বান্ধবী - সাজি আফরোজ (পর্ব ৪)


ঘুম থেকে উঠে লাল রঙের কামিজ পরে নিলো মুনিয়া। শুনেছিলো, প্রেমে পড়লে রঙ-বেরঙের কাপড় পরতে ভালো লাগে। প্রেমে না পড়লে কথাটির সত্যটা প্রমাণই হতোনা।
আজ সে ঝুমুকে নিজের মনের কথা জানাবে। তারপরেই ইমরুলকে। ভাবতেই মুখে লালচে আবরণ ধারণ করছে মুনিয়ার। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে বললো-
আর একটু লজ্জা পেলেই তো লাল টমেটো হয়ে যাবো!
.
.
এদিকে ঝুমুও লাল রঙের একটা সুতির গাউন পরেছে। হাতে কাচের চুড়ি। আজ তার সাজতে ভীষণভাবে ইচ্ছে করছে।
মুনিয়াকে সবটা জানাতে চায় সে। নিশ্চয় মুনিয়া খুব খুশি হবে সে প্রেমে পড়েছে শুনে?
.
.
মোবাইলে তোলা দুই বান্ধবীর ছবি দেখে চলেছে ইমরুল। বেশকিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে সে। তার পাশে যে অনেকক্ষণ যাবৎ ফারুক বসে আছে টেরই পায়নি। ফারুক হালকা কেশে বললো-
তোমার কি দুইটারেই পছন্দ? না মানে দুজনের ছবিই দেখতাছো?
.
ইমরুল জবাব দিলো-
আলাদা কোনো ছবি নেই তাই।
.
কথাটি বলেই জ্বীভে কামড় বসালো ইমরুল। পিচ্চি ছেলেটার সামনে কি বলে ফেললো সে!
ফারুক উচ্চ শব্দে হেসে বলে উঠলো-
এই জন্যই বলি ভাই আমার এতোদিন এখানে কি করে থাকছে!
.
ইমরুল আমতাআমতা করে বললো-
কি, কি বলিস তুই এসব হাবিজাবি! ওরা আমার ফ্রেন্ড।
-জাস্ট ফ্রেন্ড তো একজন। কোনটা মেইন, ওইটা তো বলো?
-পিচ্চি বাচ্চা এতো পেকেছিস কি করে!
-পিচ্চি বাচ্চা! আমার গফ ক্লাস এইটে পড়ে৷ হু!
-তোর আবার গফও আছে! এখুনি মামীকে বলছি...
-আমিও তোমার গোপন তথ্য ফাঁস করে দিবো।
-আমার কোনো গোপন তথ্য নেই।
-ঠিক আছে, আমি তাহলে বলেই দিই। না থাকলে ভয় কিসের!
.
কিছুক্ষণ ফারুকের মুখের দিকে তাকিয়ে ইমরুল বললো-
কি চাই বল?
-৫০০টাকা৷ মধুকে ভালো একটা উপহার দিবো।
-মধু!
-আমার গফ এর নাম।
.
মুখটা ফ্যাকাশে করে পকেট থেকে ৫০০টাকার নোট বের করে ইমরুল বললো-
এটাই প্রথম এবং শেষ কিন্তু!
.
.
-বাহ বা! ঝুমু আজ লাল পরী হয়ে গিয়েছে!
.
মুনিয়ার কথা শুনে মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে ঝুমু বললো-
মুনিয়াও দেখি লাল পরী হয়েছে। ব্যাপার টা কি শুনি?
-আগে তোর ব্যাপার টা বল?
-আমি তো বলার জন্যই তোর বাসায় যেতাম এখন।
-আমিও বলার জন্যই এসেছি।
-তাহলে তুই আগে বল?
-না তুই আগে।
-আরে তুই বল!
-না আগে তুই।
.
ঝুমু দুইটা কাগজ ও কলম এনে বসে পড়লো বিছানার উপরে। একটা করে মুনিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো-
তুই এখানে লিখ, আমিও লিখি। লেখা শেষে নিজের কাগজ একে অন্যকে দিবো। তাহলে এক সাথেই জানা হবে।
.
ঝুমুর হাত থেকে কাগজ ও কলম নিয়ে বসতে বসতে মুনিয়া বললো-
গুড আইডিয়া।
.
