Posts

Showing posts with the label রহস্যময় গল্প

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৯) [শেষ পর্ব]

Image
চার দিন কেটে গেলো । পৌষীর পান্ডুলিপি করাও শেষ । মিয়াজ শেখ জানিয়েছেন, চুক্তিপত্রও তৈরী হয়েছে । তবে চুক্তিতে সাক্ষর করা পৌষীর উদ্দেশ্য নয় । তার উদ্দেশ্য অন্যকিছু । যা আজ সফল হতে চলেছে । কথাটি ভেবেই একটা মিষ্টি হাসি দিলো পৌষী । ফাহাদ বসে ছিলো বিছানায় । ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসা পৌষীকে দেখছে সে । পৌষী আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসছে কোনো কারণ ছাড়াই । অদ্ভুত না? একপর্যায়ে ফাহাদ প্রশ্ন করেই বসলো- কি ব্যাপার? এতো খুশি খুশি লাগছে আমার বউকে? -আজ আমি চুক্তিপত্রে সাইন করবো । পান্ডুলিপি জমা দিবো । আমার স্বপ্নের এক ধাপ পার হবে । খুশি হবোনা? -অবশ্যই! কিন্তু আমাকে বললেনা আজ করবে । -বলে কি হবে? -আমিও তোমার সাথে যেতাম । -প্রয়োজন নেই । আপনি বরং অফিসেই যান । অফিস খোলা । -আজ তোমার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন । এই দিনে আমি তোমার পাশে থাকতে চাই পৌষী । তোমার সাথে আমিও যেতে চাই । . ফাহাদের সে কথার কোনো জবাব না দিয়ে পৌষী ড্রয়ার খুলে একটা সাদা শাড়ি বের করে নিলো । ফাহাদের দিকে দেখিয়ে বললো- এটা সুন্দর না? -সুন্দর তবে আজকের দিনে উজ্জ্বল রঙের শাড়ি পরতে পারো । . সাদা শাড়িটা রেখে হলুর রঙের একটা শাড়ি বের করতেই ফ...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৮)

Image
প্রথম এই বাড়িতে তিশানীর সাথে পা রেখেছিলো উষ্ণ । তিশানী তার মামা-মামীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য উষ্ণকে নিয়ে এসেছিলো । এই সোফাটায় বসেছিলো সে । তিশানীর মামা গম্ভীর একজন মানুষ । কথা কম বলতে পছন্দ করেন তিনি । যা বলে সোজা সাপ্টাই বলতে পছন্দ করেন । উষ্ণ এত মতো একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে দেখেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া ছিলোনা । বরং উষ্ণের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে তিনি বলেছিলেন- ছেলে হিসেবে দেখতে ভালো তুমি! . তার কথা শুনে উষ্ণ হেসে ফেলেছিলো । তিশানীর মামা তার গম্ভীর গলায় বলেছিলেন- তুমি দেখতে ভালো, এটা কি বলার মতো কিছু নয় বলে হাসছো? -তা নয় । খুশি হয়ে হাসলাম । -বেশ! তা তুমি তিশানীর মতো একজন সাধারণ মেয়েকে পছন্দ করেছো কেনো? তুমি উষ্ণ মাহমুদ! অসাধারণ কাউকে পেতে । -তিশা আমার কাছে সাধারণের মাঝেই অসাধারণ । ভালোবাসি কেনো তা জানিনা! তবে অনেক বেশিই ভালোবাসি । আর সারাজীবন বাসতে চাই । . উষ্ণের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেছিলেন- তোমাদের জীবন সিদ্ধান্ত তোমাদের ৷ আমি আর কি বলবো! তবে দ্রুত বিয়েটা হয়ে গেলেই উত্তম । আমরা দেশের বাইরে যাবো । এর আগেই তিশানীর দায়িত্ব তুমি নিলে ভালো হয় । . - উষ্ণ? ...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৭)

