Posts

মেঘের শহর - সাজি আফরোজ (পর্ব ২)

Image
ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে এলোপাতাড়ি হাঁটতে থাকলো জিকো। একসময় ক্লান্ত হয়ে একটা পার্কের মধ্যে ঢুকে পড়লো সে। বৃষ্টি হবার কারণে মানুষেরা আজ এদিকে আসছে না। তাই পার্কটা আজ বেশ ফাঁকা। বসার জন্য সে জায়গা খুঁজতে থাকলো। সবখানেই ভিজে একাকার হয়ে আছে। চোখ যায় তার একটা কংক্রিটের ছাতার দিকে। সেদিকে এগিয়ে গিয়ে তার নিচে ধপাস করে বসে পড়লো জিকো। বৃষ্টি থেমেছে কিছুক্ষণ হলো। আবহাওয়া এখনো ঠান্ডা। তবুও জিকো দরদর করে ঘামছে। তার পরিহিত পাঞ্জাবি তে ঘামের দাগ লেগে আছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামও জমেছে। পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে কপালের ঘামটা মুছে নিলো সে। এরপর ছাতাটার গায়ে হেলান দিয়ে চোখটা বুজে নেয়৷ একটু ঘুমের তার ভীষণ প্রয়োজন। যদি ঘুম থেকে উঠে দেখে সবটা স্বপ্ন! . . বিকেলে ছাদে হাঁটাহাঁটি করা সাইয়ারার ছোটবেলার অভ্যাস। আজও সে ছাদে হাঁটছে। সাথে কানে এয়ারফোন গুজে গান শুনছে সে। তার আকাশ দেখতে ভালো লাগে। মেঘলা আকাশ তার ভীষণ প্রিয়। আজও আকাশ মেঘলা। গাছ-গাছালির ফাঁকে যতদূর দৃষ্টি যায়, দেখা যাচ্ছে মেঘ আর মেঘ!  আকাশের দিক থেকে দৃষ্টিটা সরিয়ে আশেপাশে তাকায় সাইয়ারা। পাশের বাসার ছাদে মেঘকে দেখতে পায় সে...

মেঘের শহর - সাজি আফরোজ (পর্ব ১)

Image
আমি কি ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে গেলাম! ঘুম ভাঙার পরে বিস্ফোরিত চোখে নিজের বুকের উপর হাত বুলাতে বুলাতে প্রকান্ড একটা চিৎকার দিয়ে উঠে জিকো। সাথে সাথেই নিজের মুখ দুহাত দিয়ে চেপে ধরে সে। কন্ঠটাও যে একদম মেয়েদের মতো বের হলো গলা দিয়ে! এটা কোনো দুঃস্বপ্ন নয় তো! ভাবতে ভাবতে সে দৌড়ে চলে যায় বেসিনের আয়নার সামনে। জিকোর অভ্যেস ছিল খালি গায়ে ঘুমানো। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকাতেই বড়সড় একটা ঝাটকা খায় সে। মাথায় লম্বা চুল গজিয়েছে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি গুলো ও গায়েব। বুকেও কোনো লোম দেখা যাচ্ছেনা। তার বদলে সৃষ্টি হয়েছে উঁচু সুঢৌল মাংসপিণ্ড!  কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হচ্ছে তার। কাঁপা কাঁপা হাতে ট্রাউজারের ফিতা খুলে নিচের দিকে তাকায় জিকো। দ্বিতীয়বারের মতো আরো একবার চিৎকার করে উঠে...  " হোয়াট দ্যা......" জিকো পুরোদস্তুর একটা মেয়ে মানুষে পরিণত হয়ে গেছে। একজন ছেলের কোনো বৈশিষ্ট্য ই তার ভিতরে পরিলক্ষিত নয়। বিবস্ত্র অবস্থায় চুলের ভিতরে দুহাত ঢুকিয়ে বাথরুমের ফ্লোরে বসে পরে সে। নিজের পুরুষত্ব নিয়ে কত গর্ব ছিল তার!! কিন্তু হঠাৎ কি কারণে এক রাতেই তার দেহে এমন আমূল পরিবর্তন ঘটলো! গতরাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা...