দুই বান্ধবী লেখা শুরু করলো।
ঝুমু লিখলো-
জীবনে প্রথমবারের মতো প্রেমে পড়েছি! প্রেমে পড়েছি বললে ভুল হবে। ভালোবেসেছি আমি! হ্যাঁ আমি ভালোবাসি ইমরুলকে।
.
মুনিয়া লিখলো-
সে শুধু আমার ক্রাশ নয়। আমার ভালোবাসাও। ইমরুলকে ভালোবেসে ফেলেছি রে!
.
লেখা শেষ করে দুজন দুজনের হাতে নিজেদের কাগজ দিয়ে দিলো।
হাসিমুখে কাগজ নিলেও লেখা পড়ে দুজনের মুখেই অন্ধকার নেমে এলো।
প্রিয় বান্ধবী কাউকে ভালোবেসেছে, এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হবার কথা ছিলো তাদেরই। কিন্তু হলো এর উল্টোটায়।
দুজন দুজনের মুখের দিকে নীরবে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।
ঝুমু নীরবতা ভেঙে বললো-
আমি এটা মজা করেছি।
.
তার কথা শুনে মুনিয়া বললো-
না আমি মজা করেছি।
.
আবারো দুজনে নিশ্চুপ হয়ে গেলো।
আচমকা শব্দ করে হেসে উঠলো মুনিয়া।
ঝুমু বললো-
হাসছিস যে?
.
ঝুমু হাসতে হাসতেই বললো-
আমরা প্রথম বারের মতো প্রেমে পড়েছি। তাও আবার এক ছেলে...
.
পুরো কথা শেষ না করেই হাসতে থাকলো মুনিয়া।
ঝুমু বললো-
আমার কেনো যেনো মনেহয়েছে সে আমাকে ভালোবাসে। হয়তো এটা আমার বোঝার ভুল।
-আমারো তাই মনে হয়েছে। তবে আমার মনে হবার কারণ আছে।
-কি কারণ?
.
মুনিয়া চ্যাটের কথা ঝুমুকে জানালো এবং সব মেসেজ দেখালো। ঝুমু ভেবে কথা বললেও, মুনিয়ার কথাই অনেকবার জিজ্ঞাসা করতো ইমরুল।
এরপর ঝুমু তাকে কাল রাতের মেসেজ দেখিয়ে বললো-
কেয়ার তো আমাকে নিয়েও করেছে। তাই আমিও.... আচ্ছা এসব বাদ দে। আমার কাছে ওর চেয়ে আমাদের বন্ধুত্ব বড়। আমি সরে যাবো।
-আমার কাছে তুই বড় না?
-তা না! কিন্তু এই মুহুর্তে এই ছাড়া উপায় নেই।
.
কিছুক্ষণ ভেবে মুনিয়া বললো-
ইমরুল ভীষণ একটা ভালো ছেলে। ওর মতো একটা ছেলে তোর লাইফে আসলে যেমন আমি খুশি হবো তেমনি আমার লাইফে আসলে তুই খুশি হবি। তাইতো?
-হ্যাঁ।
-আমরা নিজেদের চিন্তা করছি। কিন্তু ইমরুলের মনে কি আছে সেটাই জানিনা।
-আসলেই!
-সে কাকে ভালোবাসে এটা আমরা জানিনা।
-কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
-ইমরুল যাকে ভালোবাসবে সে তার! এটাই বলতে চাচ্ছি। যদি তোকে ভালোবাসে আমার তো কোনো সমস্যা নেই। আর যদি আমাকে ভালোবাসে...
-আমারো কোনো সমস্যা নেই।
-তাহলে তো হলোই! আমাদের পরের মিশন, ইমরুল কাকে ভালোবাসে সেটা জানা। ডান?
-হু, ডান।
-আচ্ছা আমি এখন যাই।
.
মুনিয়া চলে যাচ্ছে।
ঝুমুর চোখে অশ্রুকণা! সে কি করে বুঝলোনা, মুনিয়া ভালোবাসে ইমরুলকে? জানলে কখনোই নিজের মনের কথা জানাতোনা মুনিয়াকে।
.
এদিকে মুনিয়া নিজেরমনে বলতে থাকলো-
আমি ওকে ভালোবাসি জানার পর ইমরুল থেকে দূরে থাকতে চায়বি তুই। তাই এসব বলা। এখন মনে প্রাণে এটাই চাই, ইমরুল তোকেই ভালোবাসুক!
.
চলবে

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)