বিলম্বিত বাসর - সাজি আফরোজ (পর্ব ১৩)


-তুমি কি পাগল হয়ে গেলে লামিয়া? বিয়ে করতে পারবেনা মানেটা কি?
.
আজ আয়ানের কথার পিঠে রেগে না গিয়ে হাসলো লামিয়া।
-আরে বিয়ে করতে পারবোনা মানে এখন করতে পারবোনা। বাবা বললেন, আগে তোমার ফাইনাল পরীক্ষাটা শেষ হোক।
তুমি কাজে হাত লাগাও, তারপর নাহয়...
-বেকার কোনো ছেলের হাতে তিনি মেয়ে তুলে দিতে চাইছেন না। এইতো?
-হু। তবে এনগেজমেন্ট করিয়ে রাখা যায় বললো।
-ঠিক আছে। আমি মাকে বলবো সবটা।
-মন খারাপ করেছো?
-একটু তো হচ্ছেই। বিয়েটা হয়ে গেলে সাথে থাকতে পারতাম না বলো?
-হুম।
-যাক, বড়রা যা ভালো বুঝেন করবেন। সবটা যে দুই পরিবার এতো সহজে মেনে নিয়েছে এটাই অনেক বেশি।
-আসলেই।
.
.
.
ফাতেমা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে লামিয়ার বাবার বলা কথাগুলো শোনাতেই আয়ান ভ্রু জোড়া কুচকে ফেললেন তিনি।
গম্ভীরমুখে তিনি বললেন-
আমার ছেলে কি ফেইল করে বাসায় থেকে যাবার মতো ছেলে? বেকার মানে? আমাদের নিজস্ব ফ্যাক্টরি আছে। পরীক্ষার আগে বিয়ে করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো?
.
রুমের ভেতরে প্রবেশ করতে করতে আদুরে বললো-
উত্তেজিত হবেন না মা। অনেক ছেলেই বিয়ের পর কাজে মন দিতে চায়না। তাই হয়তো তিনি এমন ডিসিশন নিয়েছেন। আমি বলি কি আপনি কাল তাদের বাসায় যান। বলুন যে লামিয়াকে আয়ানের পরীক্ষার পরেই ঘরে তুলবেন কিন্তু...
-কি?
-এখন এনিগেজমেন্ট নয়। যেনো আকদ করিয়ে রাখে।
.
আদুরের কথাটা মন্দ লাগেনি ফাতেমা বেগমের।
মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে তিনি বললেন-
খুবই ভালো কথা বলেছো তুমি।
.
-কিন্তু কথাটা আমার একেবারেই পছন্দ হলোনা।
.
দরজায় দাঁড়ানো নাসরিন আক্তারকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো আয়ান ও আদুরে।
উৎসুক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে আদুরে প্রশ্ন করলো-
ইনি কে মা?
-পরীর মা।
.
দৃষ্টি তার দিকে নিয়ে সালাম জানাতেই নাসরিন আক্তার বললেন-
ওয়া আলাইকুমুসসালাম। আমার আপার সাথে কিছু কথা আছে। একা বলতে চাই।
-জ্বী নিশ্চয়।
.
কথাটি বলেই বেরিয়ে পড়লো আদুরে। আয়ানও তার সাথে দরজার দিকে পা বাড়ালো।
ফাতেমা বেগম তার উদ্দেশ্যে বললেন-
কি যেনো বললা তুমি? বুঝলাম না নাসরিন?
-আবেশের ব্যাপারটা নাহলে মেনে নিলাম। কিন্তু আয়ানের জন্য হলেও আমার মেয়েকে কি আপনারা ঠিক করতে পারতেন না? আমি ভেবেছিলাম কাল সকালে আসবো। কিন্তু পরীর মুখে সবটা শুনে না এসে পারলাম না।
.
এতক্ষণে সবটা বুঝলেন ফাতেমা বেগম। ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে তিনি বললেন-
আয়ান যে মেয়েটাকে ভালোবাসে।
.
আবারো এই ভালোবাসার অযুহাত! আবেশের মতো আয়ানেরও কারো সাথে সম্পর্ক আছে ভাবতেই বুক চিরে নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসলো নাসরিন আক্তারের।
.
