Posts

Showing posts with the label ছোট গল্প

ভালবাসি ভালবাসি - আসাদুজ্জামান রাজ

Image
ভালবাসি ভালবাসি __"আসাদুজ্জামান রাজ" . আবির অফিস থেকে আসতেই নেহা বিরক্তকর অভিযোগ বলতে শুরু করে দিয়েছে . কেন তুমি আমাকে বিয়ে করেছ.?(নেহা) -এইটা আবার কেমন কথা? আর মানুষ বিয়ে কি জন্য করে?(আবির) -বাংলা কথা বুঝ না. আমি যে তোমার স্ত্রী তার কোন মূল্য আছে তোমার কাছে? আর আমার কি করতে ভাল লাগে কোথায় যেতে ভাল লাগে.? কি পরতে' কি খেতে ভাল লাগে এসব তুমি জান? জানার চেষ্টা ও করেছ কখনো ?(নেহা অনেকটা রাগি কন্ঠে বলল) -দেখ নেহা আমি অনেক ক্লান্ত সারাদিন অফিস করে এসে তোমার সাথে ঝগড়া করার মুড নেই । প্লিজ চুপ করে যাও(আবির) -কেন চুপ করব ? আর তুমি এটাও মনে রেখো শুধু একসাথে বাস করলে সংসার হয় না। আরো কিছু লাগে! .. .. নেহা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে শুরু করল ! দেখ আবির অনেক হয়েছে আমি আর এভাবে তোমার সাথে থাকতে পারব না । আমি কালই মায়ের বাসায় চলে যাব । . এসব কথা আবির সয্য করতে না পেরে! আবির নিজেই কিছু না বলেই রুম থেকে বের হয়ে গেল! খাটের কোনে বসে কাঁদছে নেহা।তাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় বছর খানেক আগে ,পারিবারিক ভাবেই।প্রথম দিকে ভালই চলছিল তাদের সংসার ।আবির একটু চা...

বাবার কমড়ে ব্যাথা - আসাদুজ্জামান রাজ

বাবার কমড়ে ব্যাথা __"আসাদুজ্জামান রাজ" বাবার তখন কোমড়ে ব্যাথা। কাজ করতে গিয়ে নাকি হালকা ব্যথা পেয়েছে। মিথ্যে গুলো কত সহজেই বলে দেয়। অদ্ভুত লাগে ভীষণ! কাজ করেনা কিছুদিন হলো, কাজ করতে গেলেই নাকি ব্যাথা বেশি হয়। তাই কিছুদিন রেস্ট নিচ্ছে। মাসের শেষ হয়ে ৭ তারিখ, তখনো স্কুলের গতমাসের বেতন দেওয়া হয়নি। বাবার কাছে টাকা চাব সেই সাহসও হয়নি। রোজ স্যারদের কটু কথাও ভালো লাগেনা। সবার যেখানে ১ তারিখেই টাকা পেইড সেখানে আমি এখনও দেইনি। সেদিনতো কবির স্যার বলেই দিলো.... . --কিরে তুই এখনও বেতন দিলিনা যে। মাত্রতো ৬০০ টাকা। . -স্যার আব্বা অসুস্থ, ক'দিন পর দিব। . --৩ দিন থেকেই তো বলছিস ক'দিন পরে দিবি। নাকি টাকা নিয়া নেশা করছস?   . স্যারের কথার জবাব দেওয়ার সাহস হয়নি। সবাই যেখানে হাসাহাসি করছিলো সেখানে আমি মাথা নিচু করেছিলাম, অপমানে হয়তো লজ্জায়। তবে মনে হয়েছিলো কেউ একজন আমায় দেখছে তার মায়াময় ঐ চোখ দিয়ে। তার বুকে কিঞ্চিত ধুকপুক শব্দ করছে, সেটা কেন হয় তা আমি জানিনা। শুধু জানি সে আমার কষ্ট গুলোর ভাগ চায়, চায় একটু আড়ালের বেড়াজালটা ভেদ করতে। আমার সাহসে কুলোয়না, মাথা উঠাইনা, নিচু করেই রাখি। দীর্...

