হৃদয়ের গহীনে - সাজি আফরোজ (পর্ব ২)
কিছুদিন কেটে যায়।কেউ কারো সাথে কথা বলেনি এখনো।
একদিন জুহি টানতে টানতে দিয়াকে স্কুল এর বাহিরে নিয়ে যায়।
দিয়া দেখে জারিফ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।তাকে দেখে হেসেই জারিফ বলে-
কেমন আছো?
-ভালো।
-দেখো এভাবে কথা বলা ঠিক হবেনা তোমার জন্য।এই চিঠিটা হাতে রাখো।
একদিন জুহি টানতে টানতে দিয়াকে স্কুল এর বাহিরে নিয়ে যায়।
দিয়া দেখে জারিফ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।তাকে দেখে হেসেই জারিফ বলে-
কেমন আছো?
-ভালো।
-দেখো এভাবে কথা বলা ঠিক হবেনা তোমার জন্য।এই চিঠিটা হাতে রাখো।
বলেই জারিফ চলে যায়।
দিয়া বুঝতে পারলোনা কি বলে গেলো জারিফ!
দিয়া চিঠিটি খুলে পড়লো-
আমি চাইনা আশিক আমাদের দেখে ফেলুক।আশিক যে তোমার পেছনে লেগেছে আমি জানি।ও এমন-ই।কিছুদিন পরে ঠিক হয়ে যাবে নতুন কাউকে পেলে।তাই কিছুদিন সাবধানে থেকো।
দিয়ার জন্য বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে গেলো।
আশিক কে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই জারিফকে।সে যে সাহায্য করবে বুঝেছিলো।তাহলে এখন আশিক-কে বলা যায় বফ এর কথা।
কিন্তু বলতে চেয়েও বলেনি দিয়া।ভাবনায় আসে আশিক যদি তার ক্ষতি করে!
তাই না বলেই বাসায় ফিরে যায় সে।তবে বাসায় যে তার জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে জানা ছিলোনা তার।
.
.
-তোর সাথে কথা আছে।
-বলো আম্মু?
-এতোটুকু মেয়ে প্রেম এর কি বুঝিস?
-কিসের প্রেম?
-জারিফ নামের ছেলের সাথে প্রেম চলছেনা তোর?না বললে জানবোনা ভেবেছিস?
-না আম্মু এমন কিছু নয়।ভূল বুঝছো তুমি।কে বলেছে তোমাকে এসব?
-আশিক নামের একটা ছেলে ফোন করে বলেছে।
এরপরেই দিয়া শুরু থেকে সবটা জানায় তার মাকে।
তার মা যে এতো সহজে ব্যাপারটা নিবে বুঝেনি সে।
আগে জানলে মাকেই সবটা জানাতো সে।
মা,দিয়ার বাবাকে বলে আশিকের বাবার কাছে নালিশ পাঠায়।
পরে আশিকের বাবা আশিক কে সামলায়।দিয়ার বাবাকে তিনি আশ্বাস দেন আশিক দিয়াকে আর বিরক্ত করবেনা।
এর মাঝে দিয়া আর স্কুলে যায়নি।দিয়ার মা ভয়ে যেতে দেয়নি।কারণ আশিক ছেলেটা সুবিধার ছিলোনা।
এভাবে কিছুদিন যেতেই রোজার বন্ধ দিয়ে দেয় স্কুল-কলেজ এর।
দিয়ার জারিফকে খুব মনে পড়ে।অনেকদিন দেখা হয়না তার সাথে।সেতো আশিককে জারিফের কথা বলেনি তবুও আশিক কেনো তার মাকে এসব হাবিজাবি বলেছে!
নিজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলো এসব কথা।একটু দূরে চোখ পড়তেই দেখে জারিফ দাঁড়িয়ে দিয়ার দিয়ে তাকিয়ে হাসছে।
দিয়া ভূত দেখার মতো চমকে যায়।এ কি ছেলেটি দিয়ার বাসাও চিনে!নিশ্চয় তাকে ফলো করেছে এই ছেলে।
ইশারায় জারিফ দিয়াকে নিচে যেতে বলে।
দিয়া তার কথায় নিচে গেলো।গেইট খুলতেই দেখে একটা পিচ্চি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।হাতে ছিলো একটা খাম।দিয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়।
দিয়া আবার বারান্দায় এসে দেখে জারিফ নেই।সে খামটি খুললো।ভেতরে সুন্দর হাতের লেখা একটি চিরকুট।
তাতে শুধুই একটা ফোন নাম্বার ছিলো।
কিন্তু দিয়ার কোনো ফোন ছিলোনা।বাসার ফোন দিয়ে কোনো ছেলের সাথে কথা বলার সাহস ছিলোনা।তাই সে কোন চেষ্টাও করেনি জারিফকে ফোন দেওয়ার।
ফোন না পেয়ে জারিফ আবার আসে।
আগের মতো ছোট ছেলেটিকে দিয়ে একটি খাম পাঠায়।
তাতে লিখা ছিলো-
ফোন নেই তোমার?দিবো একটা?আমার যে অনেক কথা আছে তোমাকে বলার।
পিচ্চিটা দাঁড়িয়ে আছে।তাকে দিয়ে জবাব দিও চিঠি লিখে।
দিয়া লিখে দেয়-
আমার ফোন লাগবেনা।স্কুল খুললে কথা হবে।
পরেরদিন হিয়া আসে দিয়াদের বাসায়।প্রতি রোজায় হিয়া দিয়াদের বাসায় আসে দুইবোন একসাথে শপিং করার জন্য।আর শপিং শেষে দিয়াদের নিয়ে চলে যায় বান্দরবান।সকলের ঈদ একসাথেই করা হয়।
হিয়াকে সব কিছু বলতেই হিয়া তার গোপন ফোন দিয়ে কল দেয় জারিফকে।রিং হতেই ফোন ধরিয়ে দেয় দিয়ার কানে।
-হ্যালো
-জি হ্যালো।
-কে দিয়া?
-কি করে বুঝলেন?
-কোনো মেয়ে ফোন দেয়নাতো তাই।ভালো আছো?
-হুম।আপনি?
-অনেক ভালো এখন।এটা কার নাম্বার?
-আপুর।
-কোন আপু?
-পার্ক এ সাথে ছিলো আমার।বফ আছে যে উনি।
-ও আচ্ছা আপু জানে ফোন দিয়েছো?
-হুম।
-আচ্ছা।
-কোন বর্ষে আপনি?
-এইতো প্রথম।
-বাসা কোথায়?
-পাশের এলাকায়।
-আগে দেখেছেন আমায়?
-না।তুমি?
-দেখিনি।
-হুম আগে কেউ দেখেনি।প্রথম দেখা পার্ক এ।
অথচ পাশাপাশি এলাকার আমরা।
ইশ নিয়মিত ক্লাস যদি করতাম তাহলে আরো আগে দেখতাম তোমায়।
-হিহি
-তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর।জানো তুমি?
-হুম।
-কেমনে?
-এইযে আপনি বললেন।
-হাহাহা।বেশ পাকাতো তুমি।
আশিক নাকি তোমাদের বাসায় ঝামেলা করেছে?
-হুম।কি করে জানেন?
-শুনেছি।আমার ভাইয়ার কাছেও এসেছিলো।বলেছে আমি নাকি ওর গফ কে বিরক্ত করি।
-ইশ!ভাইয়া বকেছে?
-আরেনা।ভাইয়া জানে ও কেমন।তোমার বাসায় ঠিক আছে সব?
-আছে।আম্মু এতোটা সহজভাবে নিবে জানলে আগেই বলতাম।
-হুম।
-আচ্ছা আশিক কেনো বলেছে আপনার সাথে আমার সম্পর্ক আছে।
-সেদিন হয়তো কথা বলতে দেখেছিলো।যদিও আমরা বেশিক্ষণ বলিনি।তাই সঠিকভাবে বলতে পারছিনা।
-হুম।
-আমি তোমার অসুবিধা হবে বলে তোমার বাসার পাশে যাইনি এতোদিন।
-সমস্যা নেই।আসতে পারেন।
-খুশি হবা যদি যাই প্রতিদিন?
