ফিরে পাওয়া সেই অতীত - সাজি আফরোজ (পার্ট ৪)
নিজের রুমে বসে আছে নিপা।চোখে পানি নেই।শক্ত হয়ে গিয়েছে সে।বিশ্বাস ভঙ্গ হলে এতোটা কষ্ট হয় তার জানা ছিলোনা।সেদিন ভেবেছিলো তনয় এর ভাগ্যে কি সুখ নেই! আজ সে নিজেও সর্বহারা।
কেটে যায় আরো ২টি মাস।ঘর বন্দি করে রেখেছে নিজেকে নিপা।রাসেল আর খবর নেয়নি তার।হয়তো বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখী আছে।তবে আগে কেনো নিপাকে এসব জানায়নি সে!হয়তো নিপা শাস্তি দিবে ভেবে।
নিপার ফোনটা বেজে উঠলো।চিরচেনা সেই নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।হুম আর কারো নয় তনয় এর নাম্বার এটা।হাজার বছর পার হলেও যা ভূলা সম্ভব নয়।নিপা রিসিভ করে বলে-
হ্যালো তনয়?
-মনে রেখেছো আজো?তবে এতোদিন খবর নাওনি যে?
-ঠকানো হতো রাসেল কে।
-আজতো সে ঠকিয়ে চলে গেলো।
-তুমিও কি আমার খবর নিয়েছো?
-আড়ালে নিয়েছি।চেয়েছি ভালো থাকো।
কেটে যায় আরো ২টি মাস।ঘর বন্দি করে রেখেছে নিজেকে নিপা।রাসেল আর খবর নেয়নি তার।হয়তো বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখী আছে।তবে আগে কেনো নিপাকে এসব জানায়নি সে!হয়তো নিপা শাস্তি দিবে ভেবে।
নিপার ফোনটা বেজে উঠলো।চিরচেনা সেই নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।হুম আর কারো নয় তনয় এর নাম্বার এটা।হাজার বছর পার হলেও যা ভূলা সম্ভব নয়।নিপা রিসিভ করে বলে-
হ্যালো তনয়?
-মনে রেখেছো আজো?তবে এতোদিন খবর নাওনি যে?
-ঠকানো হতো রাসেল কে।
-আজতো সে ঠকিয়ে চলে গেলো।
-তুমিও কি আমার খবর নিয়েছো?
-আড়ালে নিয়েছি।চেয়েছি ভালো থাকো।
আমার চাওয়াতে কিছু হবেনা তা আমার জানা ছিলোনা।
-আচ্ছা আমরা তো আমাদের বিবাহিত জীবনে কোন খুত রখিনি।একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ ও করিনি।ঠকাতে চাইনি তাদের তাহলে তারা কেনো আমাদের ঠকিয়ে চলে গেলো বলতে পারো?
-সবই ভাগ্য।
নয়ন থেকে নিপার নাম্বার নিয়েছিলো তনয়।
জানতো নিপা কষ্টে আছে।তবে তাদের বাসায় যাওয়াটা ঠিক মনে করলোনা।এই ২মাসে নিপার কোন খবর ও পাওয়া যাচ্ছিলনা।
নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে মেয়েটা।তাই আর না পেরে নয়ন থেকে নিপার নাম্বার নেয় সে।
আর সেদিন থেকেই শুরু হয় নিপার সাথে আবার কথা বলা।খুব বেশি না হলেও হতো কথা।
একদিন.....
-হ্যালো নিপা?
-হুম বলো তনয়।
-বের হবা?চলো কোথাও ঘুরতে যাই।এখনতো কোনো বাধা নেই।
-তা নেই।তবে......
-না তোমার যেতে হবে।নাহলে...
-কি?
-তুলে নিয়ে ঘুরতে যাবো।
-হাহা।এইভাবে বললে আগে ভয়ে বের হতাম বাসা থেকে।কিন্তু তখন ছোট ছিলাম আর এখন আমি বড় মেয়ে।
দুজনে হাসির রাজ্যে চলে গেলো....
