বৈধ সম্পর্ক - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৪)


সন্ধ্যা ৭টা......
আফরান বাসায় ফিরে এসে ফ্রেশ হয়েই বাবার রুমে যায়।দরজায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ভেতরে ঢুকে বাবার পাশে বসে সে।ভেবেছিলো তার বাবা ঘুমোচ্ছে।কিন্তু তিনি এমনিতেই চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন।
আফরানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোখ জোড়া খুলে দেখলেন তিনি,তার ছেলে অন্য দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছে।
-বেঁচে আছিতো বাবা,মরে গেলে না হয় কাঁদিস।
বাবার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে সে-
বাবা!এসব হাবিজাবি কথা তুমি একদম বলবা না।কিচ্ছু হবেনা তোমার।
-মনে হচ্ছে মরে গেলেই ভালো হতো।সায়নীর মুখোমুখি হতে বড্ড লজ্জা করে।
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস নিয়ে আফরান বলে-
তোমার কি কিছু করার আছে এতে!
-হয়তো না।কিন্তু এখন আছে।
-কি?
-ওর জন্য একটা ভালো পাত্র ঠিক কর বাবা।
এটার দায়িত্ব তোকে দিলাম আমি।
-হুম।
.
.

বাবার সাথে কথা বলা শেষে নিজের রুমে আসে আফরান।বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে এই অবস্থায় বাবাকে কিভাবে বলবে সায়নীর কথা!এদিকে সায়নীর জন্য পাত্র দেখতে বললেন তিনি।সায়নীকে পেয়েও কি সে পাবেনা!
-এই নিন আপনার কফি।
মুনিরার গলার স্বরে ভাবনার জগৎ থেকে বের হয় আফনার।কফির মগটা হাতে নিয়ে বলে-
ধন্যবাদ।
-আমি আপনার জন্য পায়েস বানিয়েছি।নিয়ে আসি?
খানিকটা বিরক্ত নিয়ে আফরান বলে-
আমি কি রোগী নাকি পায়েস খাবো!
-হাহাহা...
শুধু রোগীরা খায় নাকি পায়েস?
-আমার কাছে তাই মনেহয়।আমি পায়েস খাইনা।তবে হুম বাবা খুব পছন্দ করেন।
তাকে দিতে পারো।
.
কথাটি বলেই আফরান রুম থেকে বের হয়ে চলে যেতে লাগলো।
.
মুনিরার নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে।সায়নীকে জিজ্ঞেস করলে নিশ্চয় তার পছন্দ,
অপছন্দ বলতে পারতো সে।
খামোখা পায়েস বানিয়ে লাভ কি হলো!
.
.
ড্রয়িংরুমে যেতেই সায়নীকে সোফায় বসে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখে আফরান তার পাশে গিয়ে বসে।
মিশিকা ফোন দিয়েছে সায়নীকে।সে আফরানকে দেখে মিশিকাকে ফোনে বলে-
মিশি আমি তোর সাথে পরে কথা বলবো।
-আচ্ছা।
ফোন রেখে কিছুক্ষণ আফরানের দিকে তাকিয়ে সায়নী বলে উঠে-
আজ আমার জন্য খালুর এই অবস্থা।
কফির মগটা হাত থেকে টেবিলের উপর রেখে আফরান বলে-
সবই নিয়তির খেলা।নিজেকে দোষ দিওনা।
-নিয়তির খেলায় যদি আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হয়?
-সেটা কখনো সম্ভব নয়।
-মুনিরার আম্মারা আজ বিকেলে চলে গিয়েছেন।
-হঠাৎ?
-মুনিরার চাচা অসুস্থ।
-ওহ।
-খালুকে বলার দরকার নেই এখন আমাদের বিষয়ে।
-হুম।
.
মুনিরা ড্রয়িংরুমে এসে দেখে আফরান আর সায়নী বসে কথা বলছে।
সেও তাদের পাশে গিয়ে বসতে বসতে বলে-
আমিও কি আপনাদের সাথে আড্ডা দিতে পারি?
মৃূদু হেসে সায়নী বলে-
কেনো নয়!
-জানো আপু উনি নাকি পায়েস খায়না।
-হুম জানিতো।আফরানের ঝাল খাবার অনেক পছন্দের।
-ইশ!আগে তোমাকে জিজ্ঞেস করলে ভালো হতো।
-কেনো?