-জানিনা।
-হাহা।প্রতিদিন বিকেলে যাবো।
-ঠিক আছে।
সেদিন থেকে জারিফ এর সাথে দিয়ার ফোনে কথা বলা শুরু হয়।মায়ের ফোন থেকে লুকিয়ে কথা বলতো সে।
তবে বন্ধুদের মতই কথা হতো।
জারিফ প্রতিদিন বিকেলে দিয়ার বারান্দার পাশের রাস্তাটাই আসতো।দিয়া সবসময় কথা বলতে পারতোনা ফোনে।তাই ফোন না পেলে দিয়াকে চিঠি পাঠাতো জারিফ প্রথম দিন যেভাবে পাঠিয়েছিলো,দিয়াও চিঠি পাঠিয়ে দিতো।
জারিফ বুঝেছিলো দিয়া মেয়েটি ছোট।এখন যা করবে সব আবেগ নিয়ে করবে।কিন্তু জারিফ তাকে ভালোবেসে ফেলেছে,হারাতে চায়না তাকে।
তাই সে দিয়াকে সময় দিতে চায়।ঠিক করে যেদিন দিয়া তাকে সত্যি ভালোবাসে বুঝবে সেদিন থেকেই কোনো সম্পর্কে আগাবে তারা।
আস্তে আস্তে দিন কাটতে থাকে।
একদিন দিয়ার মায়ের দূর-সম্পর্কের ভাই তান্না ফোন করে।দিয়ার মা ফোন রেখে অনেকটাই রেগে যায়।
-কি হয়েছে আম্মু?
-তোমার সাথে জারিফের কিছু চলছে?
-কিছু বলতে?
-বুঝছোনা?
-না।
-যাও তৈরি হয়ে নাও।বের হবো আমরা।
-কোথায়?
-তোমার তান্না মামাকে বলে জারিফকে ডাকা পাঠিয়েছি।
-কিন্তু কেনো?
-কেনো পরে বুঝবে।
রেস্টুরেন্ট এ মায়ের পাশে বসে আছে দিয়া।অশান্ত তার মন।আচ্ছা জারিফ কি তার মাকে বলে দিবে সে জারিফের সাথে লুকিয়ে কথা বলে ফোনে।কিন্তু সেতো জারিফের সাথে প্রেম করেনা,এমনেই কথা বলে।আর শুধু বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখে জারিফকে।স্কুলে-ও কথা বলেনা তারা।তার মা কি ভূল বুঝবে তাকে!
ভাবতে ভাবতে দেখতে পেলো তান্নার সাথে জারিফ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে দিয়ার।এখন কি হবে!
.
.
দিয়ার মা তান্নাকে চলে যেতে বলে জারিফের সাথে কথা শুরু করে।
-তুমি জারিফ?
-জ্বী।
-বসো।
-ধন্যবাদ।
-কেনো ডাকিয়েছি জানো?
-নাহ।
-দিয়ার সাথে কিসের সম্পর্ক তোমার?
-কোনো সম্পর্ক নেই।
-তবে তান্না যে বললো....
-আন্টি এইরকম আশিককে নিয়েও বলতো অনেকে দিয়ার সাথে তার সম্পর্ক আছে।তাছাড়া আরো অনেকেই বলে নানাকথা।সুন্দরী মেয়ে থাকলে বলে অনেকে এইরকম।
-তার মানে তোমাদের মাঝে কিছু নেই?
-হুম নেই কিন্তু সামনে হতে পারে।
-মানে?
-মানে আমি দিয়াকে ভালোবাসি।
[কথাটা শুনে দিয়া ও তার মা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।এতো সাহস নিয়ে কি বলে এই ছেলে!]
-দেখো আমি তোমাকে বলবনা ওকে ভূলে যাও।কিন্তু এটা বলবো দিয়া এখনো ছোট,তাই আমি চাইনা ও ভূল পথে পা দিক।
-বড় হলে তখন?