পুরান ঢাকার টিউশনি- আশাদুজ্জামান রাজ [ছোট গল্প]

Image
পুরান ঢাকার টিউশনি __"আশাদুজ্জামান রাজ" . পুরাণ ঢাকা থেইকা ছাত্রীর মা ফোন দিয়া কইলো: - মাস্টর ? - জি আন্টি - এই আমি ছেপ ফেললাম। হুগানের আগে আমার বাছায় আইবা। - কি আশ্চর্য। কোন এক বৃষ্টির দিনে একজন ফোন দিয়া কইছিলো তোর জন্য একটা ভালো টিউশনি পাইছি। আমি গেলাম। দেখলাম। পড়াইলাম। এভাবেই চলছিলো। আজ হঠাৎ জরুরি তলফ ক্যান। বুঝতেছি না। আমি বের হইলাম। উবারে কইরা রওনা দিলাম। ছেপ হুগাইয়া গেলে বিপদ। পৌছায়া কলিং বেল চাপলাম। খট কইরা দরজা খুললো। মনে হইলো দরজায় দাঁড়ায়া ছিলো। - স্লামালাইকুম আন্টি। ছেপ শুকিয়ে গেছে ? - চুপ রাহো। পুরাণ ঢাকার মানুষ কথার ফাঁকে ফাঁকে হিন্দি বলে। আমার ছাত্রীও বলে। ঐদিন বলতেছিলো - স্যার আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে? - কেন ? - আরে ইয়ার ! বাতাও না ! - কিহ্! - সরি। বলেন না। - নাই। - থ্যাংক গড। ছাত্রীর বডি ল্যাংগুয়েজ সেদিন থেকে বদলে গেল। ঠোঁটে লিপিস্টিকের কালার চেঞ্জ হইতে থাকলো। জামা কাপড় দিন দিন ট্রান্সপারেন্ট হইতে থাকলো। লক্ষন খারাপে দিকে দেখে কয়েকবার ভাবছিলাম টিউশনি ছাইড়া দিমু। কিন্তু পুরাণ ঢাকার বিরিয়ানির নেশা একবার যার হয়, তার ভুড়ি হয়ই হ...

আমি নায়ক জসিম - আসাদুজ্জামান রাজ [ঠোট গল্প]

Image
আমি নায়ক জসিম __"আসাদুজ্জামান রাজ" . ভোর রাতে স্বপ্নে দেখলাম আমি নায়ক জসিম হয়ে গিয়েছি। ঠেলাগাড়ি ঠেলছি। আদ্রিতা ঠেলাগাড়িতে বসে হাত তালি দিচ্ছে। মুখে বলছে, ‘ওস্তাদ, বামে প্লাস্টিক...’ কি বিচ্ছিরি স্বপ্ন! এমন স্বপ্নও বুঝি কোনো প্রেমিক দেখে। পরমুহূর্তেই স্বপ্ন পাল্টে গেল। দেখি, লটারি লেগেছে একটা। প্রথম ডিজিটগুলো মিলে যাচ্ছে। আমার বুক ধড়পড় করতে লাগলো। গা ছেড়ে ঘাম দিলো। শেষের দুই ডিজিট মেলানোর পরই তীব্র উত্তেজনায় ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্রচণ্ড বিতৃষ্ণায় মন তেঁতে উঠেছে ততক্ষণে। বারান্দায় এসে সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছিলো খুব। চুপিচুপি আব্বার রুমের আলমিরার ডান সাইডে লুকোনো বিশেষ ড্রয়ার থেকে আব্বার লুকানো বেনসনের প্যাকেট নিয়ে আসলাম। সিগারেট ধরিয়ে মনে মনে এপিজে আবদুল কালামের কালজয়ী লাইনগুলি ভাবলাম, স্বপ্ন ওটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন ওটাই যেটা তোমায় ঘুমাতে দেয়না। আমি ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। আদ্রিতার গলার স্বর লেগে আছে কানে এখনো, লটারির শেষ তিন ডিজিট চোখে ভেসে উঠলো বারবার। ঘুম হলোনা। সকালে আব্বাকে বললাম, ‘আব্বা, টাকা দাও। লটারির টিকেট কিনবো।’ আব্বা সকালবেলায় হাসিমুখে...