-আরে আমি উনার জন্য পায়েস বানিয়ে ফেলেছি।আগে জিজ্ঞেস করলে ঝাল কিছুই না হয় বানাতাম।
-ও আচ্ছা।
সায়নীর বেশি কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা।
মাথাটা ঝিমঝিম করছে তার।বসা থেকে উঠতে উঠতে আফরানের উদ্দেশ্যে বলে-
তোমরা গল্প করো,আমি একটু শোবো।
চিন্তিত দৃষ্টিতে আফরান তার দিকে তাকিয়ে বলে-
এই অসময়ে শোবে কেনো?শরীর খারাপ লাগছে?
-নাহ,এমনিতেই ভালো লাগছেনা।
-আমি নিয়ে যাবো তোমাকে রুমে?
-আরেনা,আমি পারবো।
-ঠিক আছে।
.
কয়েক পা বাড়াতেই সায়নী ফ্লোরে পড়ে যায় অজ্ঞান হয়ে।সায়নীকে পড়ে যেতে দেখে আফরান আর মুনিরা দৌড়ে এগিয়ে যায় তার দিকে।সায়নীকে কয়েকবার ডাকার পর সাড়া না পেয়ে আফরান তাকে কোলে নিয়ে সায়নীর রুমের দিকে এগুতে থাকে।
মুনিরাও তার পিছে পিছে যেতে থাকলো।
.
কয়েক মিনিট পর....
সায়নী জ্ঞান ফিরে দেখতে পায় আফরান তার ঠিক পাশে বসে আছে।চোখ দুটো ছলছল করছে তার।
তাকে দেখে সায়নী বলে উঠে-
ভয় পেয়েছো?
মুচকি হেসে আফরান বলে-
না পাইনি।
-সেতো দেখতেই পাচ্ছি।
-তুমি শরীরের একদম যত্ন নাওনা।এর আগেও বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিলে।কাল তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।অফিসে যাবোনা।
-অফিস থেকে এসেই নিয়ো।বাসায় ভালো লাগছেনা,রাতে রিক্সায় চড়বো তোমার সাথে।
.
সায়নী এতোক্ষণ খেয়াল করেনি রুমে মুনিরাও আছে।একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।
তাকে দেখে সায়নী আবার বলে-
খালুর শরীর খারাপ না হলে মুনিরাকেও নিয়ে যেতে বলতাম।এখন বাসায়তো কারো থাকতে হবে উনার দেখাশোনার জন্য।
.
.
রাত ১২টা....
সায়নীর রুম থেকে নিজের রুমে আসে আফরান।মুনিরাকে না ঘুমিয়ে সোফার উপরে বসে থাকতে দেখে বলে-
ঘুমাওনি কেনো?
-আসছেনা।
-আজ সোফায় শোবে?
-হুম আজ আমার পালা।
-ঠিক আছে,আমি তাহলে খাটে শুয়ে যাই।
-ঠিক আছে।আপুর শরীর কেমন এখন?
-ভালোতো বলছে।
-ঘুমিয়েছে?
-হুম।
.
মায়ের কথা গুলো কানে বাজছে মুনিরার।
আজ আফরান আর সায়নীর কথাগুলো শুনে তার কেমন যেনো লাগছে।তাদের মাঝে আসলেই কি অন্য কোনো সম্পর্ক আছে!
মায়ের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে কি করবে সে!
.
.
.
সকাল ৭.০০টা.....
ঘুম থেকে উঠে সায়নী আজ আবার ড্রয়ারের কাছে গিয়ে ডির্ভোস পেপারটা দেখতে থাকে।
এতোদিন তারা মুনিরার মা-বাবা চলে যাওয়ার অপেক্ষা করছিলো।এখন চলে গিয়েও খালুকে বলতে পারছেনা তাদের সম্পর্কের কথা।আজ যদি খালুর শরীরটা ভালো থাকতো.....!
ড্রয়ারের ভেতর থেকে সায়নী একটি লকেট বের করে,যে লকেট-টি তাকে আফরান উপহার দিয়েছিলো।হাতের মাঝে লকেটটি নিয়ে চুমু খায় সে।
সেই সময় সায়নীর ফোন বেজে উঠে।টেবিলের উপর পেপার আর লকেটটি রেখে এগিয়ে যায় বিছানার দিকে।বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটি নিয়ে দেখলো মিশিকার ফোন।
সায়নী ফোন রিসিভ করে বারান্দার দিকে যেতে যেতে বলে-
সরি কাল আমি তোকে কল ব্যাক করতে পারিনি।আসলে শরীরটা ভালো ছিলোনা।
-কি হয়েছে?
-তেমন কিছু নয়।তুই কি বলতে চেয়েছিলি কাল?
-পাবেল তো আমাকে ফোন দেয়নি।ওর ফোন নাম্বারটা আমাকে দে।
-ওরে ওরে!!মেয়ে হয়ে কল দিবি?