-তখন দেখা যাবে।আমি ওর মত ছাড়া কোথাও বিয়েও দিবোনা ওকে।জীবন সঙ্গী বেছে নেওয়ার সুযোগ-ও দিবো।কিন্তু এখন কোনো ভূল পথে চলতে দিতে পারিনা।আশা করি কি বলতে চাইছি বুঝতে পেরেছো।
-জ্বী।আন্টি ওকে আমি বিয়ে করতে চাই।কি করতে হবে আমার?
-পড়াশোনা করো ভালো করে।
দুজনেই নিজের পায়ে দাঁড়াও তারপর না হয় দেখা যাবে।
-ঠিক আছে।
সেদিন থেকে দিয়া আর জারিফের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি মা কষ্ট পাবে বলে।জারিফ-ও চেষ্টা করেনি।
প্রায় ৪মাস কেটে যায়।দিয়ার মায়ের ফোনে অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে মেসেজ আসে--
"তুমি কি আমাকে ভূলে গিয়েছো?এই ৪মাসে একটা বারের জন্য-ও তোমাকে মন থেকে সরাতে পারিনি।একটু কথা বলবা আমার সাথে?
(তোমার সেই পাগল প্রেমিক)।"
জারিফ ছাড়া এটা আর কেউ নয় দিয়া বুঝেছিলো।কিন্তু তার মায়ের কথা ভেবে রিপ্লাই দেয়নি সে।
কিছুক্ষণ পরেই দিয়ার মা দিয়ার কাছে ফোন নিয়ে এসে বলে দিয়ার বন্ধবী দিয়াকে খুঁজছে।
-হ্যালো কে?
-আমি জারিফের বোন হয়।তোমার আম্মুকে তোমার বান্ধবী বলেছি।
-ওহ।
-একটু কথা ছিলো।ফ্রি হয়ে ফোন দিও।
-ঠিক আছে।
দিয়া বুঝেছে জারিফ তার বোনকে দিয়ে ফোন করিয়েছে।তাই সে জারিফ-কে মেসেজ দেয় সে যেনো এমন আর না করে।
কিন্তু একটু পরে আবারো ফোন আসে।তবে অন্য একটি নাম্বার থেকে।
-হ্যালো কে?
-আমি ইতু।
-চিনলাম না।
-তুমি ফ্রি হয়ে ফোন দিও কথা ছিলো।
এবার দিয়া রেগে যায়,সে সরাসরি জারিফ কে ফোন দেয়।
-হ্যালো।
-দিয়া মনি!তুমি!?
-নিষেধ করেননি আমাকে আর ফোন না দিতে আপনার বোন কে?
-হুম করেছি।
-তবুও কেনো দিয়েছে?
-একবার দিয়েছিলো আর দেয়নি।
-একটু আগে আবার দিয়েছে।
-ভূল হচ্ছে তোমার।
-ওহ তাই!যাই হোক।আর যেনো ফোন না আসে।
লাইন কেটে চুপচাপ বসে থাকে দিয়া।এতোদিন পরে জারিফের সাথে কথা হয়েছে তার,খুব বেশি খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছে কি!
ফোনটা আবার বেজে উঠেছে।
-হ্যালো কে?
-আমি ইতু।
-হুম আপু বলেন কি বলবেন?
-আসলে আশিক তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
-আশিক!আপনি ওর কি হোন?
-আমি ওর বান্দবী।
-ওহ।আমি ওকে পছন্দ করিনা জানিয়ে দিয়েন।
দিয়া লাইন কেটেই জারিফ-কে ফোন দিলো।
-আমি সরি।
-কেনো?
-ওটা আপু ছিলোনা।আশিকের বান্ধবী ছিলো।
-ওহ।
-বলো কি বলতে চেয়েছো?
-বুঝছোনা?
-না।
-আন্টি তোমাকে নিষেধ করেছে আমি বুঝেছি কিন্তু কথা না বলে থাকতে কষ্ট হচ্ছে আমার।আমরা যেমন ফ্রেন্ড ছিলাম ওইরকম থাকি?তুমি বড় হলে না হয়..