মুছে যাচ্ছে আমার পৃথিবী - Sumona Tanu

Image
আমি আমার শাশুড়ির কর্মকাণ্ড দেখে অবাক হয়ে গেছি । বাজারে বাজারে বাসা ভর্তি হয়ে গেছে । নানা পদের মাছ, খাসির মাংস, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, সবজি, নানা পদের ফল ,মিষ্টি, দই, আইসক্রিম । অন্তত দশ হাজার টাকার বাজার করে এনেছে । - এত বাজার করেছেন কেন মা ? - আরে তোমার ভাই আকাশ, আজ আসবে না ? - তার জন্য এত বাজার কেন ? ও তো একমাস থাকবে না ? বিকাল চার পাঁচটার দিকে পৌঁছাবে, রাত দশটার দিকে চলে যাবে । - এটা একদিন এর জন্যই । কিন্তু মাত্র একদিনের জন্য কেন মা ? ওকে বলো সপ্তাহ খানেক থেকে যেতে আমাদের বাসায় । সেই আট বছর আগে এসেছে । এর ভিতর তো আর একবার ও আসলো না। আমি মনে মনে চমকে উঠলাম । আট বছর ! তাই তো হওয়ার কথা । আমার একমাত্র ভাই আট বছর পর আমার বাড়ি তে আসছে ! এমন নয় যে, ও বিদেশে ছিল। ও দেশেই ছিল । কিন্তু বোনের বাড়িতে আসতে ওর রুচি তে বেঁধেছে । আমার ও কখনো ওকে আসতে বলতে ইচ্ছা হয়নি। ও যখন হোস্টেল থেকে বাড়িতে যেতো, তখন কোন কোন সময় আমিও সময় করে বাপের বাড়িতে যেতাম। ওভাবে ই দুই ভাইবোনের দেখা সাক্ষাত হয়েছে গত আট বছর। আট বছর আগে, আমার তখন সাত মাস হলো বিয়ে হয়েছে । আকাশ ভার্সিটি কোচিং করবে। ঢাকা তে আমি ছাড়া আমাদের আর কোন...

কিছু অপ্রিয় সত্তি কথা

Image
  যেখানে Kiss ছাড়া কেও ঘুমাতে যায় না,সেইখানে রিলেশন কিভাবে পবিত্র   🙂 💔 যেখানে অশ্লীল কথা ছাড়া কথাগুলো বিরক্তকর লাগে, সেইখানে রিলেশন কিভাবে পবিত্র  🙂 💔 যেখানে লুচ্চামি ছাড়া মেয়েরা পটে না, সেইখানে রিলেশন কিভাবে পবিত্র 🙂 💔 যেখানে হাত ধরাধরি ছাড়া রাস্তায় চলা যায় না,সেইখানে রিলেশন পবিত্র  🙂 💔 যেখানে Park এ গিয়ে টিপাটিপি ছাড়া থাকা যায় না,সেইখানে রিলেটিভিটি কিভাবে পবিত্র  🙂 💔 যেখানে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পিক না দেখলে ব্রেকাপ দেওয়া হয়,সেইখানে রিলেশন কিভাবে পবিত্র  🙂 💔 যেখানে বিয়ের আগেই Room Date করা হয়,সেইখানে রিলেশন কিভাবে পবিত্র  🙂 💔 সব শেষ এ একটাই কথা বলতে চাই ভালোবাসা পবিত্র রিলেশন না 🌺 সব শেষ এ একটাই কথা বলতে চাই ভালোবাসা হালাল কিন্তু রিলেশন না মনে ভয় রাখুন হিসাব দেওয়া লাগবে,কিভাবে দিবেন এইসব হিসাব মরার পর 🙂 এটা দুনিয়া আখিরাত না দুনিয়াটা হলো এক বিন্দু পানির মতো  😇 আর আখিরাত হলো একটা সাগরের মতো শুরু আছে কিন্তু নাই শেষ ☺️ সবাই পাপ করছে বলে আপনি করবেন জান্নাতে সবাই যাবে না তেমনি জাহান্নামেও সবাই যাবে না 😊 আপন...

খুকুর ভাবনা (ছোটদের ছড়া) - সন্দীপ বাউল

Image
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান। ঘরে এখন বন্দী খুকু মন আনচান। বাড়িয়ে হাত, ভিজিয়ে জলে হচ্ছে শুদ্ধিকরণ। সবাই এখন বলছে ডেকে বাইরে গেলেই মরণ। ফড়িংগুলো উড়ছে কেমন মেলে দুই ডানা। ওদের কেন কেউ বকে না ওড়া এখন মানা¡ খুকুর ব্যথা বুঝবে কে সে এমন আছে কৈ। ইচ্ছা করে নেচে আসতে তাতা থৈ থৈ। বন্ধ আজ হয়েছে তার পড়াশুনার খাতা। হেলে দুলে বলছে কথা গাছের সবুজ পাতা। ভিজেও কেমন পাখিগুলোর কিচির মিচির হাসা। ঝরিয়ে পালক আগলে রাখে আপন নিজের বাসা। নড়চড়ে ঘরে আছে ছোট্ট ছানাপনা। জুটাতে খাবার মেঘলা দিনে মন আনমনা। ইচ্ছা করে দৌড়ে গিয়ে দেয় দুটি দানা। বাচ্চাগুলো আছে কেমন আছে কার জানা? ভেকেরা আবার বেজায় খুশি ডাকছে গ্যাঙোর গ্যা়ং। লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে কেউ আবার ভাঙে নিজের ঠ্যাং। প্রজাপতি ভাবে বসে কার কাছে যাবে? ঝরা ফুলে কার কাছে খোঁজ খবর নেবে? কুকুর খালি শুকনো গলায় ডাকে ঘেউ ঘেউ। খালি পেটে বলছে যেন আছে নাকি কেউ? অন্ধকারেই জোনাকি খালি দেখাই শুধু আলো। দিনে কেন দেখায় না ওরা যত জগতের কালো? ঘাসের ডগায় বৃষ্টিতে ঐ লেগে আছে মুক্ত। ছোটদের ভাবতে কথা হই না কেন যুক্ত? বড়োরা খালি করে শাসন ছোটদেরই শেখায়। বড়ো বলেই বড়ো নাতো বড়...