আজ প্রায় অনেকবছর পর নিপা-তনয় একসাথে।সেই বিয়ের ১বছর ৬মাস পর দূর থেকে দুজন দুজনকে দেখেছিলো আর দেখা হয়নি।হয়নি বললে ভূল হবে তারা করেনি।
সমুদ্রের পাড়ে বসে আছে দুজনে চুপচাপ।
তাদের যে ভাগ্য আবার এভাবে দেখা করাবে কল্পনা করেনি তারা।ঘণ্টা খানেক সাথে থাকলেও তেমন কথা হয়নি তাদের।দুজনি বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করেছে।
আস্তে আস্তে কথা বাড়তে থাকে নিপা-তনয় এর।রাত জেগে কথা বলে যেমন টা আগে বলতো।ছাদে যায় নিপা,তনয় সেই চিরচেনা রাস্তায় দাঁড়ায়,দুজন দুজন কে দেখে।বেশ কয়েকবার দেখাও করে তারা।ছেলেবেলার সেই দিনগুলোর মতো করে কাটতে থাকে তাদের দিন।
হঠাৎ নিপা যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।ছাদেও উঠেনা।তনয় বারবার জিজ্ঞেস করাতেও কিছু বলেনা।
একরাতে রাতের ৩টাই তনয় নিপাকে ফোন দেয়।এতো রাতে কোনো বিপদ হলো কিনা এই ভেবে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ আসে।মনে পড়ে গেলো আগের কথা।নিপা রাগ করে কথা না বললে তনয় এভাবে বাচ্চাদের মতো কান্না করতো।তাহলে কি আজ ও.....!
লাইন কেটে দিতে যাবে সেই সময় তনয় বলে উঠে-
নিপা কেনো এতো কষ্ট দিচ্ছ?আরেকবার তোমাকে নিজের করে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছি....
(আর বলতে না দিয়ে নিপা বলে উঠলো)--
এটাইতো আমার ভয়।
-কিসের ভয়?
-তুমি জানোনা রাসেল আমায় কেনো ছেড়েছে?আমি মা হতে পারবোনা কখনো।
-তাতে অসুবিধা টা কি?
-বুঝতে পারছোনা?
-চাইনা বুঝতে।আমি এই সুযোগ হারাতে চাইনা।তোমাকেও আর হারাতে চাইনা।
আমাকে একটা সুযোগ দাও নিপা প্লিজ।
-না তা হয়না।
-কেনো হয়না???
-আমার জন্য কেনো তুমি কষ্ট পাবা?
-তুমি আমার জীবনে না আসলেই আমি কষ্ট পাবো।হয়তো এবার আর সহ্য করতে পারবোনা।
সবটা ভেবে নিপা তার মার কাছে যায়।কিন্তু এমন একটা কথা শুনে যা শুনতে সে প্রস্তুত ছিলোনা।
.
নিপার জন্য পাত্র এসেছে।টাকার বিনিময়ে নিপাকে বিয়ে করতে রাজি।
নিপা কোন ভয় ছাড়া জানিয়ে দেয় তনয় কে সে বিয়ে করতে চায়।
তনয় অনেক আগেই চাকরী ছেড়ে বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান দিয়েছিলো।একজন মুদি দোকানদার নিপার স্বামী হবে নিপার মা মানতে নারাজ।
এদিকে নিপা মা হতে পারবেনা জেনে তনয় এর মা ও এই বিয়েতে রাজী নন।
তাহলে এবারেও তারা এক হতে পারবেনা! পরিবারের কথা ভেবে তারা দূরে সরে গিয়েছিলো।সঙ্গীর কথা ভেবে তারা কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করেনি।
এসবের ফলস্বরূপ পেয়েছে ধোঁকা আর কষ্ট।যেটা তাদের প্রাপ্য ছিলোনা।তাই এবার তারা নিজেদের নিয়ে ভাববে।নিজেদের একটা সুযোগ দিবে।
দুজনেই তাদের পরিবারকে জানিয়ে দেয় পরিবারের দ্বারা সম্ভব না হলে তারা নিজেদের সংসার নিজেরা শুরু করবে সবার থেকে দূরে সরে গিয়ে।
কিন্তু তাদের এই কথাতেও কারো পরিবারের মন গলেনি।তাই তারা অন্য সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
হ্যাঁ যেটা তারা আগে করেনি আজ তারা নিজেদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সেটাই করলো।
-এই ছাড়া আর উপায় নেই নিপা।
-কিন্তু এভাবে চলে যাওয়াটা কি ঠিক হবে?
-তা হবেনা।তবে আরতো উপায় নেই।একবার বিয়ে হলে গেলে মেনে নিবে।
-যদি না মানে?
-ভরসা নেই আমার উপর?
