Posts

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৮) [শেষ পর্ব]

Image
আজ নিশির বিয়ে,,,বুকের ভেতর অজানা এক অনূভুতি দানা বেঁধে চলেছে ক্রমাগত।।চারপাশে চেঁচামেচি হৈচৈ,, সবই যে তাকেই কেন্দ্র করে ভাবতেই অবাক লাগছে নিশির।।।ভালোবাসার মানুষটিকে আপন করে পেতে চলেছে আজ,,,,হাজারো স্বপ্নগুলো আজ ডানা মেলবে আকাশে,,,এতো আনন্দের মধ্যেও চাপা কষ্ট আর ভয়,যেনো আকড়ে ধরছে নিশিকে,,কি হতে চলেছে তার জীবনে,,,জীবনটা কোন পর্যায়ে পৌছাবে কে জানে??বাবার রাজকন্যাটি থেকে অন্যের বাড়ির বউ হয়ে যাচ্ছে সে,,,সব গল্প,,রাগ,,অভিমানের সাথী বাবাকে ফেলে যেতে হবে ভাবতেই কান্না পাচ্ছে,,,তবু তো যেতে হবে এটাই যে নিয়ম,,,এটাই যে বাস্তবতা,,,,নিলয়ের গাঁজাখুরি যুক্তি আর প্ল্যান,,, তারিকুল রহমান বেশ বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন,,,ফাহিম তারিকুল রহমানকে ফোন করে আগেই সবটায় বলেছিলো,,,প্রথমে রাগ হলেও মেয়ের খুশির জন্য নিজের রাগে মাটি চাপা দিয়েছেন,,,,সবকিছু জানার পরও,,এতো ড্রামা শুধু তার মেয়ের রিয়েকশনটা দেখার জন্য,,,,কিন্তু অবশেষে ছেলেমেয়েদের অস্বস্তিতে না ফেলে চেপে গেছেন বিষয়টা,,,মেয়ে তার কথা লুকোতে শিখে গেছে,,,কারো জন্য ভালোবাসাটা আগলে রাখতে শিখে গেছে,,,ভেবে শুধু মুচকি হেসে ছিলেন তিনি।।। নিলয়কে আর কোনো ফালতু যুক্তি দে...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৭)

Image
নিশি বসে বসে দাঁত দিয়ে নখ খুটছে,,,তারিকুল রহমান ক্রমাগত চশমার গ্লাস পরিষ্কার করছেন,,,দু'জনের মনটাই ভীষন খারাপ,,,বিঞ্জানীরা যদি মনের কথা জানার কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করতেন তাহলে এই সমস্যার সমাধান টা হয়ে যেতো খুব সহজেই,,,,কিন্তু তা যেহেতু হয় নি অতএব এই সমস্যার সমাধানও দুষ্কর,,,আরিফ সাহেব একেরপর এক গ্লাস ফাঁকা করে দিচ্ছেন,,,উনি বুঝে উঠতে পারছেন না,,ব্যাপারটা ঠিক কোন দিকে এগুচ্ছে,,এমন এক থমথমে অবস্থায় হঠাৎই কলিংবেল বেজে উঠলো,,,এমন একটা পরিস্থিতিতে কলিংবেলের শব্দটা বড়ই বেমানান লাগছে,,,ভূতের রাজ্যে দোয়া-দরুদ টাইপ।।সবাই একদৃষ্টে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে,, কেউ দরজা খুলছে না,,,আসলে খোলার ইচ্ছে জাগছে না,,,এই অসস্থিকর পরিবেশে কেউ আর নতুন অতিথি নিতে রাজি নয়।।কিন্তু দরজার ওপারের ব্যক্তি তাদের এই অনুভূতি মানতে নারাজ,,,সে ক্রমাগত কলিংবেলে ঝর তোলে যাচ্ছে,,অবশেষে নিশির বাড়ির কাজের মহিলাটি হেলেদুলে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলেন।।দরজা খোলার সাথে সাথেই ভিতরে প্রবেশ করলো দু'জন ছেলে,,,তাদের মধ্যে একজন নিলয় আর অন্যজন রেদুয়ান,,,সবার,দিকে তাকিয়ে একফালি সৌজন্যসূচক হাসি ছুড়ে দিলেও কেউ তা রিটার্ন করলো না,,,ভদ্রত...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৫)