দুষ্ট জামাই এবং দুষ্ট বউ - আসাদুজ্জামান রাজ [ছোট গল্প]

Image
দুষ্ট জামাই এবং দুষ্ট বউ __"আসাদুজ্জামান রাজ" জামাইয়ের সাথে ঝগড়া করে একটা ফেসবুক আইডি খুললাম। নাম দিলাম এন্জেলিনা সাদিয়া। সুন্দর দেখতে একটা মেয়ের পিকও লাগিয়ে দিলাম। .শুনেছি ফেসবুকে নাকি মানুষ প্রেম করে।শুধু প্রেম নয় বিয়েও নাকি অনেকে করেছে।আমিও ঠিক করেছি,ফেসবুকে প্রেম করে পালিয়ে যাব।আর থাকব না এই সংসারে।কথায় কথায় বলে আমার দ্বারা নাকি কিছু হবে না।এবার আমি দেখিয়ে দিব,আমি ও পারি। .আইডি খুলতেই সুন্দর সুন্দর দেখতে একটা নয় ছয় সাতটা ছেলের রিকুয়েস্ট দেখেই খুশিতে বেডের উপর থেকে নিচে পড়ে গেলাম।আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকায়ছে।না হলে এত সুন্দর দেখতে ছেলেরা আমাকে রিকুয়েস্ট দেয়।আমাকে ঠেকায় কে।শুরু করে দিলাম প্রেম। -হ্যালো। -হ্যায় -তুমি না অনেক কিউট। -কি যে বলো,তুমিতো আমার থেকে সুন্দর। -আচ্ছা তুমি কি ম্যারিড? -তুমি টেনশন করো না থাকলেও ডিভর্স দিয়ে দিব। -হাও কিউট। .সারা-রাত জামাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে চ্যাটিং করলাম।সেও দেখলাম ফোন নিয়ে ব্যস্ত।তাতে আমার কি আমি এখন প্রেম করাই ব্যস্ত। .এভাবে তিন-চার দিন গেল।প্রেমতো জমে ক্ষীর।আমিও মহা আনন্দে আছি।আমি কি পারি সে এবার দ...

সত্যি কথা - সোহাগ [ঠোট গল্প]

Image
এই যে শুনুন। -জ্বি বলুন,কি বলবেন? -আমি আপনাকে ভালবাসি -ও তাই,কিন্তু এটা সম্ভব না। -ও একটা মেয়ে আগ বাড়িয়ে প্রপোজ করেছে বলে ভাব দেখাচ্ছেন। -না,ভাব দেখাব কেন? -তাহলে কি সমস্যা? -সমস্যা অনেক তার জন্য আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দিতে হবে। -ঠিক আছে দিলাম,এবার বলুন। -তাহলে শুনুন।ধরুন আমি আপনার প্রপোজাল গ্রহণ করলাম।তারপর আমরা দুই জন দুজনার নাম্বার আদান প্রদান করব।তুমি বাসায় গিয়ে আমার নাম্বারে মিস কল দিবে।আমি এ পর্যন্ত কোন জিএফ কে তার বিএফ কে কল দেওয়া দেখিনি।তোমার মিসকল পেয়ে আমি কলব্যাক করব।তারপর আমাদের প্রেমালাপ ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এভাবে চলতে থাকব।এদিকে তোমার সাথে কথা বলতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে ফেলব।আর ডাক্তারেরা বলেছেন অতিরিক্ত মোবাইলে কথা বললে ব্রেইন ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা আছে। তোমার সাথে প্রেম করতে গেলে সপ্তাহে একদিন হলেও পার্কে বা রেস্টুরেন্ট এ দেখা করতে হবে। এখানেও আমাকে একজন যোগ্য প্রেমিক হিসেবে বিল পে করতে হবে।যখন আমি এরকম রেস্টুরেন্টে ঘোরাঘুরি আর কথা বলে আমাদের প্রেম চালাতে থাকব।তখনেই কোন বন্ধু এসে বলবে "কিরে ব্যাটা কি ...

