কেনো বলছি। কিন্তু আজ প্রাণ খুলে সব বলতে ইচ্ছে করছে।
এই মেয়ে শুনছো? কি যাদু করেছো বলো না ঘরে আর থাকা যে হলো না।
কথাটি বলেই অট্ট হাসিতে মেতে উঠে ফাহাদ।
আবার নিজেই হাসি থামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো, ইশ কেউ শুনে ফেললে কেলেংকারী হয়ে যাবে।
ফাহাদের মনে হতে লাগলো এই মেয়ের কোন আত্মা ফাহাদকে বস করেনি তো?
না, তা হওয়ার নয়। ভূতপ্রেত জাদুটানা এসবের কিছুতেই সে বিশ্বাসী না।
কিন্তু এখন কি করবে ফাহাদ? এভাবে আর কতোদিন!
ফাহাদ আজ প্রাণ খুলে কথা বলতে চায়লেও সে আবারো ভাবনার দেশে হারিয়ে যেতে লাগলো।
এইবার ভাবতে লাগলো ছলনাময়ী কে কীভাবে তার সাথে নেওয়া যায়।
শুধুমাত্র বাসায় না ফাহাদ যেখানে যেখানে যায় সেখানেও কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া যায়।
একটা প্রশ্ন ফাহাদকে হঠাৎ তার ভাবনার জগৎ হতে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে।
আর সেটি ছিলো কাল রাতে ফাহাদ ছলনাময়ীকে ১০১ নম্বর ড্রয়ার থেকে বের করে অন্য একটি ড্রয়ারে রেখেছিলো।
কিন্তু আবার আগের ড্রয়ারে এলো কেমনে?
- তোমাকে তো আমি ঐ যে, ঐ ড্রয়ারটিতে রেখেছিলাম তুমি এখানে এলে কেমনে?
ফাহাদের কথা গুলো শুনলে কেউ হয়তো তাকে পাগল বলতো। আর নাহয় বলতো, মেয়েটা তো আর কোন জীবিত বাচ্চা না যে তুমি তাকে বাড়ির একটা রুমে ছেড়ে এলে আর সে ঠিক নিজের রুম খুঁজে নিলো।
.......
হঠাৎ কর্কশ কন্ঠে, আমি রেখেছি তাকে ১০১ এ তে।
ফাহাদ বেশ ভয় পেলো। ভয়ে তার হাত পা কাঁপতে থাকে। শার্টের ভেতর গুজে রাখা রিভলবারটি হাতে দিয়ে শক্ত করে ধরে পেছনে ফিরে তাকাতেই সে শাকিল কে দেখতে পেলো।
হাত এখনো শার্টের ভেতর। খালি হাত বের করে নিলো ফাহাদ।
ফাহাদ- শাকিল তু তুই এখানে?
- হ্যাঁ এখানে কেনো অবাক হচ্ছিস?
শাকিল দরজা থেকে একটু বা দিকে সরে আসতেই মাসুদ ভাইকে দেখতে পেলো ফাহাদ।
তার চোখ দুটি লাল, স্পষ্ট দেখতে পারছে ফাহাদ। আর মাসুদ ভাইয়ের হাতে সেই লাল ডায়েরি।
হ্যাঁ ফাহাদ ডায়েরি লিখত৷ কিন্তু সবার অগোচরে। এই ডায়েরির কথা কেউ জানতো না।
ফাহাদ- মাসুদ ভাই??
- থাম, থাম।
তোকে আর কিছু বলতে হবে না। তুই শুধু এই ডায়েরির কয়েকটা পাতা ছিড়ে ফেল।
আমাদের ছেড়ে যাবি সেটা। এই মৃত মেয়েকে নিয়ে যা যা লিখা সব। আয় ফাহাদ আবার নতুন করে শুরু কর।
ফাহাদ চুপ করে নিচে তাকিয়ে রইলো।
শাকিল- দেখেছেন মাসুদ ভাই, আমাদের এতোদিন বড় বড় জ্ঞান দিয়ে কথা বলতো মেয়েদের লাশের সাথে কিছু করা যাবে না। আর নিজে এখানে প্রেমিক হয়ে বসে আছে। মাসুদ ভাই কালকের ডিলটা কতো গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ও তা জানা সত্ত্বেও মেয়েটির লাশ গোপন রেখেছে। আমি তোমাকে বলার পরেও আমাকে বিশ্বাস করোনি তুমি। নিজ ভাইয়ের কথা শুনলে না দেখলে এবার কি হলো? পর সব সময় পর-ই হয়।
ফাহাদ- কিন্তু তুই কেমনে?......