-আছে।
-না মানলে আমি কি ছেড়ে দিবো তোমায়!আমরা এখন ছোট নেই।কোন ব্যবস্থা হয়ে যাবে থাকার।তুমি আজ ভোর ৪টাই বের হবা।
-ভোর ৪টাই কেনো বের হবো?
কাজী অফিসে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করা যায়?
-হাহা।আরে কারো নজরে না পড়ার জন্য তাড়াতাড়ি বের হবো।এখন পরিস্থিতি যেইরকম তোমার কি মনেহয় তোমাকে বাসা থেকে বের হতে দিবে?
-আমি কি বাচ্চা মেয়ে!কেনো দিবেনা?
-তোমার মায়ের কাছেতো বাচ্চা।অবশ্য আমার কাছেও।
দেখছোনা সব কিভাবে বুঝিয়ে বলতে হচ্ছে।
-হুম।
-শুনো বিয়ে করে চলে আসবো আবার।যদি না মানে তখন দেখা যাবে কি হবে।
-ঠিক আছে।
কথামতো তারা ভোর ৪টই তারা বের হয়ে যায়।কিন্তু কিছুদূর যেতেই নিপা আর তনয় দেখতে পায় তাদের মা-রা দাঁড়িয়ে আছে!
নিপার মা-কাল রাতে ফোনে কথা বলার সময় সবটা শুনেছি আমি।তারপরেই তনয় এর মাকে সবটা জানাই আমি।
নিপা-মা...
-থাক কিছু বলতে হবেনা।এই বুড়ো বয়সে পালাতেও হবেনা।আমরা নিজে দাঁড়িয়ে তোদের বিয়ে দিবো।এবার আর ভূল করবোনা।
তনয়ের মা-হুম আমিও একমত।আমারো আপত্তি নেই।
বাসর ঘরে সবুজ রঙ এর শাড়ি পড়ে বসে আছে নিপা।বউ মানেই লাল শাড়ি নয়।লাল শাড়ি পরে একবার নতুন জীবন শুরু করেছিলো।কিন্তু এবার সে তনয় এর প্রিয় রঙ এর শাড়ি পরে,প্রিয় তাজা গোলাপি গোলাপের গহনা পরে সাধারণ ভাবেই বিয়ে করেছে।
তনয় এর কাছে তাকে প্রকৃতির পরীর মতো লাগছে।
মানুষের অতীত গুলো অনেকটা সপ্নের মতো,
শুধুই অনুভব করা যায়।
ধরা বা ফিরে পাওয়া যায় না।
কিন্তু নিপা-তনয় এর ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা।প্রায় ছয় বছর আগে তাদের বিয়েটা না হলেও ভাগ্য তাদের আবার একসাথে করেছে,আরেকটা সুযোগ দিয়েছে।এভাবে অতীত আবার ফিরে পাবে ভাবেনি তারা।
-তনয় একটা গান শোনাবে?
-আমার গানের গলা এতো ভালোনা তুমিতো জানো।
-আমার ভালো লাগে।
-কিন্তু....
-কোন কিন্তু নয়।শুনাতেই হবে।বাসর রাতে বউ এর কথা শুনতে হয়।
-তাই নাকি!ঠিক আছে শুনাচ্ছি।
নিপার হাত ধরে তনয় গান শুরু করে-
"বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
আজকে আমার প্রাণ পেয়েছে
অনেক নতুন ভাষা
অনেক দিনের স্বপ্ন যে
অনেক দিনের আশা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
তোমায় পেয়ে হয় যে মনে
আর জনমেও সাথে ছিলাম
আমরা দুজন মনের সুখে
অনেক জনম ঘুরে এলাম
চিরদিনই থাকবে একই
আমাদের এই ভালবাসা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
তুমি আমার অনেক আপন
মেনে নিয়েও বলে এমন
হওনা তুমি আরো কাছে
হওনা তুমি আরো আপন
এক সাগরে মিলবো বলে
তোমার আমার স্রোতে ভাষা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
আজকে আমার প্রাণ পেয়েছে
অনেক নতুন ভাষা
অনেক দিনের স্বপ্ন যে
অনেক দিনের আশা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি!"