নিঝুম আর আমি - অজানা লেখক [ছোট গল্প]

Image
নিঝুমের দেওয়া ছ্যাঁকার লোড সহ্য করতে না পেরে আজ তিনমাস যাবত চোখে পেঁয়াজ দিয়ে কান্না করি। মাঝরাতে বিচ্ছেদ গান শুনে উড়াধুরা নাচি। ফেসবুকে মানুষের পোস্টে প্রচুর হাহা দেই। যার ফলে এখন নিজেকে একটু হালকা লাগছে। . অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না। তাই ভাবলাম কোথাও যাওয়া দরকার। আর তার জন্য টাকা দরকার। একপা দু'পা করে রান্না ঘরে আম্মার কাছে গেলাম। আম্মা রান্না করতেছে। নিজেকে প্রস্তুত করে ভাদাইম্মা স্টাইলে দাঁড়িয়ে ভেংচি মেরে বললাম.... . --ও আম্মাআআগোওওওও.... . আমার আচমকা এমন ডাক শুনে আম্মাজান থতমত খেয়ে ঘুরান্টি দিয়ে পিছনে তাকালেন। মুখটা বাকিয়ে বললেন.... . -ও রাজউউউ গো...বলোগোওওওও... . বুঝলাম আম্মা আমার ডাকের প্রতিশোধ নিচ্ছে। তাই বললাম.... . --সরি আম্মা। . -কিউ আব্বাজান? . --মশকরা করো আমার লগে? . -মোটেও না, আমি রান্না করছি . --তাহলে এভাবে বলছো কেনো? . -ভাল্লাগে, খুশির ঠেলায়, ঘোরতে তরে খেপাইতে। . --মানে? . -কুচ নেহিহে বেটা। . --দেখো আমার সাথে ইয়ার্কি করবা না, এমনিতেই ছ্যাঁকা খেয়ে প্রসুর ডিপ্রেশনে আছি। . -কি বললি? . --নিঝুম ছ্যাঁকা দিছে। . -নিঝুম কে? . --ত...

কথোপ কথন - নুসরাত খান অনি [ছোট গল্প]

Image
বাজারে যাচ্ছেন? - হুম। - নিন,ধরুন। - কি এটা? - বাজারের লিস্ট। - আপনার বাসার বাজার আমি কেন করতে যাবো? - কারণ আমি আপনার প্রতিবেশী তাই। তাছাড়া আব্বু কিছুদিনের জন্য ঢাকার বাইরে গেছেন। - তো? - তো মানে? প্রতিবেশীর দেখাশোনা করা আপনার দায়িত্ব না? - প্রতিবেশী যদি প্রতিবেশীর জায়গায় থাকে তাহলেই দায়িত্বের কথা আসে। কিন্তু আমার প্রতিবেশী তো প্রতিবেশী না,যেন গলার ফাঁসি! - দেখুন,এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। - ওহ্,বাড়াবাড়ি বলে যে কিছু আছে,আপনি এটা বুঝেন তাহলে? - আপনি সবসময় আমার সাথে এভাবে কথা বলেন কেন? - আপনার সাথে আপনার মত করে কথা বলতে হলে আমাকে জেন্ডার চেঞ্জ করতে হবে। করবো? - অনেক হয়েছে। লিস্টটা ধরুন আর তাড়াতাড়ি বাজার করে নিয়ে আসুন। - পারবো না। - ঠিক আছে,আমিও তাহলে আর পেটের ভেতর কথা চেপে রাখতে পারবো না। - মানে? - মানে খুব সোজা। অফিস থেকে এসে বাসায় না গিয়ে,ছাদে বসে বসে যে একটার পর একটা সিগারেট টানা হয়,এই খবরটা এখন আমার পেট থেকে আন্টির কানে পৌঁছে দেয়ার সময় এসেছে। এভাবে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। - বাজারের লিস্টটা দিন। - নিন। - আচ্ছা আমি থাকি দোতলায় আর আপনি থাকেন চ...

ইউটার্ন - এলমুন নূর খান [ছোট গল্প]