শাকিল- তুই যখন আমাকে কাল ঐ ড্রয়ার গুলো দেখতে মানা করেছিলি তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম তুই নিশ্চয় কিছু লুকোচ্ছিস। তাই সবার চক্ষু কে ফাঁকি দিয়ে আমি আবার এখানে এসেছিলাম।
আর তারপরই দেখি........
মাসুদ ভাই- আহ থাম। ফাহাদ এদিকে আয়।
ফাহাদ যেতেই তার কাধে হাত রেখে তিনি বললেন, তুই তো জানিস তুই আমার জন্যে কি?আমি শাকিল কে বিশ্বাস করিনি। তারপর তোর বাসায় যাই। গিয়ে দেখি তুই নেই।
ঘরে ঢুকে দেখি এই ডায়েরিটা। যেখানে তুই আমাদের ছেড়ে যাওয়ার কথা লিখেছিলি। আর আমাদের এতো বছরের এতো সব টপ সিক্রেট জানা মানুষটাকে তো আমি আর এমনি এমনি ছেড়ে দিতে পারিনা৷
ফাহাদ অনেক ভয় পেয়ে যায় আর মাসুদ ভাই থেকে দূরে সরে আসতে চাইলে মাসুদ ভাই তাকে আরো জোরে আকড়ে ধরে আর কাধটি শক্ত করে ধরে বললো-
দেখ যা হওয়ার হলো। মেয়েটির পোস্টমর্টেম করে আমাদের কাজ শুরু করা যাক।
তার কথা শুনে ফাহাদ চোখ জোড়া বড় বড় করে ফেললো।
মাসুস ভাই- আহা, তোর চিন্তা করতে হবে না। আজ এই কাজ শাকিল করবে।
শাকিল - জিও মাসুদ ভাই। কালকে পুরো কাজটি করতে পারিনি আজ হবে।
শাকিলের এই কথা শুনে ফাহাদের মনে কেমন এক ঝড় বয়ে গেলো।
সে এই প্রথম ভাবতে পারে তার ছলনাময়ী তাকে ডাকছে সে কান্না করছে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে কিন্তু শাকিল তাকে ছাড়ছে না।
এতোক্ষণে শাকিল ছলনাময়ীর কাছে পৌঁছে যায়। শাকিল সবার সামনেই সাদা কাপড়টি উপরে ছুড়ে মারতেই একটা গুলির শব্দ আর শাকিলের কপালে গোল ছিদ্র হয়ে যায়।
ক্লিন হেড শুট। ছলনাময়ীর শরীরটা নগ্ন হওয়ার আগেই আবার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলো ফাহাদ।
ফাহাদের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝড়তে লাগলো।
মাসুদ ভাই শাকিল বলেই চিৎকার করে পর পর তিনটি গুলি ফাহাদের বুকে করে।
ফাহাদের বুক দিয়ে লাল টগবগা রক্ত বেয়ে পড়তে থাকে ঝর্ণার মতো।
ছলনাময়ীর বুকের উপর ফাহাদ হেলে পড়লো।
খুব যন্ত্রণা হলেও ফাহাদের কেনো যেনো খুশি লাগছে।
মুখটা একটু তুলে ছলনাময়ীর দিকে তাকাতেই ফাহাদ ভেবে উঠলো, তারা এক সাথে আছে হাত ধরে হাটছে ও ঘুরছে।
ফাহাদ তার মুখটা মেয়েটির কানের কাছে নিয়ে আস্তে আস্তে বললো, আমি আসছি ছলনাময়ী আমি আসছি।
ফাহাদের শরীর ধীরেধীরে নিথর হয়ে পড়ে।
একটু পর মাসুদ রাগের বসে নিজেই ছুরি নিয়ে ফাহাদের সাথে ঠিক তেমনটা করলো যেমনটা ফাহাদকে দিয়ে অন্যদের সাথে করাতো।
ফাহাদের শেষ কাজের লাশটি ছিলো ১০১তম।
কিন্তু ১০১ তম লাশটি যে সে নিজেই হয়ে যাবে কেই বা জানতো!
.
শেষে ড্রয়ার আর খালি না থাকাতে
দু'জনরেই ঠাই হলো
#১০১_এ..........
সমাপ্ত

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)