-উফফ..মজা নিবিনা।
-আচ্ছা নিলাম না।কিন্তু ফোন নাম্বার দিতে পারিনা।মাইন্ড করতে পারে।তুই বরং ফেবু আইডি নে।যদি কাজ না হয় তখন না হয় নাম্বারের কথা ভাবা যাবে।
-চলবে,বল।
-ইংরেজি তে লিখবি,পাবেল আহম্মেদ।ছবি আছে দেখতে পাবি।
-তুইনা ফেবু ইউজ করিসনা?
-আফরানতো করে।ওকে দিয়েছিলো,দেখেছি তখন।
-ওকে,থ্যাংকইউ বান্ধবী।
.
মিশিকার সাথে কথা বলা শেষে রুমে পা বাড়াতেই থমকে যায় সায়নী।
টেবিলের উপরে রাখা ডির্ভোস পেপার আর লকেটটা মুনিরার হাতে দেখে সে।সায়নীকে দেখে ডেবডেব করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মুনিরা।টেবিলের উপরে হাত থেকে পেপার আর লকেট রেখে সায়নীর পাশে গিয়ে বলে-
তুমি আমার ভালো আপু!তুমি??
-মুনিরা তুমি যা দেখেছো...
-বিশ্বাস করতে পারছিনা আমি।আমার আর উনার ডির্ভোস পেপার,উনার আর তোমার ছবি দিয়ে লকেট তোমার কাছে।বাহ!
আমাকে আম্মা অনেক আগে থেকেই তোমাকে নিয়ে বলেছিলো যে তোমাকে তার সুবিধার লাগেনা।আমি তার কথা শুনিনি।
আজ দেখছি সত্যি....!
-মুনিরা...
-তোমাদের মাঝে কিছু থেকে থাকলে আমাকে কেনো ঠকালে বলো?কেনো এতোদিন বলোনি!তাহলে আমি উনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম না আর।
-বলতে চেয়েছিলাম তোমাই।
-কি চেয়েছো!এই মেয়েটা তোমাকে কতটা আপন ভেবেছে তুমি জানো?আর তুমি ওর ঘর ভাঙ্গতে বসে আছো!
-আমাদের আগে থেকেই...
-কি আগে থেকে!সম্পর্ক ছিলো?মানলাম ছিলো।কিন্তু উনার বিয়ের পর কি তোমার সরে যাওয়া উচিত ছিলোনা!আরে আমার বিশ্বাসের মান রাখার জন্য হলেও তুমি দূরে থাকতে উনার থেকে।
-শুনো...
একপ্রকার চেঁচিয়ে মুনিরা বলে উঠে-
কি শুনবো কি আমি!এখন তো তুমি উনার বাচ্চার মাও হতে যাচ্ছো।
-বাচ্চা!
-হুম বাচ্চা।লজ্জা করেনা তোমার?এভাবে উনার সাথে অবৈধ সম্পর্ক করতে?
.
কথাটি শুনে সায়নী নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে কষে একটা চড় বসিয়ে দেয় মুনিরার গালে।
সায়নীর এমন কাণ্ডে মুনিরা স্তব্ধ হয়ে যায়।
মুনিরাকে শান্ত অবস্থায় দেখে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস নিয়ে সায়নী বলে-
আমি কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়ায়নি।এক বছর আগেই আমার আর আফরানের বিয়ে হয়।
সায়নী কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যায় মুনিরা।
প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে সায়নীর দিকে তাকাতেই সায়নী বলে-
হুম এটা সত্যি।তুমি নিজের গুলোই বলে যাচ্ছো শুধু।অথচ তুমি জানো কোন পরিস্থিতিতে আফরান তোমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে।আর কি যেনো বলছিলে আমি কেনো সরিনি!আমি ওর প্রথম বউ।আমি কেনো সরবো!
মুনিরা এখনো কিছু বলছেনা,
শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।
.
সায়নী আবার বলতে শুরু করে-
বুঝতে পারছোনা এখনো?
আমি তোমাকে শুরু থেকেই সবটা খুলে বলছি।
.
মুনিরাকে শুরু থেকে সবটা খুলে বলে সায়নী।
সবটা শুনে কিছু না বলে চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমের দিকে এগুতে থাকে মুনিরা।
.
.
.
বিছানার উপর বসে আছে মুনিরা।প্রাণ থেকেও যেনো নেই তার।একটু আগে যা শুনেছে তা কি সত্যি!
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আফরান মুনিরার উদ্দেশ্যে বলে-
অফিস যাবো একটু পরে।সায়নীর শরীরতো খারাপ,নাস্তা আজ তুমি দাও।
বিছানা ছেড়ে উঠে আফরানের সামনে গিয়ে মুনিরা ছলছল চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
সায়নী আপু আপনার প্রথম বউ?