আজ প্রায় অনেকবছর পর নিপা-তনয় একসাথে।সেই বিয়ের ১বছর ৬মাস পর দূর থেকে দুজন দুজনকে দেখেছিলো আর দেখা হয়নি।হয়নি বললে ভূল হবে তারা করেনি।
সমুদ্রের পাড়ে বসে আছে দুজনে চুপচাপ।
তাদের যে ভাগ্য আবার এভাবে দেখা করাবে কল্পনা করেনি তারা।ঘণ্টা খানেক সাথে থাকলেও তেমন কথা হয়নি তাদের।দুজনি বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করেছে।
আস্তে আস্তে কথা বাড়তে থাকে নিপা-তনয় এর।রাত জেগে কথা বলে যেমন টা আগে বলতো।ছাদে যায় নিপা,তনয় সেই চিরচেনা রাস্তায় দাঁড়ায়,দুজন দুজন কে দেখে।বেশ কয়েকবার দেখাও করে তারা।ছেলেবেলার সেই দিনগুলোর মতো করে কাটতে থাকে তাদের দিন।
হঠাৎ নিপা যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।ছাদেও উঠেনা।তনয় বারবার জিজ্ঞেস করাতেও কিছু বলেনা।
একরাতে রাতের ৩টাই তনয় নিপাকে ফোন দেয়।এতো রাতে কোনো বিপদ হলো কিনা এই ভেবে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ আসে।মনে পড়ে গেলো আগের কথা।নিপা রাগ করে কথা না বললে তনয় এভাবে বাচ্চাদের মতো কান্না করতো।তাহলে কি আজ ও.....!
লাইন কেটে দিতে যাবে সেই সময় তনয় বলে উঠে-
নিপা কেনো এতো কষ্ট দিচ্ছ?আরেকবার তোমাকে নিজের করে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছি....
(আর বলতে না দিয়ে নিপা বলে উঠলো)--
এটাইতো আমার ভয়।
-কিসের ভয়?
-তুমি জানোনা রাসেল আমায় কেনো ছেড়েছে?আমি মা হতে পারবোনা কখনো।
-তাতে অসুবিধা টা কি?
-বুঝতে পারছোনা?
-চাইনা বুঝতে।আমি এই সুযোগ হারাতে চাইনা।তোমাকেও আর হারাতে চাইনা।
আমাকে একটা সুযোগ দাও নিপা প্লিজ।
-না তা হয়না।
-কেনো হয়না???
-আমার জন্য কেনো তুমি কষ্ট পাবা?
-তুমি আমার জীবনে না আসলেই আমি কষ্ট পাবো।হয়তো এবার আর সহ্য করতে পারবোনা।
সবটা ভেবে নিপা তার মার কাছে যায়।কিন্তু এমন একটা কথা শুনে যা শুনতে সে প্রস্তুত ছিলোনা।
.
নিপার জন্য পাত্র এসেছে।টাকার বিনিময়ে নিপাকে বিয়ে করতে রাজি।
নিপা কোন ভয় ছাড়া জানিয়ে দেয় তনয় কে সে বিয়ে করতে চায়।
তনয় অনেক আগেই চাকরী ছেড়ে বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান দিয়েছিলো।একজন মুদি দোকানদার নিপার স্বামী হবে নিপার মা মানতে নারাজ।
এদিকে নিপা মা হতে পারবেনা জেনে তনয় এর মা ও এই বিয়েতে রাজী নন।
তাহলে এবারেও তারা এক হতে পারবেনা! পরিবারের কথা ভেবে তারা দূরে সরে গিয়েছিলো।সঙ্গীর কথা ভেবে তারা কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করেনি।
এসবের ফলস্বরূপ পেয়েছে ধোঁকা আর কষ্ট।যেটা তাদের প্রাপ্য ছিলোনা।তাই এবার তারা নিজেদের নিয়ে ভাববে।নিজেদের একটা সুযোগ দিবে।
দুজনেই তাদের পরিবারকে জানিয়ে দেয় পরিবারের দ্বারা সম্ভব না হলে তারা নিজেদের সংসার নিজেরা শুরু করবে সবার থেকে দূরে সরে গিয়ে।
কিন্তু তাদের এই কথাতেও কারো পরিবারের মন গলেনি।তাই তারা অন্য সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
হ্যাঁ যেটা তারা আগে করেনি আজ তারা নিজেদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সেটাই করলো।
-এই ছাড়া আর উপায় নেই নিপা।
-কিন্তু এভাবে চলে যাওয়াটা কি ঠিক হবে?
-তা হবেনা।তবে আরতো উপায় নেই।একবার বিয়ে হলে গেলে মেনে নিবে।
-যদি না মানে?
