ডিটেকটিভ তিশা - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ৪)
সকালে সাব্বির তিশার বাসায় আসতেই তিশা ফরেনসিক পলি ব্যাগটি নিয়ে আসে।
যেখানে ড্রাগের একটি প্যাকেট ও একটি এক হাজার টাকা নোটের বান্ডেল ছিলো।
সাব্বির তা দেখেই চোখ বড় করে করে তিশার দিকে তাকাই।
- সিরিয়াসলি!!! তুই সেখানে গিয়েছিলি??
- শুধু গিয়েছিলাম কি
তারপর তিশা সাব্বিরকে সবটা খুলে বলে।
সাব্বির কিছুটা চিন্তিত মুখ করে, -এক গ্লাস পানি খাওয়াবি?
তিশা ভেতর রুম থেকে পানি নেওয়ার জন্যে চলে গেলো।
ঠিক তখনই মিমিকে নিয়ে হুরাইরা রুমে প্রবেশ করলো।
- হাই সাব্বির ভাইয়া, কেমন আছেন?
- হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি?
- হ্যাঁ আমিও ভালো।
- বাহ তোমার বিড়ালতো বেশ দেখতে! তাহ ছেলে নাকি মেয়ে?
- মেয়ে। মাশাল্লাহ বলেন মাশাল্লাহ বলেন
- মাশাল্লাহ! তাহ কোন নাম আছে কি এর?
- হু আছে তো৷ মিমি।
- ওয়াও মিমি! আমারটার নামতো মিনি।
- বলেন কি! নাম তো প্রায় মিল রয়েছে।
- হাহা। এক কাজ করা যাক তোমার মিমির সাথে আমার মিনির বিয়ে দেওয়া যাক। কি বলো?
- কি যে বলেন না ভাইয়া
হঠাৎ সাব্বিরের মিমির সেই বেল্টটির দিকে নজর যায়।
- বেল্টটা তো খুব সুন্দর! কই পেলে?
- বর্ণ ভাইয়া বানিয়ে দিয়েছে।
- ওহ হ্যাঁ ভালো কথা, বর্ণকে দেখতে পারছি না?
হাতে ট্রে নিয়ে রুমে প্রবেশ করতে করতে তিশা বললো
বর্ণ একটা কাজের অফার পেয়েছে। সে কাজে কয়েকদিন বাইরে থাকবে।
- বলিস কি!! বর্ণ তোকে ছাড়া কেমনে?
- উহু যেতে চায়নি ও। আমিই ওকে জোর করে পাঠিয়েছি।
বাসায় বসে বসে মোটকু হচ্ছিলো
- হাহা। তিশা আমি বরং এই এভিডেন্স গুলো নিয়ে যায় দেখি কিছু পাওয়া যায় কি না এগুলো তে?
- হ্যাঁ তবে আরেকটা কথা।
- হু বল না?
- আজ রাতে তুই যদি আমার সাথে একবার যেতিস সেই গোর্ডাওনটাতে?
পানি খেতে খেতে সাব্বির বললো যাওয়া যায়। তবে.......
- তবে কি?
- দেখ এখানে নিশ্চয় কোন গ্যাং কাজ করছে যাদের কাছে হইতো শক্তিশালী কোন অস্ত্র আছে।
- তুই থাকতে চিন্তা কিসের।
এতো জটিল একটা কথা হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিলো তিশা।
সাব্বির প্রতিনিয়তই যেনো তিশাএ মায়াবী হাসির জালে আটকে যাচ্ছে।
না না এসব কি ভাবছি আমি তিশা এখন বিবাহিত আর বর্ণ তিশা একটা লাভ বার্ড আর আমি শুধুই একজন বন্ধু।
- কি ভাবছিস এতো?
- কই না তো!
- সরি রে আমি তোকে আমার কাজে যখন তখন ডেকে ফেলি, আর তুই চলেও আসিস।
- আমাকে কি তুই বন্ধু মনে করিস না?
