ডিটেকটিভ তিশা - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ২)
বাসায় ফিরতেই বর্ণ হুরাইরা দুজনেই চিন্তিত মাখা কন্ঠে তিশার সামনে এত্তো গুলো প্রশ্ন দাড় করিয়ে দেয়।
কিন্তু তিশা তাদের কোন কথারই উত্তর দিতে পারছে না।
কারণ তার মনের ভেতর চলতে থাকা প্রশ্ন গুলোর উত্তর তাকে খুঁজে বের করতে হবে।
বর্ণও তাকে একটু একা ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে।
কারণ সে জানে এখন কোন ভাবেই তার সাথে কথা বলা সম্ভব না।
তিশা তাড়াতাড়ি মোবাইলটি বের করে সাব্বিরকে ফোন দেয়।
কিন্তু সাব্বির ফোন তুলছে না।
হঠাৎ হুরাইরা আবার চিৎকার করে উঠলো ভাইয়া তিশা আপু।
কিন্তু তিশা এবার হুরাইরার ডাকে সারা দিলো না।
কারণ তিশা জানে মেয়েটা আবার তার বেড়াল নিয়ে কাহিনী শুরু করে দিবে।
কিছুক্ষণের মধ্যে বর্ণও তিশাকে ডাকাডাকি শুরু করে দিলো।
- এই যে দেখে যাও টিভিতে।
তিশা তাড়াতাড়ি ড্রয়িং রুমে চলে আসলো।
টিভিতে আমিন সাহেবের মৃত্যুর খবর দেখাচ্ছে।
পুলিশ এটিকে গ্যাং ওয়ার বলে সন্দেহ করছে।
তিশা চুপ করে বসে থাকে।
হুরাইরা আর বর্ণ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
বর্ণ- তুমি তো বলেছিলে আমিনই সব। এখন এসব কি হচ্ছে?
তিশা- আমিও সেটাই ভাবছি!
তবে তিশা ভাবছে অন্য কিছু টিভিতে একবারও ঐ আচড়ের দাগের কথা পুলিশ উল্ল্যেখ করেনি।
এদিকে হুরাইরা তার বিড়ালটিকে সকাল থেকে খুঁজে পাচ্ছে না।
খুজতে খুজতে ছাদে গিয়ে দেখে
মিমি কি যেনো খাচ্ছে,
হুরাইরা - ওহ তুই এইখানে না?
কার বাড়ি থেকে মাছ চুরি করে খাওয়া হচ্ছে শুনি?
এই বলে তাকে কোলে নিয়ে ঘরে নিয়ে এলো।
কিন্তু হুরাইরা ভাবলো মিমি তো কখনো বাড়ির ছাদে কি বাইরেও তো যায় না।তাহলে এত্তো বড় মাছ সে পেলো কই?
তিশাও আসার পর থেকে সাব্বির কে ফোনে ট্রাই করেও পাচ্ছে না।
এমন সময় বর্ণ এসে বললো
-তিশা তিশা আমি প্রজেক্টটার কাজ পেয়ে গিয়েছি।
তিশা এবার অনেকটা খুশি হলো
কারণ মোটামুটি অভাবেই তাদের দিন যাচ্ছিলো।
বর্ণ কিছুটা মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে রইলো।
তিশা- কি হলো? এতো খুশির একটা সংবাদ দিয়ে মুখ কালো করে আছো?
বর্ণ- কাজটি করার জন্যে শহরের বাইরে যেতে হবে।আর ওখানে কয়েকদিন থাকতে হবে।আর আমি তুমি এইভাবে একা রেখে যেতে পারবো না।
তিশা- উহু, তুমি চিন্তা করো না হুরাইরা তো আছেই।
বর্ণ- আমি তোমার কাজের কথা বলছি। টিভি তে কি গ্যাং জড়িত বললো এসবে।প্লিজ তুমি এই কেইসটা থেকে দূরে থাকো।
- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। তুমি কাজে মন দাও।
কখন বের হচ্ছো?
- এইতো বিকেলে।
তিশা মনে মনে একটু রিলেক্স হলো। কারণ সে জানতো বর্ণ থাকলে এরকম কাজ তাকে কখনোই করতে দিতো না।
.................