Image
ইউটার্ন __"এলমুন নূর খান" ছাত্রের বড়বোন আমার দিকে আড়চোখে তাকায়,বেশ কদিন ধরেই বিষয়টা লক্ষ করছি। সপ্তাহে তিনদিন উত্তরা যাই ক্লাস এইটের এক ছাত্রকে পড়াতে।নাম আলভী।বাবা সুপ্রিম কোর্টের উকিল,মা গভর্নমেন্ট কলেজের প্রিন্সিপ্যাল।বোন একজন আছে,ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।হাইফাই পাঁচতলা বাসা,এসি করা প্রতিটা রুম।রংবেরঙের লাইট,শো-পিচ আর পুতুল দিয়ে রুমগুলো সাজানো। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এই টিউশনিটা পেয়েছিলাম কয়েকমাস আগেই।বড়লোক ঘর,বেতন যা দেয় তা আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।শুনেছি আলভীর ছোট আরেকটা ভাইও আছে।যদি আলভীর পরে তাকেও পড়াতে পারি,তাহলে আমার দু/একটা টিউশনি ছেড়ে দিয়ে কেবল এখানে পড়ালেও মন্দ হবেনা।তাই প্রথম থেকেই আলভীকে মনোযোগ দিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করি,ওয়েল-ড্রেসআপ ম্যান্টেন করে আসাযাওয়া করি।কিন্তু না চাইতেই ব্যাপারটা যে এভাবে ঘুরে যাবে ভাবিনি। আলভীর বড়বোন ত্রয়ী,আমার দিকে কদিন ধরেই কেমনকরে যেন তাকাচ্ছে।ঘাবড়ে যাচ্ছি মাঝেমাঝে।আগে প্রতিদিনই পড়ানোর শেষদিকে আলভীর আম্মা আমাকে নাস্তা দিয়ে যেতেন,ছাত্রের ভালোমন্দ খবর নিতেন।ইদানীং এই কাজটা তার বড়বোন করছে। সেদিন দেখি নাস্তা নিয়ে এস...

বউ আর আমি

Image
রাতে বউয়ের সাথে তুমুল ঝগরা করেছি !! ওকে... বলেছি... "তুমি যদি মানুষের বাচ্চা হও তাহলে আমার সাথে কথা বলবে না" ব্যাস, কাজ হয়েছে, আর কথা বলে না। খালি রাগে ফোলে। সারারাত নাক টেনে কান্না করছে... না নিজে ঘুমাচ্ছে না আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে। সকালে খেতে বসে দেখি আজব কান্ড, আমার খাওয়ার পাশে খাতা কলম রাখা। বললাম এগুলা কি..? বউ তার খাতায় কি জানি লেখলো। তারপর আমাকে দেখালো, আমি পড়লাম। লেখা আছে..."আমি মানুষের বাচ্চা, তাই কোনোও কথা নাই" আজব কাহিনি।  যাই হোক...... সে নিজে আমাকে মাংস দিলো ৩ পিস। আমি খাতায় লিখলাম, "২ পিস দাও" খাওয়ার মাঝে লিখলাম,"পানি দাও"। রাতে ঘুমানোর আগে আমি শুয়ে আছি। সে গুন গুন করে গান গাইছে আর চুল আঁচড়াচ্ছে। কি চমৎকার দৃশ্য আমি খাতায় খস খস করে লিখলাম "প্রিয় জানু, আগামিকাল সকাল ৮ টায় আমার অফিসে একটা জরুরী মিটিং আছে। প্লিজ সকাল ৭ টায় ডেকে দিও। চিঠি টা বউয়ের হাতে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি ৯টা ৩৫। চিৎকার দিয়ে উঠে বসছি। এইটা কি......? পাশ ফিরে দেখি বউ নাই। বউয়ের জায়গায় একটা চিঠি। তারাত...

আমি ভাগ্যবান তুমি ভাগ্যবতী - সাজি আফরোজ

Image
কয়েকটা বাড়ি আছে মানে? আমি কি বাড়ি নিয়ে ছবি তুলবো! জামাই এর সাথে সেলফি তুলে আপলোড করতে না পারলে কি হয়! . মেহেরীন এর কথা শুনে তার মা মনোয়ারা খাতুন ভ্রু জোড়া কুচকে বললেন- সেলফি কেনো তুলতে পারবিনা? -যে ছেলের ছবি দেখিয়েছো, তার সাথে কি সেলফি তুলে আপলোড দেয়া সম্ভব? সবাই হাহা রিয়েক্ট দিবে তার টাকলা মাথা দেখলে। আর গায়ের রঙ টাও ঠিক নেই। -ছিঃ মেহেরীন! এসব কি বলছিস? এই শিক্ষা দিয়েছি তোকে আমরা! আর আবীর তো টাকলা না, চুল একটু কম আরকি। তাছাড়া ছেলেদের গায়ের রঙ বেশি ফর্সা হলেও ভালো লাগেনা। -বডি? -বডিও হ্যাংলা পাতলা মানায় না। কেমন লেডিস লেডিস লাগে। . চেয়ার ছেড়ে উঠে মেহেরীন বললো- খুব ভালো লেগেছে আবীর কে তোমার? -হ্যাঁ অনেক। . নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে মেহেরীন বললো- তাহলে আরেকটা মেয়ে জন্ম দিয়ে তার সাথে বিয়ে দিও। . . নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে মেহেরীন। বাইরে থেকে তার মায়ের চেঁচামেচির শব্দ কানে বাজছে তার। -সৌন্দর্য্য বড় কথা নয়, ছেলেটা কেমন সেটাই হলো বড় কথা। সুন্দর ছেলে বিয়ে করলি, সে অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি মারবে এসব ভালো লাগবে তাইনা? . কানে হেডফোন গুজে দিলো মেহেরীন। ফুল ভলিউম...