- শুধু বন্ধু কি রে? তুই তো আমার বেস্ট। আচ্ছা আমি যে তোকে এইভাবে হুট করে ডাকি আর তুই চলে আসিস তোর কোন কাজকাম থাকে না?
- কাজকাম?? ব্যবসা বল ব্যবসা।
আজই তো বাবার ব্যবসার চেয়ারে বসতে যাচ্ছিলাম।
তুই ডাকলি তাই চলে এলাম।
- ইশরে। পারলে তোর ব্যবসার এক কোণে আমারে একটু জায়গা দিস।
- না রে তুই যে কাজ গুলো করিস তা আমার ব্যবসা থেকেও অনেক বড়।আচ্ছ এখন উঠি রাতে দেখা হবে।
এই বলে সাব্বির বিদায় নিলো।
......
কিন্তু তিশা একটা জিনিস লক্ষ্য করলো হুরাইরা তাদের কথা সব আড়াল হতে শুনছিলো।
তিশা অনেকটাই অবাক,
হুরাইরার এরকম আচার আচরণে।
কি হলো মেয়েটার?
....
এদিকে বর্ণকে ৫-৬ বার কলে ট্রাই করার পর একবার পাওয়া যায়।
এতো কাজের চাপ তার যে তিশাকে একটা ফোনও দিতে পারছে না নিজ থেকে।
যাক নতুন কাজ তাই হইতো গুছিয়ে নিতে একটু সময় লাগছে
.....
রাত ১২টার দিকে সাব্বির আর তিশা বেড়িয়ে পরে গোর্ডাওনের উদ্দেশ্যে।
বাসায় হুরাইকে একা রেখে এসেও বেশ চিন্তিত তিশা।তবে তার যে কিছুই করার ছিলো না।
.....
সাব্বির- বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে?
- হুরাইরাকে একা রেখে আসাটা ঠিক হয়নি। মেয়েটার চালচলনেও কেমন একটা যেনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম।
আমার মনে কেমন কেমন জানি মনে হচ্ছে।
- আহ, তুই খামোকাই চিন্তা করছিস। তোর তো কাজই হচ্ছে চিন্তা করা আর না হয় সন্দেহ করা।
তিশা সাব্বিরকে গাড়ি আনতে মানা করে কারণ হেটে হেটে গেলে কেও তাদের উপস্থিতি টের পাবে না।
কাছাকাছি যেতেই তারা এক হিংস্র প্রাণীর গর্জন আর কিছু গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায়।
সাথে সাথে তারা আড়াল হয়ে যায় এবং রিভলবার বের করে।
আড়াল থেকে কিছুটা সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
এখন প্রায় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
এখন ১০-১৫ জন সবার হাতেই অস্ত্র আছে। অনবরত গুলি চালাচ্ছে ঐ অন্ধকার জায়গায়টাতে।
কিন্তু তারা গুলি চালাচ্ছে কার উপর?
হঠাৎ লক্ষ্য করলো অন্ধকার থেকে বিশাল দেহের কি একটা যেনো বেড়িয়ে আসছে।
বড় বড় হলুদ চোখ। মাঝে ঘন কালো চোখের মণি।
ইয়া বড় বড় নখ। দাত ২টা মুখের চোয়াল থেকে বের করানো।
অন্ধকারে যেনো সেটিকে আরো কুৎসিত দেখাচ্ছে।
এতো গুলো গুলি তার উপর চললো কিন্ত জিনিসটা এখনো সে জায়গায় একদম দাম্ভিকতার সাথে দাঁড়িয়ে আছে দেখে লোক গুলো পালাতে চাইলে এক এক থাবায় প্রাণীটি সবাই কে মেরে ফেলছে আর গিয়ে সবার কান গুলো ছিড়ে খেয়ে ফেলছে।
একজনের তো প্রাণ থাকতেই কান ছিড়ে খেয়ে নিলো ঐ প্রাণীটি।
এরকম একটা বিভৎস চিত্র দেখে তিশা আর থাকতে পারলো না।
আর সাথে সাথেই এক চিৎকার দিতেই প্রাণীটি তাদের দেখে ফেলে।
এখন ঘটেছে আরেক বিপদ খুব জোরে তেড়ে আসছে প্রাণীটি তাদের দিকে।
সেটি দেখে তিশা আর ঠিক থাকতে পারলো না আর মাথা ঘুরিয়ে পরে যায়।
......