ফাতেমা বেগম দাঁড়িয়ে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন-
আবেশের সাথে যা করেছিলাম আয়ানের সাথে তা করতে আমি পারিনা নাসরিন। পরীর জন্য অনেক ভালো একটা ছেলে আসবে। দেখিও তুমি! মেয়েটাকে পড়তে দাও। মেধা আছে তার। সবচেয়ে বড় কথা সে পড়তে ইচ্ছুক। আমরাও আছি ওর জন্য। তাহলে কেনো তোমার এতো চিন্তা! এসব বাদ দিয়ে আমার সাথে এসে বসো। অনেকদিন গল্প করিনা। আসো দেখি।
.
.
.
আয়নার একটা ছবি খুব যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে আবেশ। তবে ছবিটা দেখার তার সাহস হয়না। বছরে একবার দেখে কিনা সন্দেহ। কিন্তু এই মুহুর্তে তার এই ছবিটা দেখতে খুব বেশি ইচ্ছে করছে। হঠাৎ এমন ইচ্ছের কারণ তার নিজেরই অজানা।
হাতে ছবিটা নিয়ে ছলছলে নয়নে তাকিয়ে আছে সে ছবিটির দিকে।
আর ভাবছে, আজ আয়না তার পাশে থাকলে সবটা হয়তো আরো সুন্দর হতো।
আদুরের থেকেও এতোটা দূরে থাকতে হতোনা।
-হাতে কি ওটা?
.
পকেটে ছবিটা তাড়াহুড়ো করে লুকিয়ে চোখ জোড়া মুছে নিয়ে আবেশ বললো-
কই! কিছুনা।
-তোমার চোখে পানি আবেশ! কার ছবি দেখে তোমার চোখে পানি?
-কারো না।
.
আবেশের পাশে এগিয়ে গেলো আদুরে। তার গলায় দুহাত জড়িয়ে বললো-
আমাকে বলবেনা?
-উহু! তেমন কিছুনা আদুরে।
-তাহলে কেমন কিছু? তোমার এক্স গফ এর ছবি? বলো বলো?
.
আদুরের হাত সরিয়ে খানিকটা চেঁচিয়েই আবেশ বলে উঠলো-
যেটা আমি বলতে চাইছিনা সেটা শুনতেই এতো আগ্রহ কেনো তোমার! বলবোনা কে। কি করবে তুমি?
.
আবেশের হঠাৎ এমন ব্যবহারে চমকে গেলো আদুরে। কোনো কথা না বলে সে সোজা বেরিয়ে গেলো রুম ছেড়ে।
দরজার পাশেই নাসরিন আক্তারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো সে।
নাসরিন আক্তার একটা বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে বললো-
অন্যের প্রাপ্য সুখ তোমার কপালে কি করে সইবে বলো?
.
টলমলে চোখে তাকিয়ে আদুরে বললো-
মানে?
-মানে পরীর যেটা প্রাপ্য ছিলো সেটা তুমি কেড়ে নিয়েছো। তাই সুখ তোমাকে ধরা দিবেনা।
.
কথাটি বলে নাসরিন আক্তার চলে গেলেও নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আদুরে।
কি হচ্ছে তার সাথে! প্রথমে ভালোবাসার মানুষের এমন ব্যবহার আর এখন নাসরিন আক্তারের এসব কথা!
দুটোর মাঝেই কি কোনো যোগসূত্র রয়েছে? এমন কি কোনো ঘটনা আছে যা আবেশ তাকে জানায়নি? জানায়নি তা পরিষ্কার নাসরিন আক্তারের কথা শুনেই বোঝা গেলো। কিন্তু কি জানায়নি?
.
.
মায়ের ডাকে তার রুমে এসে বসলো আয়ান।
ফাতেমা বেগম তার উদ্দেশ্যে বললেন-
লামিয়ার বাসায় কাল সকালেই যাবো আমরা। আকদের বিষয়ে কথা বলতে হবে। লামিয়াকে বল, কাল আমরা তাদের বাসায় যাচ্ছি।
-জ্বী।
.
কিছুটা সংকোচবোধ করেই ফাতেমা বেগম জিজ্ঞাসা করলেন-
লামিয়ার সাথে সুখে থাকবিতো?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন?
-এমনিতেই। আচ্ছা যা, লামিয়াকে বিষয়টা বলে ঘুমিয়ে পড়। রাত হয়েছে।
.
.
.
-এতো রাইতে তুমি এহানে কি করো?
.
মোরশেদার ডাকে ঘোর কাটলো আদুরের। রান্নাঘরের পাশেই একটা বড় বারান্দা আছে। সেখানটাই পিড়ি পেতে আনমনে বসে আছে সে।
মোরশেদার প্রশ্নে ঘোর কাটলে জবাব দিলো-
কিছুনা খালা। কিছু বলবেন?