-কি?
-কিছুনা।শুধু ফ্রেন্ড থাকাতো যায়?
-হুম তা যায়।আম্মু যেনো না জানে।
-ঠিক আছে।
সেদিন দিয়া জারিফের কথা ফেলতে পারেনি।শুরু হয় তাদের আবার যোগাযোগ।
সে জারিফের সাথে মিশতে মিশতে তাকে ভালোবাসা শুরু করে।এভাবে পিচ্চি বান্ধবী থেকে জারিফের প্রেমিকা হয়ে যায় সে।
হুম দিয়ার এস.এস.সি পরীক্ষার পর জারিফ এর সাথে নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হয় সে।
এসব ভাবতে ভাবতে মায়ের ডাক পড়ে আবারো ভাবনার জগত থেকে বের হয় দিয়া।
-কিরে তুই কই দিয়া?হিয়াও চলে এসেছে খেতে।
-আছি আম্মু।
-আজ এতো শান্ত কেনো?শরীর খারাপ?
-না ভালো লাগছেনা বাসায় বসে বসে।এখনতো আর ক্লাস ও হচ্ছেনা তেমন সামনে পরীক্ষা।বাসায় বসে বসে বিরক্ত লাগছে।
-কি বলিস!এখন হিয়াও বলছিলো ওর ও কিছু ভালো লাগছেনা।হিয়াকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয়।তুই কি বলিস হিয়া?দুবোন ঘুরে আয় কোথাও থেকে।
-আচ্ছা চাচি দেখি কোথায় যাওয়া যায়।
দুপুরে খেয়ে দুবোন শুয়ে আছে।
-দিয়া জানিস এই বিয়ে নিয়ে কতো স্বপ্ন থাকে একটা মেয়ের।যখন বিয়ের সময় হবে তখন বুঝবি।
-মনেহয়।
-আমার কি ইচ্ছা জানিস?গোলাপি রঙের একটা গাউন পরে বিয়ে করবো।
-ওয়াও।আনকমন একদম।
-হুম।
এমন সময় আবার জহুরের ফোন।
-হ্যালো চাকরী পাইছোস জহুর??
-আহা কি দিন আসলো!কেমন আছো,খেয়েছো এসব আজকাল শুনতে পারিনা।শুধুই চাকরী আর চাকরী।
-হুম যতদিন পাবিনা ততদিন শুনতে থাকবি।
-পেয়ে যাবো দোয়া কর।
-করছিতো।
-তোকে দেখতে ইচ্ছা করছে মনি।ভিডিও কল দিচ্ছি।
-আচ্ছা দে।
দিয়ার মনে পড়ছে জারিফের কথা।এখন যদি সেও জারিফের সাথে কথা বলতে পারতো!
আজ প্রায় ৫মাস জারিফ এর সাথে ব্রেকাপ তার।
ইদানীং দিয়ার চালচলন জারিফ এর ভালো লাগেনা।ছেলে বন্ধু থাকা,বোরকা না পরা,ফেবু চালানো,ঘুরাঘুরি এমনকি মেয়ে বান্ধবী নিয়েও জারিফের অসুবিধা।তারাই নাকি দিয়ার অভ্যাস খারাপ করছে।
কথাগুলো ভালো লাগেনি দিয়ার।তার নিজের একটা পারসোনাল লাইফ আছে।শুধু জারিফ তো তার সব হতে পারেনা।তাই সে জারিফ থেকে দূরে সরে যায়।
কিন্তু এদিকে জারিফ এর কাছে দিয়া-ই ছিলো সব।তাই সে মাঝেমাঝে এখোনো দিয়াকে ফোন দেয়।তবে শুধু খবর নিতেই।বাড়তি কোন কথা বলেনা।আস্তে আস্তে আর খবর ও নিবেনা বলেছে।এসব
ভাবতে ভাবতে ঘুম এসে যায় দিয়ার।
.
(চলবে)

Comments
Post a Comment