Image
কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙলো ফাহাদের । আড়মোড়া ভেঙে সে উঠে বসলো । পৌষীর ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সে । কি মায়াবীই না লাগছে ঘুমন্ত পৌষীকে । এভাবে আগে কেনো খেয়াল করেনি সে! হঠাৎ কাল রাতের ঘটনা মনে পড়ে গেলো ফাহাদের । চটজলদি বসা থেকে উঠে পড়লো সে । আজ অনেক কাজ আছে! . . ঘুম থেকে উঠে ফাহাদকে দেখলোনা পৌষী । সচারাচর তার আগে ফাহাদ ঘুম থেকে উঠেনা । আজ এতো তাড়াতাড়ি উঠার কারণ কি হতে পারে? নিশ্চয় কাল রাতের মতো ওয়াশরুমে গিয়েছে । ভাবতে ভাবতেই কিছু শব্দ পৌষীর কানে ভেসে এলো । ধীরেধীরে শোয়া থেকে উঠলো সে । ড্রয়িংরুমে আসতেই পৌষীর চোখ কপালে উঠে গেলো । ফাহাদ লাগেজ গোছাচ্ছে । পৌষী বললো- কি করছেন? -ওহ তুমি! তোমার ঘুম নষ্ট হবে বলে এখানে এসব করছি । -কিন্তু কেনো? -আমরা আজই এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো । -এতো তাড়াতাড়ি নতুন বাসা কোথায় পাবো? -কিছুদিন কোনো হোটেলে থাকবো । হোটেলে থেকেই বাসা খুঁজবো । পেয়ে গেলে অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাবো । এখন আপাতত কিছু কাপড়চোপড় নেয়া যাক । ছোটখাটো হানিমুনও হবে যাবে । কি বলো? . ফাহাদ হাসতে থাকলো । পৌষীকে চুপ চাপ দেখে সে থেমে বললো- তুমিও কাপড় গুছিয়ে নাও । -না । -না ম...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৬)

Image
পৌষীর কথা শুনে ফাহাদ বললো- বুঝলাম না পৌষী । . নিজের কাধ থেকে ফাহাদের হাতটি সরিয়ে পৌষী বললো- আপনি এখন যান । আমাকে একা থাকতে দিন । -এই শীতের রাতে অসময়ে তুমি একা থাকবে! তাও আবার ছাদে? কি হয়েছে তোমার পৌষী? . শান্ত স্বরে পৌষী উত্তর দিলো- কিছুনা । . পেছন থেকে পৌষীকে জড়িয়ে ধরলো ফাহাদ । পৌষী বিরক্তিভাব নিয়ে বললো- আমার অস্বস্থি লাগছে । ছাড়ুন আমাকে । . পৌষীর চুলের ভাজে মুখ ডুবিয়ে ফাহাদ বললো- এখনো লাগছে? . ফাহাদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে পৌষী বললো- হ্যাঁ লাগছে । . ফাহাদ ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো- তোমার কি হয়েছে পৌষী? এমন ব্যবহার কেনো করছো? আর কি জেনেছো তুমি? আমি জঘন্য মানেটা কি? -আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা এখন । প্লিজ আপনি যাবেন! -যাবোনা । তুমি কথা বলবেনা । এইতো? ওকে ফাইন বলার প্রয়োজন নেই । আমি ছাদের এক কোণায় বসে থাকবো । তবুও এতো রাতে আমি তোমাকে একা ছেড়ে যেতে পারবোনা । -যা খুশি করুন আপনি । . ফাহাদ সরে আসলো পৌষীর কাছ থেকে । এভাবে প্রায় ত্রিশ মিনিট কেটে গেলো । পৌষী নিচের দিকে নামতে থাকলে সেও পৌষীর পিছু নিলো । হঠাৎ করে মধ্যরাতে এই মেয়ের হলোটা কি! . . . উষ্ণের...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৫)

Image
উষ্ণের কথা শুনে পৌষী ঠোঁট জোড়া প্রসস্থ করে বললো- কে আমি? -মনেহচ্ছে আপন কেউ । পৌষীকে এতোটা আপন মনে হবার কথা না । -কেনো? পৌষী দেখতে খারাপ? -তা নয় । আমার মনে কেবল একজনেরই নাম আছে । যাকে আঁকড়ে ধরে জীবন পার করতে চেয়েছি । সে যদিও নেই তবুও... -কি? -কিছুনা । . আরেকটা সিগারেট ধরালো উষ্ণ । পৌষী বললো- আমাকেই মিস করছিলে তুমি, অস্বীকার করবে? . সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে উষ্ণ জবাব দিলো- হুম করছিলাম । কেননা... -কি? -তোমার মাঝে অন্য একজন কে খুঁজে পাচ্ছি আমি । -কাকে? -আছে একজন । কিন্তু তুমি কি করে জানলে আমি এখানে? -আজকের দিনে তোমাকে এখানেই পাবো । এটা জানতাম! -আজ কি? -জানোই তো । -আজ তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিলো । -কার সাথে? -জানো তুমি । . মুচকি হাসলো পৌষী । উষ্ণ বললো- এতো কিছু কিভাবে জানো তুমি? কে তুমি? . হাসতে হাসতেই পৌষী জবাব দিলো- আমি পৌষী! -তাকে চিনতে? -কাকে? -উফফ... তুমি জানো আমি কি বলতে চাইছি । -উহু! আমি জানিনা । তুমি বলো? . পৌষী চায় উষ্ণ নিজের মুখে সবটা বলুক । কিন্তু উষ্ণ বলছেনা । বরং পৌষীর পাশ থেকে আরো দূরে সরে এসে সিগারেট টানছে । উষ্ণ জানেনা পৌষী কতোটুক জা...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৪)