-লামিয়া মাইয়াডা কি তোমার মতন হইবো?
-আমার মতো কেমন?
-তোমার মতো লক্ষী।
-আমি লক্ষী?
-হো।
-লামিয়া আরো বেশি লক্ষী হবে। দেখেননি? কিভাবে আয়ানের জন্য ছুটে এসেছে লোকলজ্জা ভুলে?
-মাইয়াগো লজ্জাশরম থাকন ভালা। এই মাইয়ার যে নাই তা আমি ভালাই বুঝছি।
-খালা! আপনি একদম লামিয়ার পিছে লাগবেন না বললাম। মেয়েটা ভদ্র, ভালোও। সবচেয়ে বড় কথা সে আয়ানকে অনেক বেশিই ভালোবাসে। এটাতেই আমাদের খুশি হবার দরকার নয় কি?
-আমি এহন খুশি ফুশি হইবার পারতাছি না। বিয়ার পরেই নাহয় দেখমু।
.
মোরশেদার কথা শুনে হেসে উঠলো আদুরে।
ভ্রু জোড়া কুচকে মোরশেদা বললো-
পুকুরপাড়ের পাশেই এই বারান্দা। এতো রাইতে এহানে থাকা ঠিকনা। ঘরে যাও।
-কেনো? ভুতে ধরবে?
-এতো কথা কও কেন তুমি! নিজের ঘরে যাও দেহিনি।
.
পিড়ি ছেড়ে দাঁড়িয়ে আদুরে বললো -
হু যাচ্ছি।
.
.
.
আয়ানের মুখে আকদের কথা শুনে লামিয়া চিন্তিত স্বরে বললো-
বাবা মানবে নাকি আমি ঠিক বলতে পারছিনা।
-না মানার কি আছে! তার মেয়েকে তো আর ঘরে তুলে আনছিনা। সেটা আমি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরেই আনবো৷
-তাহলে বিয়েটা তখন করলেই হয়।
-না হয়না৷ তোমাকে নিয়ে রিক্স নিতে চাইছিনা একটা দিনের জন্যও আর...
.
থেমে গেলো আয়ান।
লামিয়া উৎসুক কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো-
আর?
-বুঝছোনা?
-নাতো।
-আকদটা হলে তোমাকে কাছে পাবার লাইসেন্সও পেতাম।
-বিয়ের আগেই কাছা পাওয়া?
-আকদ মানেই বিয়ে পাগলী।
-তার মানে আকদ হলেই বাসর হয়ে যাবে?
-হুম!
.
দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে লামিয়া বললো-
খুব শখ তাইনা তোমার বাসর করার?
-অনেক।
-করাবো তোমাকে বাসর।
-মানে কি! বাসর হবেনা আমাকের আকদের পরেও?
-হবেতো, তবে হবে বিলম্বিত বাসর!
-হু দেখা যাবে। এমন লুক দিবোনা নিজেই তুমি বলবা, বাসর করো বাসর করো।
.
কথাটি শুনেই উচ্চশব্দে হেসে উঠলো লামিয়া। তার সাথে যোগ দিলো আয়ানও।
.
.
.
রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মোড়ে বিখ্যাত এক রেস্টুরেন্টে বসে আছে আবেশ ও আদুরে।
আজ সারাদিন তাদের অনেক ঘুরাঘুরি হলো।
চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে
শিবগঞ্জ গিয়েছে তারা। সেখান থেকে অটোতে করে কানসাট বাজারে। কানসাট বড় আমের বাজার ঘুরে দুজনে ভ্যানে চড়ে গেলো কানসাট জমিদারবাড়ি। বাড়িটি দূর থেকেই দেখতে হলো কারণ বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
কিছুসময় সেখানে কাটিয়ে
একটা অটো ভ্যান রিজার্ভ ভাড়া করে ছোট সোনা মসজিদ গেলো দুজনে। খুব সুন্দর মসজিদের কারুকার্য। সেখান থেকে আবেশ তাকে নিয়ে গেলো তাহখানা আর পাশেই ছিলো তিনগম্বুজ মসজিদ।
এতো সব জায়গায় আবেশের সাথে ঘুরাঘুরি এই প্রথম করেছে আদুরে।
মনের মাঝে একটা আনন্দ কাজ করলেও বেশ ক্লান্তিও লাগছে তার।
আবেশ তার দিকে তাকিয়ে বললো-
কিছু খাবে চা এর সাথে?