Image
নিশি হালকা পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে ছাঁদের দিকে।।।বুকের মধ্যে হৃদপিন্ডটা একটু বেশিই ছটফট করছে,,,একেই হয়তো বলে লুকুচুরি প্রেম।।ছাদে পা রাখতেই,, কেউ হাতটা টেনে ধরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।।প্রথম ধফায় চমকে গেলেও নিলয়কে দেখে হাফ ছেড়ে বাঁচলো।। । উফফ,,আপনি?আমাকে তো ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন,,, । এত্তো ভয় আপনার?? । নিলয় কাছে আসতেই নিশির কাঁপা কাপি শুরু হয়ে গেলো,,আজ যেনো একটু বেশিই লজ্জা পাচ্ছে সে,,, । এই কাপঁছো কেন??কিছুই তো করিনি এখনই এতো কাঁপাকাঁপি??তাহলে তো বাসর রাতে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যাবে।। । নিলয়ের এসব লাগাম ছাড়া কথাবার্তা যেনো দিন দিন বেড়েই চলেছে,,, । দে,,,দেখুন ছাড়ুন প্লিজ,,,(করুন চোখে) । আরে,,,তুমিই তো বললা যে আমাকে ছোঁয়ে দেখতে চাও,,নয়তো ইউ নো না,,আমি অতি ভদ্র ছেলে(চোখ টিপে)আমি অলওয়েজ মেয়েদের থেকে দুহাত দূরে,,, । বলেই একটু দূরে গিয়ে দাড়িয়ে পড়লো নিলয়।।এতোক্ষণে নিশি যেনো বুক ভরে শ্বাস নিলো।। । আপনি আর ভদ্র??কখনো নয়,,,সবার সামনে ভদ্র সাজার ড্রামা করেন আপনি,,তা আমি বেশ বুঝতে পেরেছি।।।আমার সামনে আসলেই তো লুচ্চামো শুরু করে দেন হুহ,,, । কিহ??তুমি এটা বলতে পারলা??তোমাকে প্রোপোজ করার...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৬)

Image
নিশির বাবা গম্ভীর মুখে বলে উঠলেন,,,,"মানে কি?আমার মেয়ের বিয়ে অথচ আমি জানি না???" । হ্যা জানেন না,,,কিন্তু এখন জানলেন।।শুনলাম মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন,,ছেলে আমাদের একনম্বার,, এই বিয়ের সমন্ধের জন্য দুইমিনিটও লেট করা যায় না,,তাই সকাল সকাল পুরো পল্টন নিয়ে চলে এলাম।।(মুচকি হেসে) । খুব ভালো কথা,,,যদি দু'মিনিটও ওয়েট না করা যায় তাহলে ওয়েট করা উচিতও নয়।।।অনুচিত কাজ করা আরো বেশি অনুচিত।।সেই হিসেবে আরিফ সাহেব খুব ভালো কাজ করেছেন,,,তারিকুল রহমানের নিজেরও খুশিতে গদগদ হওয়া উচিত,,তার মেয়ের জন্য কেউ বাড়ি বয়ে পুরো পল্টন নিয়ে হাজির হয়েছে,,,কিন্তু তিনি খুবই বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন।।।তার বিমর্ষতার প্রধান কারণ হলো নিশি,,,সে দৃঢ় কন্ঠে বলে দিয়েছে,,"দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা উঠলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে"।।ব্যাপারটা তাকে বড্ড ভাবাচ্ছে,,,একমাত্র মেয়ে বিয়ের ভয়ে পালিয়ে গেছে ব্যাপারটা বড্ড বাজে শোনায়,,তাছাড়া এই রিস্কটাও তিনি নিতে চাচ্ছেন না।।আবার আরিফ চৌধুরীর কথামতো এক নম্বার ছেলেটাকে হাতছাড়াও করতে চাইছেন না।।। । সরি আরিফ সাহেব,,বিয়েটা সম্ভব না, । কিন্তু কেনো??(অবাক হয়ে) । আমার মেয়ে ...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৪)

Image
কি সব আজে বাজে কথা বলছেন আপনি???আর আপনার হাত কাঁপছে কেন,,,এতো ঠান্ডায় আপনি ঘামছেনই বা কেন??শরীর খারাপ লাগছে?? (উদ্বিগ্ন হয়ে) । ভালোবাসি নিশু,,,খুব বেশি ভালোবাসি।।(কাঁপা কন্ঠে) । নিশি নিলয়ের কথার আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না।।কি বলছে নিলয়??এতোক্ষণে নিশি নিলয়কে খেয়াল করলো,,,অগোছালো চুল,,,ব্ল্যাক টি-শার্ট,,তারসাথে এ্যাশ কালারের থ্রী কোয়াটার প্যান্ট,,,সবকিছু মিলিয়ে একটা পাগল পাগল ভাব চোখে মুখে,,,আর নিলয়ের এই পাগল পাগল লুকটাই যে অন্য একজনকে পাগল করতে যথেষ্ট।।।ফর্সা শরীরে ব্ল্যাক টি-শার্টটা কি সুন্দর মানিয়েছে,,,সিল্ক চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে পড়ে আছে,,,,নিশি যেনো একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে,,নিলয় আগের মতোই অন্যদিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,নিশি হঠাৎই নিলয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।।নিশিকেদেখে নিলয়,ঘুরে যেতে নিলেই নিশি নিলয়ের টি-শার্টের কলার চেপে ধরলো।।।নিলয় অবাক চোখে নিশিকে দেখছে,,,দুজনের হার্টই খুবই ফাস্ট বিট করছে।।।নিশি ধীরে ধীরে কলার ছেড়ে দিয়ে নিলয়ের গলা জড়িয়ে ধরলো,,,পা দুটো একটু আগলা করে উঁচু হয়ে দাঁড়াতেই কোমরে হাত দিয়ে নিশিকে আগলে ধরে দাঁড়ালো নিলয়।।।নিলয় নিশির চোখের ভাষা বুঝে গেছে,,,তার ...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১৩)