Image
সারাদিন বাইরে ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাসায় এলো ফাহাদ ও পৌষী । বাসায় আসতেই ফাহাদের ফোন বেজে উঠলো । পৌষীর বাবার ফোন দেখে তাকে ধরিয়ে দিয়ে বললো ফাহাদ- কথা বলো তোমার বাবার সাথে । . পৌষী ফোন রিসিভ করে বললো- আসসালামুআলাইকুম বাবা । -ওয়া আলাইকুমুস সালাম । শুভ জন্মদিন । -তোমার মনে আছে! -এখন ক্যালেন্ডারে চোখ পড়তেই মনে পড়লো । ইশ দেরী হয়ে গেলো । -সমস্যা নেই । -হ্যাঁরে মা! জামাই জানে তো তোর জন্মদিনের কথা? -হ্যাঁ জানে । আজ আমরা সারাদিন ঘুরেছি । এই মাত্র বাসায় এলাম । বাইরে খেয়েছি দুপুরের খাবার । আর জানো? তোমাদের জামাই আমার জন্য কেকও কেটেছে । . সোফায় বসে পৌষীর কথা শুনছে ফাহাদ । আজ অনেকটায় খুশি সে । এতোটা খুশি হবার মতো কিছু করেছে কি ফাহাদ? আসলেই মেয়েটি সরল মনের । অল্পতেই খুশি হয়! . বাবার সাথে ফোনে কথা শেষ করতেই কলিং বেলের শব্দ শুনতে পেলো পৌষী ও ফাহাদ । ফাহাদ বসে ছিলো বিধায় পৌষী বললো- আপনি বসুন , আমি দেখছি। . দূরবিনের দিকে তাকিয়ে পৌষী দেখলো কেউ নেই । ফাহাদের উদ্দেশ্যে বললো- কাউকে দেখছি না! -তবে খোলার প্রয়োজন নেই । . পৌষী এগিয়ে আসতে চায়লে আবারো কলিংবেলের শব্দ শুনতে পেলো তারা । ...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৩)

Image
সকাল ঘুম ভাঙতেই পৌষী ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল সেরে নিলো । ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ফুল হাতে ফাহাদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো সে । পৌষী বললো- কি উপলক্ষে? . পৌষীকে নিজের কাছে টেনে এনে ফাহাদ বললো- প্রিয়জনকে উপহার দিতে কোনো উপলক্ষের প্রয়োজন হয়? . ফাহাদের হাত থেকে ফুলগুলো নিলো পৌষী । ফুলগুলো ড্রেসিংটেবিলের উপরে রেখে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছে চলেছে পৌষী । ফাহাদ এসে তার হাত থেকে তোয়ালেটা নিয়ে বললো- দাও, আমি মুছে দিই । -আজ এতো সকালে ঘুম থেকে উঠলেন কেনো? . পৌষীর চুল মুছতে মুছতে জবাব দিলো সে- তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে । -সারপ্রাইজ কেনো? -আজ তোমার জন্মদিন । শুভ জন্মদিন পৌষী । . ফাহাদের কথা শুনে চমকালো পৌষী । আসলেই তার মনে ছিলোনা । আজ তার জন্মদিন! . ফাহাদের দিকে তাকিয়ে সে বললো- আসলেই তো! আমার নিজেরি মনে ছিলোনা । . পৌষীর কপালে চুমু এঁকে ফাহাদ বললো- আমার মনে থাকলেই হলো । এবার বলো কি চায় তোমার? . পরক্ষণেই মুখটা ফ্যাকাশে করে পৌষী বললো- আমি যা চাই তা আজ সম্ভব না হয়তো । . তোয়ালেটা একপাশে রেখে ফাহাদ বললো- আমি জানি তুমি কি চাও । -তাই! বলুন শুনি? -সময় । প্রিয়জনের দেয়া সেরা উপহার হলো সম...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১২)