.
হাতে থাকা মগে চুমুক দিলো আদুরে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললো-
না, ক্ষিদে নেইতো।
কানসাট থেকে যে আমগুলো নিয়ে দিয়েছো বাসায় গিয়ে খাবো বসে বসে।
-চাপাইনবাবগঞ্জ এর এতো আম খাও তাও আমের প্রতি এতো লোভ তোমার।
.
বলেই হেসে উঠলো আবেশ।
তার মুখের দিকে তাকিয়ে আদুরে বললো-
আচ্ছা আবেশ? আমরা এতোক্ষণ একসাথে ছিলাম। কিন্তু তুমি একটাবারের জন্যও আমার হাত ধরোনি। ইচ্ছে হয়না তোমার?
.
কিছু না ভেবেই আবেশ বললো-
সব ইচ্ছে তাড়াতাড়ি পূরণ করতে নেই।
.
আবেশের কথার মানে বুঝে উঠতে পারলোনা আদুরে। কিন্তু এখন যে তার নিজের ঘুমের খুব প্র‍য়োজন তা ভালো করেই উপলব্ধি করতে পারলো সে।
চা টা শেষ করে আবেশের উদ্দেশ্যে বললো-
বাড়ি পৌছে দাও। ঘুম পাচ্ছে। তোমাকেও তো যেতে হবে আবার?
-হুম।
.
২বছর আগের কথা ভেবে ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেললো আদুরে।
প্রেমের আগে আবেশের এসব কর্মকান্ড বোঝা গেলেও বিয়ের পরে আবেশের এমন ব্যবহারের কারনটা বোধগম্য নয় আদুরের।
আবেশ যদি তাকে এই বিষয়ে কিছু জানাতে আগ্রহী না হয় তবে সেও জানতে চাইবেনা। এমন একটা প্রতিজ্ঞা করে চুপচাপ শুয়ে পড়লো সে আবেশের পাশে।
.
.
.
কইগো তোদের হলো?
.
ফাতেমা বেগমের ডাকে রুমের ভেতর থেকে শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে চেঁচিয়ে আদুরে বললো-
জ্বী মা। আরেকটু....
.
সকাল থেকে কোনো কথা হয়নি আদুরের আবেশের সাথে। এবার সে আবেশের দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো-
এদিকে এসে আমার শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করে দাও।
.
আবেশ ভেবেছে আদুরে তার উপর রেগে থাকবে। এমন স্বাভাবিক ব্যবহার সে আদুরের কাছে আশা করেনি।
আবেশের কাছে কোনো জবাব না পেয়ে আদুরে বললো-
রোমান্স করতে ডাকছিনা। কুচি ঠিক করতে ডাকছি।
.
মিনমিনে স্বরে আবেশ বললো-
আমি আসলে...
-পারোনা?
-হুম।
-শিখিয়ে দিবো। আসো।
.
বাধ্য ছেলের মতো আদুরের পাশে এসে শাড়ির কুচিতে হাত দিলো আবেশ।
মুচকি হেসে আদুরে বললো-
শাড়ির কুচি ঠিক করতে হলেও একটা জামাই চাই!
.
.
রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই আয়ানের দেখা পেলো আদুরে ও আবেশ।
দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে আদুরে বললো আয়ানের উদ্দেশ্যে -
আজ যেতে পারছোনা কি হয়েছে? খুব তাড়াতাড়ি বউ আনতে যাবে।
.
লাজুক হাসি দিলো আয়ান।
ফাতেমা বেগম তাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন-
চলো বের হওয়া যাক। উনারা নিশ্চয় অপেক্ষা করছেন আমাদের জন্য।
.
.
.
লামিয়ার বাবার কাছে ফাতেমা বেগম আকদের প্রস্তাব রাখতেই তিনি নীরব হয়ে গেলেন। হয়তোবা চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি!
ফাতেমা বেগম তার দিকে তাকিয়ে বললেন-
হঠাৎ আপনাকে এমন একটা প্রস্তাব দিয়ে চিন্তায় ফেলে দিলাম তাইনা? আপনি ভেবেই সিদ্ধান্ত জানান।
-ভাবাভাবির তো কিছু নেই।
.
লামিয়ার বাবার গম্ভীরমুখে কথাটি শুনে খানিকটা ঘাবড়ে গেলেন ফাতেমা বেগম। ছেলে এখনো ছাত্র বলে কি এই প্রস্তাবেও রাজী হবেন না তিনি!
.
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)