বিকেলে বের হওয়ার সময় হুরাইরাকে বর্ণ একটি লাল রং এর ট্যাবলেট দিয়ে মিমিকে খাওয়াতে বললো।আর এটাই তার জন্যে শেষ ফরমুলা।
তিশার তখনো ঘুমোচ্ছে।
হুরাইরা তিশাকে ডেকে দিতে চাইলেও বর্ণ নিষেধ করে।
আজ খুব সকালে সে উঠেছে কি না তাই।
বর্ণ তিশার কপালে একটি চুম্বন স্পর্শ করেই বেড়িয়ে পরলো।
ঘুম থেকে উঠতেই তিশার খুব মাথা ব্যথা শুরু হয় আর বর্ণমালা বলে ডাকাডাকি করে,
হুরাইরা - ভাইয়া তো চলে গিয়েছে সে কবে।
তিশা রেগে মেগে বর্ণকে ফোন করলে ফোনটাও সুইচড অফ।
তিশা ভাবলো হইতো মিটিংয়ে আছে।
সাব্বিরকে আরেক বার ট্রাই করা যাক।
প্রথম বিপ এই সাব্বির ফোন রিসিভ করে
- হ্যালো
- এই তুই কোথায়? তোকে আমি ফোনে কতবার ট্রাই করেছি
- আমি গ্রামের বাড়ি এসেছি সকালে। আর তুই তো জানসই গ্রাম মানে নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রচুর প্যারা।
সাব্বিরের কন্ঠ তিশার কেমন জানি মনে হলো।
ঠিক যেনো কান্নার মাঝে চাপা গলা কিন্তু সাব্বির কিছুতেই সেটা তিশাকে বুঝতে দিতে চায় না।
- এই তুই কি কাদছিস?
- আরেহ না কাঁদবো কেনো?
গলাটা একটু ঝাড়ি খেয়ে বললো।
তিশা- আচ্ছা তুই আমার বাসায় আসতে পারবি কখন?
- আজ তো সম্ভব না। কাল আসি?
- ওকে ডান।
......
সাব্বির আর তিশা খুব ভালো বন্ধু হলেও আজ পর্যন্ত তিশা সাব্বিরের সম্পর্কে কোন কিছুই জানতে চায়নি।
একদিন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন খবর আসে সাব্বিরের মা মারা যায়।
সাব্বিরকে সবাই শান্তনা দিলেও শুধু তিশা তার সাথে এই নিয়ে কথা বলে না।
এরপর থেকে সাব্বিরের মনে হতে লাগলো এতো পাথর মন কেমনে একটি মেয়ের হতে পারে?
তবুও সাব্বির তিশাকে কখনো একা ছাড়ে নি।
সব সময় তিশার সাথে থাকতো।তবে তিশাও নিজ সম্পর্কে কখনক কিছু বলেনি।
নিজের জীবনের সব কিছু যেনো সে আড়াল করে রেখেছিলো সবার কাছ থেকে।
তিশার স্কুলের খরচ সব সাব্বির বহন করতো।
এতো কিছু একটি মেয়ের জন্যে করা মানে বুঝতেই পারছেন।
সাব্বির তিশাকে খুব ভালোবাসে।
কিন্তু তাকে কখনো বলেনি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
ভার্সিটি লাইফে গিয়ে বর্ণের সাথে পরিচয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব,
বন্ধুত্ব হতে এক সময় ভালোবাসায় পরিণত হলো।
কিন্তু সাব্বির এখনো তিশাকে ভালোবাসে আর বন্ধু হয়েই পাশে আছে।
বর্ণ তিশা দু'জনেরই মা বাবা পৃথিবী ত্যাগ করেছে অনেক আগে।
তাই দুজন দু'জনের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বাস অন্যদের তুলনায় অনেক গুন অধিক বললেই চলে।
.............
হুরাইরা লাল ট্যাবলেটটি নিয়ে তাত বিড়াল কে খাওয়াতে যাবে এমন সময় সে খেয়াল করলো বিড়ালটির গলায় একটি সুন্দর বেল্ট ঝুলানো।যার এক পাশ দিয়ে আবছা লাল রশ্মি বের হচ্ছে।
হুরাইরা - বাহ তোর জন্যে তো ভাইয়া খুব সুন্দর একটি বেল্টও দিয়ে গেছেন।
.....
রাতে তিশা আর হুরাইরা বসে বর্ণের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলো এমন সময় জানালা ভেঙে কি যেনো বাসায় এসে পড়লো।
হুরাইরা কিছুটা ভয় পেয়ে যায় আর বর্ণকে বলতে গেলে তিশা ইশারা করে মানা করে দেয়।
বর্ণ- কিসের শব্দ এটা?
তিশা- আর বলো না বিড়ালটা টেবিল থেকে গ্লাসটা ফেলে দিলো।
বর্ণ- কিন্তু মিমি তো এখন ঘুম।
তিশা আর হুরাইরা চমকে যায় কারণ মিমি আসলেই ঘুমোচ্ছিলো।
হুরাইরা - তুমি কেমনে জানো?