Image
আরো দুদিন পার হলো । ফাহাদের অফিসের ছুটিও শেষের দিকে । কাল থেকে অফিস যেতে হবে । পৌষী মনোযোগ সহকারে টিভিতে সিনেমা দেখছিলো । ফাহাদ তার পাশে বসে বললো- পৌষী তুমি কবিতা কেনো লিখছো না? . টিভির ভলিউম কমিয়ে পৌষী বললো- সেদিন না লিখলাম! আমার কবিতা? এতোই ভালো লেগেছে যে আরো চায়? -উহু মজা করোনা পৌষী! তোমার পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে । . ভ্রু কুচকে পৌষী বললো- পান্ডুলিপি কি? -ঘি । যাও লেখা শুরু করো । পরে আমাকেই দোষারোপ করবে । -আপনি এসব কি বলছেন আমি কিছুই বুঝছিনা । -না বোঝার কি আছে পৌষী! মিয়াজ শেখকে পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে তোমার । আর তুমি কিনা অবহেলা করছো! -মিয়াজ শেখ কে? -অনেক হয়েছে মজা । থামো তো । . আচমকা কর্কশ কন্ঠে পৌষী বলে উঠলো- তখন থেকে কি শুরু করেছেন! কিসের পান্ডুলিপি আর কেইবা মিয়াজ শেখ! আমি কিছু বুঝছিনা । আমি কোনো কবিতা লিখতে পারবোনা । আর কি করেই বা লিখবো! এসব আমি পারি নাকি? . হনহনিয়ে পৌষী নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো । ফাহাদ তার কথার কোনো মানেই বুঝতে পারলোনা । এই মেয়ে পান্ডুলিপি কি এটাই নাকি জানেনা । বলছে টা কি! তার পিছুপিছু ফাহাদও রুমে এলো । পৌষী বিছানার উপরে বসে ফুপিয়ে কা...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১১)

Image
সকালে ঘুম ভাঙতেই নিজের বুকের মাঝে পৌষীকে আবিষ্কার করলো ফাহাদ । মেয়েটি আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে ফাহাদকে । ফাহাদ তার কপালে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো । খুব সাবধানে পৌষীর কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলো সে । গোসলটা সেরে নেওয়া প্রয়োজন । ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখলো পৌষী এখনো ঘুমিয়ে আছে । তাকে ডাকলো না ফাহাদ । এই শীতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক চাপ চা না খেলে চলেনা । রান্নাঘরে এসে চা বানাতে থাকলো ফাহাদ । হঠাৎ নিজের মনেই হেসে ফেললো সে । আজ চা টা বানানো নেই । প্রতিদিনের মতো চা টাও বানানো থাকলে মন্দ হতোনা । . . বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছে ফাহাদ । গ্রিলের ফাঁকে রোদ এসে গায়ে পড়ছে তার । মূলত এই রোদের জন্যই বারান্দায় বসা । পৌষী এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো তাকে । ফাহাদ হেসে বললো- ঘুম ভেঙেছে মহারানীর? -হু । -গোসল করে এসেছো তাইনা? -কি করে বুঝলেন? -তোমার ভেজা চুল আমার শরীর স্পর্শ করছে । -ঠান্ডা লাগছে? -উহু । . ফাহাদের কানে আলতো করে কামড় বসিয়ে পৌষী বললো- ব্যাথা লাগছে? -নাহ । . ফাহাদকে ছেড়ে চেয়ার টেনে তার সামনে বসে পৌষী বললো- তো কি লাগছে? . পৌষীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফাহাদ বললো- নে...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ১০)

Image
পৌষীর হাতে ব্যান্ডেজ বিধায় ফাহাদ তাকে খাইয়ে দিচ্ছে । এক চামচ স্যুপ শেষ করে পৌষী বললো- আপনি এতো ভালো রান্না জানেন, আমি জানতাম না! . ফাহাদ বিড়বিড়িয়ে বললো- আমিও জানতাম না । -কিছু বললেন? -নাহ । এই একটু চেষ্টা করলাম আর কি । -সত্যি অনেক ভালো হয়েছে! -হুম । আচ্ছা শুনো, ভাবছি তোমার বাসায় খবর দিবো । আমি অফিসে চলে গেলে তোমার দেখাশোনা কে করবে! তাই তোমার বাসায়... -ছুটি নিয়ে নিন । -মানে? . মাথাটা নিচু করে পৌষী বললো- কিছুনা । . কেননা সে জানে, এমন আবদার সে ফাহাদকে করতে পারেনা । সেই অধিকার তার নেই । ফাহাদ তার আবদার রাখবেনা । স্যুপ বানিয়ে আনা আর অফিসের ছুটি নিয়ে বাসায় বসে সেবা-যত্ন করার মাঝে অনেকখানিই তফাৎ রয়েছে । ফাহাদ বললো- আমি নার্সকে বলে রেখেছি । কোনো অসুবিধে হলে বলিও তাকে । আমার অফিসে যেতে হবে । তাড়াতাড়িই চলে আসবো । -হু । . স্যুপের ব্যাপারে পৌষীকে কিছু জানালো না ফাহাদ । শুনলে হয়তো বিশ্বাসই করবেনা! . . পরেরদিন দুপুরের দিকে পৌষীকে নিয়ে বাসায় এলো ফাহাদ । দরজার সামনে আসতেই চমকে গেলো পৌষী । দরজার উপরে রঙিন কাগজ লাগানো । তার উপরে লেখা- স্বাগতম পৌষী! . পৌষীর চেয়েও বেশি অবাক...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৭)