জ্ঞান ফিরতেই তিশা নিজেকে নিজের বিছানায় আবিস্কার করে।
চোখ মেলতেই তার কাল রাতেই কথা মনে পরে।
ঐ কুৎসিত প্রাণীটির কান ছিড়ে খাওয়া আর তাদের দিকে দৌড়ে আসা এই চিত্রটি মনে করতেই তিশা আবারও চিৎকার করে উঠে,
হুরাইরা আর সাব্বির তিশার রুমে সাথে সাথে দৌড়ে আসে।
তিশা হুরাইরাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে।
সাব্বির শান্ত না দেয় কিচ্ছু হয় নি তিশা। কিচ্ছু হয়নি।
সাব্বির হুরাইরাকে এক গ্লাস সরবত করে নিয়ে আসতে বলে।
তিশা দেখতে পায় সাব্বিরের হাতে ও মাথায় বেন্ডেজ করা।
কান্না জড়ির কন্ঠে
- কি হয়েছে তোর?
সাব্বির তিশার পাশে বসে ফিসফিসিয়ে বলে,
- আমার কথা ছাড়। তোকে কিছু জরুরি কিছু কথা বলার ছিলো।
- বল না!
- কিন্তু তুই আমাকে ভুল বুঝিস না।
- আরেহ পাগল তোকে ভুল বুঝতে যাবো কেনো?
- আচ্ছা শোন,
কাল যখন ঐ ক্রিয়েচারটা আমাদের দিকে আসছিলো তখনই তুই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাস।
আর আমি আমার আর তোর রিভলবারটি নিয়ে সেটির উপর গুলি চালাতে থাকি।
কিন্তু লাভ হলো না আমার কাছে আসতেই আমার এক হাতে থামা মারে আমার গুলি পরে যায়।।তারপর আরেকটি থাবা মারতেই আমি দূরে ছিটকে পড়ি।
এরপরই ক্রিয়েচারটি হঠাৎ কোথায় পালিয়ে যায়।
আমি কতক্ষণ অজ্ঞান ছিলাম জানিনা।
তবে যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি রাত ১ টা।
তার মানে বেশিক্ষণ হয়নি।
- হু তারপর
তিশার চোখে মুখে ঘাম ছুটে গেলো।
- আমি তোকে নিয়ে কোনরকম বাসায় এসে দেখি দরজা লক করা।
কিন্তু ভেতরে হুরাইরার থাকার কথা।
তিশা চোখ গুলো এবার বেশ বড় বড় করে ফেলে।
সাব্বির- আমি তারপর তোর ব্যাগ থেকে চাবি বের করে দরজা খুলি তোকে বিছানায় রেখে দরজা লক করতে যাবো এমন সময় দেখি হুরাইরা হাপিয়ে হাপিয়ে মিমিকে তার রুমে ঢুকছে।
আর মিমির নখেও রক্তের ছাপ ছিলো।
তিশার মাথা এইবার প্রচন্ড বেগে ঘুরে উঠলো।
মুখ দিয়ে দু হাত ঢেকে কাঁদতে লাগলো।
সাব্বির তিশাকে শান্ত না দিয়ে বললো এখনো আমাদের পুরোপুরিটা খুঁজে বের করা দরকার। কেনো এমনটা হচ্ছে?
এভাবে ভেঙ্গে পড়িস না।
.....
তিশার মন কিছুতেই মানছে না।
হুরাইরা সরবত নিয়ে এসে তিশার হাতে দিতেই
তিশার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
তাহলে ডিটেকটিভ তিশার সন্দেহই কি ঠিক???
চলবে...........

Comments
Post a Comment