বর্ণ- আরেহ তোমাকে যে ট্যাবলেটটা দিয়েছি সেটি খেলে এতোক্ষণে তো ঘুমিয়ে পড়ার কথা।
বলোতো কি হয়েছে? আমি কিন্তু এখনই ব্যাক করবো।
তিশা- আরেহ ও কিছু না আমি দেখছি দাঁড়াও।
এই বলে ফোনটি কেটে সামনের রুমে গিয়ে দেখে একটি সাদা কাগজ বল আকৃতির মনে হয় পাথর দিয়ে মোড়ানো।
এদিকে হুরাইরা ভাবছে অন্য কথা কারণ মিমিকে সে লাল ট্যাবলেটটি খাওয়ানোর সময় তার গলার বেল্টটি ভালো করে দেখতে দেখতে ট্যাবলেটটি খাওয়ানোর কথা ভুলে যায়।
আর মিমির ঘুমের কোন নির্দিষ্ট
টাইম নেই যখন তখন ঘুমিয়ে পড়ে।
আবার এটিও চিন্তা করে হইতো কো-ইন্সিডেন্টলি ভাইয়ার কথাএ সাথে মিলে গিয়েছে।
এতোক্ষণে তিশা কাগজটি হাতে নিয়ে খুলে নিলো।
চিঠির মতো মনে হচ্ছে,
তাতে লিখা বাঁচতে আর বাচাতে চাইলে গোর্ডাওন কেইস থেকে দূরে থাকো।
তিশা- কি হলো? এতো খুশির একটা সংবাদ দিয়ে মুখ কালো করে আছো?
বর্ণ- কাজটি করার জন্যে শহরের বাইরে যেতে হবে।আর ওখানে কয়েকদিন থাকতে হবে।আর আমি তুমি এইভাবে একা রেখে যেতে পারবো না।
তিশা- উহু, তুমি চিন্তা করো না হুরাইরা তো আছেই।
বর্ণ- আমি তোমার কাজের কথা বলছি। টিভি তে কি গ্যাং জড়িত বললো এসবে।প্লিজ তুমি এই কেইসটা থেকে দূরে থাকো।
- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। তুমি কাজে মন দাও।
কখন বের হচ্ছো?
- এইতো বিকেলে।
তিশা মনে মনে একটু রিলেক্স হলো। কারণ সে জানতো বর্ণ থাকলে এরকম কাজ তাকে কখনোই করতে দিতো না।
.................
বিকেলে বের হওয়ার সময় হুরাইরাকে বর্ণ একটি লাল রং এর ট্যাবলেট দিয়ে মিমিকে খাওয়াতে বললো।আর এটাই তার জন্যে শেষ ফরমুলা।
তিশার তখনো ঘুমোচ্ছে।
হুরাইরা তিশাকে ডেকে দিতে চাইলেও বর্ণ নিষেধ করে।
আজ খুব সকালে সে উঠেছে কি না তাই।
বর্ণ তিশার কপালে একটি চুম্বন স্পর্শ করেই বেড়িয়ে পরলো।
ঘুম থেকে উঠতেই তিশার খুব মাথা ব্যথা শুরু হয় আর বর্ণমালা বলে ডাকাডাকি করে,
হুরাইরা - ভাইয়া তো চলে গিয়েছে সে কবে।
তিশা রেগে মেগে বর্ণকে ফোন করলে ফোনটাও সুইচড অফ।
তিশা ভাবলো হইতো মিটিংয়ে আছে।
সাব্বিরকে আরেক বার ট্রাই করা যাক।
প্রথম বিপ এই সাব্বির ফোন রিসিভ করে
- হ্যালো
- এই তুই কোথায়? তোকে আমি ফোনে কতবার ট্রাই করেছি
- আমি গ্রামের বাড়ি এসেছি সকালে। আর তুই তো জানসই গ্রাম মানে নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রচুর প্যারা।
সাব্বিরের কন্ঠ তিশার কেমন জানি মনে হলো।
ঠিক যেনো কান্নার মাঝে চাপা গলা কিন্তু সাব্বির কিছুতেই সেটা তিশাকে বুঝতে দিতে চায় না।
- এই তুই কি কাদছিস?
- আরেহ না কাঁদবো কেনো?
গলাটা একটু ঝাড়ি খেয়ে বললো।
তিশা- আচ্ছা তুই আমার বাসায় আসতে পারবি কখন?
- আজ তো সম্ভব না। কাল আসি?