মুনিরার এমন প্রশ্নে চমকে যায় আফরান।
মুনিরা হঠাৎ এই প্রশ্নটা করেছে কেনো!ও কি কিছু জেনে গিয়েছে!
আফরান কিছু বলার আগেই মুনিরা বলে উঠে-
হুম আমি সবটা জেনে গিয়েছি।আপনারা এক বছর আগেই বিয়ে করেছেন।
-
-একটা প্রশ্নই শুধু করবো।আমি কি আপনার মনে আপনার জন্য আলাদা কোনো জায়গা বানাতে পারিনি?
আফরানকে চুপ থাকতে দেখে মুনিরা কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়ে।
মুনিরার এমন অবস্থা দেখে তাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য আফরান নিচু হয়ে নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাটু গেড়ে তার পাশে বসে বলে-
দেখো মুনিরা যা হয়েছে অন্যায় হয়েছে আমি জানি।কিন্তু...
আফরানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মুনিরা হঠাৎ তাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে-
আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।আমি আপুকে হিংসা করবোনা।কারণ আপুকেও আমি বোনের মতো ভালোবাসি।দয়া করে আমাকেও থাকতে দিন আপনার পাশে।যেভাবেই বিয়েটা হোক আমিও আপনার বউ।
.
আপাতত মুনিরাকে শান্তনা করার দরকার।পরে না হয় বুঝানো যাবে।এসব ভেবে আফরান তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে-
ঠিক আছে তুমি যা বলো তাই হবে এখন শান্ত হও।
.
এদিকে মুনিরার কি অবস্থা তা দেখার জন্য তাদের রুমে আসে সায়নী।কিন্তু আফরান ও মুনিরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে দেখে নিজেকে সামলাতে না পেরে চেঁচিয়ে বলে উঠে-
আফরান!
সায়নীকে দেখে আফরান ও মুনিরা দুজনি মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ায়।সায়নীর পাশে গিয়ে মুনিরা বলে-
আপু আমাকে মাফ করে দাও।অনেক কিছু বলেছি তোমাই না জেনে।
-এখনতো জেনেছো।এখন তোমার করণীয় কি নিশ্চয় জানো?
মুনিরা হঠাৎ করেই সায়নীর পা ধরে বলতে থাকে-
তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়োনা আমায়।এই বাসার যেকোনো একটা কোনায় আমি পড়ে থাকবো।আমিও যে উনাকে ভালোবেসে ফেলেছি আপু।
.
আফরানের দিকে তাকিয়ে দেখে সায়নী,আফরানের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।এই পানি কি মুনিরার জন্য!কিন্তু সে আফরানের ভাগ কাউকে দিতে পারেনা,কিছুতেই না।
মুনিরাকে উঠিয়ে সায়নী বলে-
মনে হচ্ছে আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়াল হয়ে দাঁড়িয়েছি এখন।আমার চোখের সামনে আফরানের জীবনে অন্য কারো উপস্থিতি আমি মেনে নিতে পারবোনা।তবে একটা কাজ করতে পারবো।নিজেই অনেক দূরে চলে গিয়ে তোমাদের মুক্তি দিতে পারবো।
.
আর কোনো কথা না বলে সায়নী দৌড়ে বাসার বাইরে চলে যায়।তার পেছনে ছুটে যায় আফরান আর মুনিরা।
আফরান ও মুনিরার ডাকে সায়নী থামেনা।
.
সায়নী বাসা থেকে বের হয়েই রাস্তায় নেমে ফুটপাত ধরে দৌড়াতে থাকে।তার পেছন পেছন ছুটতে থাকে আফরান আর মুনিরা।দূর্ভাগ্যবশত আফরান পা মচকে পড়ে যায় ফুটপাতে।কিন্তু মুনিরা সেদিকে ধ্যান না দিয়ে ছুটতে থাকে সায়নীর পেছনে।হঠাৎ সায়নী রাস্তার মাঝখানে যেতেই তার দিকে দ্রুত বেগে এগিয়ে আসতে থাকে একটি প্রাইভেট কার।
মুনিরা চেঁচিয়ে বলতে থাকে-
আপু সরো।
কিন্তু সায়নী ছুটতে থাকে দ্রুত গতিতে।
কোনো কথা যেনো তার কানে যাচ্ছেনা,কোনো কিছুই যেনো সে শুনছেনা।
এদিকে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সায়নীর খুব কাছাকাছি চলে আসতেই দূর থেকে আফরান চেঁচিয়ে বলে উঠে-
সায়নী....!
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)