ঘূর্ণিঝড় - সাজি আফরোজ

Image
বাড়ির সবাই সাইক্লোন সেন্টারের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কামাল যায়নি। সে যে তার দাদার ভক্ত! এই বাড়ি ছেড়ে তার দাদা নড়বেন না। কিন্তু বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। টিনের চাল ভেদ করে বাড়ির ভেতরেও বৃষ্টি পড়ছে। চারদিকে পানিতে ভরে যাচ্ছে। খুব শখ করে বাড়িটা বানিয়েছিলেন রশিদ আহম্মেদ। যতোই তুফান হোক, এই ঘর ছেড়ে তিনি যেতে পারেন না। বাড়ির ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদে চলেছেন রশিদ আহম্মেদ। তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে কামাল। বিদ্যুৎ চমকানো দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলো কামাল। শরীর গঠন বড় হয়ে গেলেও বয়স তার বেশি নয়। সবেমাত্র ১০বছরে পা দিয়েছে সে। দাদার উদ্দেশ্যে কামাল বললো- দাদাগো? এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন? -হ্যাঁ। যে বাড়িতে কেউ থাকেনা সেই বাড়ি খুব সহজেই ধ্বংস হয়ে যায়। -আপনি দাঁড়িয়ে থাকলে বুঝি বাড়িটা ঠিক থাকবে? -হয়তো। . পেছনে ফিরে নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে রশিদ আহম্মেদ বললেন- কামাল তুইনা ভালো সাঁতার জানিস? -হ্যাঁ। -তবে চলে যা সাইক্লোন সেন্টার বা নিরাপদ কোনো জায়গায়। -না আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারিনা দাদাজান। -জেদ করিস না কামাল! চলে যা। -আপনি যেখানে থাকবেন আমি সেখানেই থাকবো। . নাতির কথা শুনে বেশ...

হতাশা - সাজি আফরোজ

Image
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তমালিকা। নিজেকে দেখছে সে নিশ্চুপভাবে। চোখ দুটো ফুলে গিয়েছে। মুখটাও লালচে হয়ে আছে। খুব কেঁদেছে কিনা সে! অথচ এমন কিছু হবে সেটা কি ভেবেছিলো সে? মোটেও না। ভেবেছিলো ভালোবাসার মানুষটার সাথে ভালোই থাকবে সে। তাই তো বাসার কেউ তাদের সম্পর্ক টা মেনে না নিলেও, সোহানের হাত ধরে পালিয়ে এসেছে সে একটু সুখের জন্য। কিন্তু সুখ যেনো ধরাই দিচ্ছেনা তাকে। পালিয়ে আসাতে সোহানের পরিবারও মেনে নেয়নি তাদের। একমাত্র খালার কাছে সোহানকে নিয়ে আসে তমালিকা, একটা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। ভাড়া বাসায় থাকেন তমালিকার খালা তানিয়া বেগম। নিজেই ভাড়া থাকেন, বোনের মেয়েকে জায়গা দিবেন কি করে! ফেলেও দিতে পারেন না। তমালিকা তার খুব আদরের কিনা! তাই একই বাড়ির একটা ফ্লাটে ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন তাদের তানিয়া বেগম। থাকার জায়গা পেলেই তো সংসার হয়ে যায়না, খরচারও একটা ব্যাপার আছে। নাহলে সংসার চলবে কি করে? তাই সোহান চাকরীর জন্য চেষ্টা করতে থাকলো। তবে চাকরী পাওয়া কি এতো সহজ? সোহান ব্যর্থ হতে থাকে। এদিকে সোহানের এমন অবস্থা যেনো সহ্য হয়না তমালিকার। বাসার পাশেই একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে কাজের জন্য গেলো...