অপেক্ষার চব্বিশটা বছর - মৃনাল কান্তি বিশ্বাস

Image
তুমি আসবে বলে যখন ঠিক করেছ --- ? তখন অনেক- অনেক - দেরি হয়ে গেছে ! সোনালী পাখির ডানার নিচে নেমে গেছে বিকেলের রোদ । জীবন ছুটটে - ছুটটে - থেমে গেছে শুন্য হাতে , দেওয়ার কিছু নেই ! তুমি আসবে বলে যখন ঠিক করেছ --- ? তখন অনেক - অনেক - দেরি হয়ে গেছে ! আসা যাওয়া চেনা পথগুলো ছেঁয়ে গেছে বুনো ঘাসে । মনের মোহনায় জেঁগেছে চর ইচ্ছা গুলো আটকিয়ে আছে তার বালুতে ! বন্ধ হয়ে গেছে পারাপারের সব পথ আপেক্ষায় নেই কেউ -- ! অন্ধকারে ভরেছে তট , তুমি শুধু অসময়ে !! তুমি আসবে বলে যখন ঠিক করেছ ---- ? তখন অনেক - অনেক - দেরি হয়ে গেছে ! সময় বিক্রি হয়ে গেছে ফেরিওয়ালার ঝুলিতে --- বসন্ত চলে গেছে বৈশাখীর থাবায় । নব্যতা হারিয়েছে জীবনের প্রবাহ , মুক্ত চরায় আটকিয়ে আছে তার স্রোত ! তুমি আসবে বলে যখন ঠিক করেছ -- ? তখন অনেক- অনেক - দেরি হয়ে গেছে ! হৃৎপিন্ড তার নিজের শক্তি ক্ষয়েছে ঠোঁটে ভাঁজ এসেছে সময়ের ব্যাবধানে ! সময় আর রঙ মাখার আনন্দে নেই । অবেলায় নোঙর তুলে ভেসে চলে জীবন ছেড়া পালে জীর্ন তরী, স্রোতের টানে --- ছুটে চলে নিয়মের গতিতে কালের পথে ! তুমি আসবে বলে যখন ঠিক করেছ --- ? তখন অনেক - অনেক - দেরি হয়ে গেছে ! একে একে কেঁটে গেছে চব্বি...

বিপরীত প্রতিক্রিয়া - আহম্মেদ আব্দুল্লাহ

Image
সকালে ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই আম্মু গালে কষিয়ে চড় মেরে দিলো। -মারলে কেনো আম্মু? -মারবো না তো কি করবো তোর মতো ছেলেরা সকাল ৮ টায় কেনো ঘুম থেকে উঠবে।তুই বড় ঘরের সন্তান ১২ টার আগে একদমই ঘুম থেকে উঠা চলবে না।ঠিক আছে আম্মু আর এমন হবে না। সেটা না হয় বুঝলাম করবি না রাতে এতো তাড়াতাড়ি ঘুমানোও চলবে না।পাশের বাসার ভাবির ছেলে পাবজির এক নাম্বারে খেলোয়াড় বাংলাদেশে।আর তুই এখনো ২০ লেভেলেই ফেরতে পারিস নাই।তোর ভবিষ্যতে অন্ধকার।শুন সারারাত জেগে পাবজি খেলে যদি এক নাম্বার হতে না পারিস তাহলে বাড়ি থেকে বিদায় করে দিবো। সেদিন ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম আগুন আগুন বলে,আমার বই খাতা সব পুড়িয়ে দিচ্ছে সবাই মিলে।জিজ্ঞেস করলাম আম্মু, আব্বু এমন করছো কেনো?তোকে না কত বার বললাম যে পড়াশোনা করতে হবে না।পাশের বাসার ভাবির ছেলে মাস্তানি করে বেড়ায়।তোকে ও করতে হবে টপ ওয়ানের মাস্তান হতে হবে।প্রয়োজনে দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিবো,সেখানে গিয়ে মাস্তানি স্কুলে পড়ে সাটিফিকেট অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবি। সেদিন আম্মুর কাছে দুধ খেতে চাইলাম রাত জেগে গল্প লিখতে, লিখতে মস্তিষ্ক বিগড়ে যাচ্ছে,দুধ খেলে হয়তো একটু ভালো লাগবে।আম্মু কাঁদো কাঁদো গলায় আব্ব...