Image
পৌষীকে নিয়ে মাথা থেকে চিন্তা ফেলে ফেবুতে প্রবেশ করলো উষ্ণ । ডানা কাটা পরীর আইডিতে একটি কবিতা আপলোড হয়েছে---- ক্লান্ত যখন মন তোমার কাঁধে মাথা, মন চাইছে চাঁদ দেখবো, নেই তো কোনো বাঁধা। তবুও মনকে প্রশ্ন করি কোথায় আমার তুমি। সত্যি বলতে তোমার খোঁজ, পাইনি এখনও আমি। . কবিতাটি পড়ে উষ্ণ ইনবক্স করলো আইডিতে - কি খবর পরী ম্যাডামের? - উষ্ণ মাহমুদ কাউকে নিজ থেকে মেসেজ করে! জানা ছিলোনা । -আপনি আমাকে কতোটুকুই বা চিনেন? -যতোটা চিনলে একজন মানুষের সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায় । . মেসেজটি পেয়ে চমকে উঠলো উষ্ণ । আজ এই কথাটি তাকে পৌষীও বলেছে । পৌষীর চিন্তা মাথা থেকে ফেলার জন্যই পরীর সাথে চ্যাটে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেয়েছে । কিন্তু পরীর আচরণেই পৌষীর কথা আবারো মনে পড়লো তার । উষ্ণের কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে পৌষী লিখলো- আজ মিয়াজ সাহেবের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোমাকে কালো জ্যাকেট-টায় অনেক মানিয়েছে । . আবারো যেনো ধাক্কা খেলো উষ্ণ । এই মেয়ে কিভাবে জানলো? সে আজ কালো জ্যাকেট পরে মিয়াজ শেখের বাড়িতে গিয়েছে । উষ্ণ লিখলো- কে আপনি? -তোমার খুব চেনা কেউ । -ভণিতা না করে বললেই পারেন! -ভণিতা করতেই ভাল...

মুখোশের আড়ালে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৬)

Image
পৌষীর দিকে চোখ পড়তেই থেমে গেলো উষ্ণ । লাল শাড়ি পরিহিতা এমন কোনো রূপবতীকে দেখলে, যেকোনো পুরুষেরই থমকে যাবার কথা । উষ্ণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হলোনা । পৌষীও অপলকভাবে তাকিয়ে আছে উষ্ণের দিকে । এভাবে ঠিক কতোক্ষণ সময় কেটে গিয়েছে তারা জানেনা! হঠাৎ মিয়াজ শেখ উপস্থিত হয়ে উষ্ণের উদ্দেশ্যে বললেন- হেই উষ্ণ! তুমি আমার কথায় ঢাকা থেকে চলে আসবে ভাবতে পারিনি আমি । . মিয়াজ শেখের কথা শুনে ঘোর কাটলো উষ্ণ এর । মুচকি হেসে সে বললো- ঢাকাতে থাকলেও এখানেই আমার বাসা! আর আপনি আমার প্রিয় ব্যক্তিদের মাঝে একজন । সো আপনার জন্মদিনে আসতেই হতো আমাকে । সে আপনি ইনভাইট না করলেও আমি ছুটে আসতাম । -এই জন্যই তো আমি মাঝেমধ্যে আমেনাকে বলি, উষ্ণও আমার ছেলে হলে ভালো হতো! . পেছন থেকে মিয়াজ শেখের ছেলে মুহিত বলে উঠলো- আমার ভাই কাকে বানানো হচ্ছে শুনি? . মুহিতকে দেখে মিয়াজ শেখ বলে উঠলেন- নাম ধরতেই হাজির হয়ে গেলো আমার একমাত্র ছেলে! . মিয়াজ শেখকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানালো মুহিত । মিয়াজ শেখ বললেন- তোর আম্মার কাছে চল । তোকে দেখার জন্য ব্যকুল হয়ে আছে । -আচ্ছা । . উষ্ণকে বসতে বলে তারা ভেতরের দিকে এগিয়ে গেলেন । উষ্ণ...