- ওকে ডান।
......
সাব্বির আর তিশা খুব ভালো বন্ধু হলেও আজ পর্যন্ত তিশা সাব্বিরের সম্পর্কে কোন কিছুই জানতে চায়নি।
একদিন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন খবর আসে সাব্বিরের মা মারা যায়।
সাব্বিরকে সবাই শান্তনা দিলেও শুধু তিশা তার সাথে এই নিয়ে কথা বলে না।
এরপর থেকে সাব্বিরের মনে হতে লাগলো এতো পাথর মন কেমনে একটি মেয়ের হতে পারে?
তবুও সাব্বির তিশাকে কখনো একা ছাড়ে নি।
সব সময় তিশার সাথে থাকতো।তবে তিশাও নিজ সম্পর্কে কখনক কিছু বলেনি।
নিজের জীবনের সব কিছু যেনো সে আড়াল করে রেখেছিলো সবার কাছ থেকে।
তিশার স্কুলের খরচ সব সাব্বির বহন করতো।
এতো কিছু একটি মেয়ের জন্যে করা মানে বুঝতেই পারছেন।
সাব্বির তিশাকে খুব ভালোবাসে।
কিন্তু তাকে কখনো বলেনি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
ভার্সিটি লাইফে গিয়ে বর্ণের সাথে পরিচয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব,
বন্ধুত্ব হতে এক সময় ভালোবাসায় পরিণত হলো।
কিন্তু সাব্বির এখনো তিশাকে ভালোবাসে আর বন্ধু হয়েই পাশে আছে।
বর্ণ তিশা দু'জনেরই মা বাবা পৃথিবী ত্যাগ করেছে অনেক আগে।
তাই দুজন দু'জনের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বাস অন্যদের তুলনায় অনেক গুন অধিক বললেই চলে।
.............
হুরাইরা লাল ট্যাবলেটটি নিয়ে তাত বিড়াল কে খাওয়াতে যাবে এমন সময় সে খেয়াল করলো বিড়ালটির গলায় একটি সুন্দর বেল্ট ঝুলানো।যার এক পাশ দিয়ে আবছা লাল রশ্মি বের হচ্ছে।
হুরাইরা - বাহ তোর জন্যে তো ভাইয়া খুব সুন্দর একটি বেল্টও দিয়ে গেছেন।
.....
রাতে তিশা আর হুরাইরা বসে বর্ণের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলো এমন সময় জানালা ভেঙে কি যেনো বাসায় এসে পড়লো।
হুরাইরা কিছুটা ভয় পেয়ে যায় আর বর্ণকে বলতে গেলে তিশা ইশারা করে মানা করে দেয়।
বর্ণ- কিসের শব্দ এটা?
তিশা- আর বলো না বিড়ালটা টেবিল থেকে গ্লাসটা ফেলে দিলো।
বর্ণ- কিন্তু মিমি তো এখন ঘুম।
তিশা আর হুরাইরা চমকে যায় কারণ মিমি আসলেই ঘুমোচ্ছিলো।
হুরাইরা - তুমি কেমনে জানো?
বর্ণ- আরেহ তোমাকে যে ট্যাবলেটটা দিয়েছি সেটি খেলে এতোক্ষণে তো ঘুমিয়ে পড়ার কথা।
বলোতো কি হয়েছে? আমি কিন্তু এখনই ব্যাক করবো।
তিশা- আরেহ ও কিছু না আমি দেখছি দাঁড়াও।
এই বলে ফোনটি কেটে সামনের রুমে গিয়ে দেখে একটি সাদা কাগজ বল আকৃতির মনে হয় পাথর দিয়ে মোড়ানো।
এদিকে হুরাইরা ভাবছে অন্য কথা কারণ মিমিকে সে লাল ট্যাবলেটটি খাওয়ানোর সময় তার গলার বেল্টটি ভালো করে দেখতে দেখতে ট্যাবলেটটি খাওয়ানোর কথা ভুলে যায়।
আর মিমির ঘুমের কোন নির্দিষ্ট
টাইম নেই যখন তখন ঘুমিয়ে পড়ে।
আবার এটিও চিন্তা করে হইতো কো-ইন্সিডেন্টলি ভাইয়ার কথাএ সাথে মিলে গিয়েছে।
এতোক্ষণে তিশা কাগজটি হাতে নিয়ে খুলে নিলো।
চিঠির মতো মনে হচ্ছে,
তাতে লিখা বাঁচতে আর বাচাতে চাইলে গোর্ডাওন কেইস থেকে দূরে থাকো।

Comments
Post a Comment