Image
বাবা??প্লিজ,,,এসব পাগলামো বন্ধ করো,,তোমার কথায় ফাহিনকে বিয়ে করতে রাজী হয়েছিলাম,,আর দেখো আজ এভাবে অপমানিত হতে হলো।।।আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাচ্ছো?? । নারে মা,,,,আমি তো শুধু ফাহিনকে দেখাতে চাই,,আমার মেয়ে ও কম না।।। । জাস্ট,,স্টপ বাবা।।।আর একটাবার যদি বিয়ে নিয়ে কথা হয় তো,,,আমি বাসা ছেড়েই চলে যাবো।।।তুমি আমার জেদ জানো বাবা,,,সো প্লিজ । কথাটা বলেই রুমে দরজা দিলো নিশি।।এদিকে তারিকুল রহমানের মুখটা ছোটো হয়ে গেলো।।তিনি ভেবেছিলেন,,মেয়ের জন্য রাজপুত্র এনে,,ফাহিনের মতো জোকারকে যোগ্য জবাব দেবে কিন্তু তার আশায় নিশি এক বালতি না,,,,এক্কেবারে এক টাংকি পানি ঢেলে দিলো।।।মেয়ের জেদ সম্পর্কে তিনি সচেতন তাই ঘটককে শুকনো হাসিটুকু দিয়েই বিদায়,দিতে বাধ্য হলেন।।।নিশি রুমে পায়চারী করছে,,,মেজাজ তার চরম খারাপ হচ্ছে,,,যত্তোসব জামেলা তার মাথায় এসে পড়তে হবে নাকি।।।নিলয়কে ক্রমাগত কল করছে নিশি কিন্তু নিলয়ের পাত্তা পাওয়া,যাচ্ছে না বললেই চলে,,,তিনবার রিং হওয়ার পর,,অপর পাশ থেকে নিলয়ের ঘুম জড়ানো কন্ঠ ভেসে আসে,,,, । হ্যালো জানপাখি,,, । জানপাখি মাই ফুট,,কয়বার ফোন দিছি??ফোন ধরতে কি হাত খসে পড়ে য...

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (পর্ব ১২)

Image
রেদুয়ান বাঁকা হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে,,তারপর ব্যালকনি টপকে একদম নিচে।।নিশি এতোক্ষণ রেদুয়ানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো,,,নিলয়ের হালকা কাশির শব্দে সামনে তাকালো।।নিলয় শয়তানী হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে আসছে,,,আর নিশি ঠাঁই দাড়িয়ে আছে,,,সে খুব ভালো করে জানে,, এখন সে যেখানেই পালাক না কেনো নিলয় তাকে ধরবেই,,,সো শুধু শুধু এনার্জি ওয়েস্ট করে নায়িকাদের মতো পিছিয়ে যাওয়ার মানে হয় না,,,তাছাড়া নিশির পিছনে দেয়ালও নেই,,, যা আছে তা হলো বিছানা।।ওটা আরো বেশি রিস্কি বলেই মনে হচ্ছে নিশির,,,তাই চুপচাপ দাঁড়িয়েই কাপাকাপি করছে ।।ভয়টাকে কন্ট্রোল করতে পারছে না বেচারী।।নিলয় নিশির ঠিক সামনে এসে দাঁড়ালো।। নিশির দিকে একপলক তাকিয়েই শার্টের বোতামে হাত দিলো,,,নিশির এবার হার্ট আট্যাক হওয়ার উপক্রম,,,নিলয় ওর সাথে এক্চুয়েলি কি করতে চাইছে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না নিশি??নিলয় শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে দিয়েছে,,,নিশি আর পেড়ে উঠলো না।।চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে নিলো,,,কথা বলার ন্যূনতম শক্তি তার নেই।।হার্টের স্পন্দনগুলোও যেনো আজ তার বিপক্ষে কথা বলছে ।।বেশ কিছুক্ষণ পরও নিলয়ের কোনো সারাশব্দ না পেয়ে,,, চোখ পিটপিট করে তাকালো নিশি।।।একি ...