-ভরসা নেই আমার উপর?
-আছে।
-না মানলে আমি কি ছেড়ে দিবো তোমায়!আমরা এখন ছোট নেই।কোন ব্যবস্থা হয়ে যাবে থাকার।তুমি আজ ভোর ৪টাই বের হবা।
-ভোর ৪টাই কেনো বের হবো?
কাজী অফিসে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করা যায়?
-হাহা।আরে কারো নজরে না পড়ার জন্য তাড়াতাড়ি বের হবো।এখন পরিস্থিতি যেইরকম তোমার কি মনেহয় তোমাকে বাসা থেকে বের হতে দিবে?
-আমি কি বাচ্চা মেয়ে!কেনো দিবেনা?
-তোমার মায়ের কাছেতো বাচ্চা।অবশ্য আমার কাছেও।
দেখছোনা সব কিভাবে বুঝিয়ে বলতে হচ্ছে।
-হুম।
-শুনো বিয়ে করে চলে আসবো আবার।যদি না মানে তখন দেখা যাবে কি হবে।
-ঠিক আছে।
কথামতো তারা ভোর ৪টই তারা বের হয়ে যায়।কিন্তু কিছুদূর যেতেই নিপা আর তনয় দেখতে পায় তাদের মা-রা দাঁড়িয়ে আছে!
নিপার মা-কাল রাতে ফোনে কথা বলার সময় সবটা শুনেছি আমি।তারপরেই তনয় এর মাকে সবটা জানাই আমি।
নিপা-মা...
-থাক কিছু বলতে হবেনা।এই বুড়ো বয়সে পালাতেও হবেনা।আমরা নিজে দাঁড়িয়ে তোদের বিয়ে দিবো।এবার আর ভূল করবোনা।
তনয়ের মা-হুম আমিও একমত।আমারো আপত্তি নেই।
বাসর ঘরে সবুজ রঙ এর শাড়ি পড়ে বসে আছে নিপা।বউ মানেই লাল শাড়ি নয়।লাল শাড়ি পরে একবার নতুন জীবন শুরু করেছিলো।কিন্তু এবার সে তনয় এর প্রিয় রঙ এর শাড়ি পরে,প্রিয় তাজা গোলাপি গোলাপের গহনা পরে সাধারণ ভাবেই বিয়ে করেছে।
তনয় এর কাছে তাকে প্রকৃতির পরীর মতো লাগছে।
মানুষের অতীত গুলো অনেকটা সপ্নের মতো,
শুধুই অনুভব করা যায়।
ধরা বা ফিরে পাওয়া যায় না।
কিন্তু নিপা-তনয় এর ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা।প্রায় ছয় বছর আগে তাদের বিয়েটা না হলেও ভাগ্য তাদের আবার একসাথে করেছে,আরেকটা সুযোগ দিয়েছে।এভাবে অতীত আবার ফিরে পাবে ভাবেনি তারা।
-তনয় একটা গান শোনাবে?
-আমার গানের গলা এতো ভালোনা তুমিতো জানো।
-আমার ভালো লাগে।
-কিন্তু....
-কোন কিন্তু নয়।শুনাতেই হবে।বাসর রাতে বউ এর কথা শুনতে হয়।
-তাই নাকি!ঠিক আছে শুনাচ্ছি।
নিপার হাত ধরে তনয় গান শুরু করে-
"বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
আজকে আমার প্রাণ পেয়েছে
অনেক নতুন ভাষা
অনেক দিনের স্বপ্ন যে
অনেক দিনের আশা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
তোমায় পেয়ে হয় যে মনে
আর জনমেও সাথে ছিলাম
আমরা দুজন মনের সুখে
অনেক জনম ঘুরে এলাম
চিরদিনই থাকবে একই
আমাদের এই ভালবাসা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
তুমি আমার অনেক আপন
মেনে নিয়েও বলে এমন
হওনা তুমি আরো কাছে
হওনা তুমি আরো আপন
এক সাগরে মিলবো বলে
তোমার আমার স্রোতে ভাষা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি
আজকে আমার প্রাণ পেয়েছে
অনেক নতুন ভাষা
অনেক দিনের স্বপ্ন যে
অনেক দিনের আশা
বলছি তোমার কানে কানে আমার তুমি
বলছি আমার গানে গানে আমার তুমি!"
(সমাপ্তি)

Comments
Post a Comment