ডিটেকটিভ তিশা - শাহেদুল ইসলাম মাহিম (পর্ব ৩)


সারা রাত দুজনেই খুব চিন্তিত ছিলো। কে এই চিঠিটি পাঠাতে পারে?
আর তিশা যে এই কেইসের সাথে সংযুক্ত তাও কীভাবে টের পেলো?
....
তিশার হঠাৎ মনে পড়লো আমিন সাহেব কে যে গুলি করেছে সে নিশ্চয় এই চিঠিটি পাঠিয়েছে।
কারণ সে চাইলে তখন তিশাকে অনায়াসে তখন খুন করতে পারতো কিন্তু করেনি।
তারপর আবার ওয়ার্নিং স্বরুপ এই চিঠি।
তিশার কাছে যেনো কিছুটা পরিষ্কার হতে লাগলো।
হইতো তার আপন কেও, যে এই পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানে।
আর তিশাকে প্রতিনিয়ত ফলো করে।
উফফ মাথা যেনো গুলিয়ে যাচ্ছে।
কারণ ঘটনাটি বর্ণ আর হুরাইরা ছাড়া আর কেও জানে না।
তাহলে আরো কে এমন একজন আছে? যে ডিটেকটিভ তিশার যেমন ক্ষতি চায় না অন্যদিকে তাকে এই কেইস থেকেও দূরে রাখতে চায়।
তিশা এই সব কিছু এতোক্ষণ নিজের চোখ বুজেই ভাবছিলো।
......
তার একটি হাত হুরাইরার গায়ের উপর দিতে গিয়েই বিছানা স্পর্শ করে ফেলে আর সাথে সাথে তিশার চোখ খুলে যায়।
ভালো করে চোখ মেলে দেখে হুরাইরা রুমে নেই।
..
রাত দুটো বাজে মেয়েটা এ সময় গেলো কই?
তিশার কেনো মনে কেনো জানি হঠাৎ ভয় জাগতে শুরু করলো।
মনে মনে বলে
ইয়া আল্লাহ! আমার কর্মের জন্যে যেনো তার নিজের বোনের উপর বিপদ না আসে।
তিশা তার ড্রয়ারে থাকা রিভলবারটি বের করে, তারপর আসতে আসতে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।
বেড়িয়ে আসতেই তার চোখ বর্ণের রুমের দিকে নজর কাড়ে।
কারণ বর্ণের ল্যাব থেকে নিওন লাইটের আলো বের হচ্ছিল।
যা সচারাচর বর্ণ রাতে কাজ করার সময় ব্যবহার করে।
....
বর্ণের ল্যাব ছিলো তাদের রুমের পাশের রুমটা আর এর পাশেই তিশার স্টাডি রুম আর একদম প্রথমেই হচ্ছে হুরাইরার রুম।
তবে বর্ণ নেই বলে আজ তারা এক সাথে ঘুমোচ্ছিল।
...
তিশা ল্যাবের দরজার দিকে রিভলবারটি তাক করে আসতে আসতে ল্যাবের দিকে এগিয়ে যায়।
ল্যাবের দরজা হালকা ফাঁক করে রাখা আছে আর সে দরজার নিচে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে একটি ছায়া নড়াচড়া করছে।
তিশা এবার রিভলবারটির ট্রিগার টেনে সেট করতেই টাক করে একটা আওয়াজ হতেই ল্যাবের দরজা পুরোপুরি খুলে গেলো।
তিশা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে,
হুরাইরা মিমিকে কে কোলে নিয়ে কি যেনো করছে আর মিমির গলায় ঝুলানো বেল্টটির এক পাশ দিয়ে এখন ঘন লাল রং এর বাতি ছোট্ট জ্বলছে যা সকালে আবছা লাল রং ছিলো।
.......
তিশা- উফফ তুই!!! এতো রাতে??? জানিস আমি কতোটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!
হুরাইরা - এতো ভয় পাওয়ার কি আছে শুনি?
আমার ঘুম আসছিলো না তাই ভাবলাম ভাইয়ার ল্যাবে গিয়ে দেখি কিছু বুঝতে পারি কি না?
...
তিশা এবার খানিকটা অবাক।কারণ এর আগে কখনো হুরাইরা বর্ণের ল্যাবে আসেনি।
আর হুরাইরার সাথে এসব জিজ্ঞেসাবাদ করতে করতে তার মিমির গলায় ঝুলানো লাল বাতির কথা তিশা ভুলেই গিয়েছে।
...
তিশা- চল ঘুমোবি চল।
এই বলে হুরাইরার হাতটি টেনে ল্যাব থেকে বের করে।
দরজা বন্ধ করার সময় তিশা ল্যাবের ভেতরটা ভালো করে একবার দেখে নেই আর ভাবে বর্ণতো ল্যাবের দরজা সব সময় লক করে রাখে।আর চাবিও থাকে বর্ণের কাছে তাহলে হুরাইরা দরজা খুললো কেমনে!
হুরাইরা মিমিকে নিয়ে তার রুমে ঘুমোতে চলে গেলো।
উদ্ভুত তো! মেয়েটাতো আমার সাথে ঘুমানোর কথা তাহলে এখন আবার নিজের রুমে একা একা ঘুমোতে গেলো?
এই বলে তিশা দরজা লক করতে যাবে দেখে ল্যাবের দরজার লক কিছুটা পোড়া পোড়া।
তিশা ভালো করে দেখতেই লক্ষ্যে করলো ল্যাবের দরজার হুক লাগছে না।
হুকটা ভেঙ্গে গিয়েছে।
উহু ভাঙ্গা নয়, কেমিক্যাল দিয়ে দরজার হুকটি গলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তখনই আবার মনে হলো আরেহ মিমির গলায় ঐ লাল বেল্টটি কিসের?? যা দিয়ে লাল রং এর বাতি জ্বলছিলো।
তিশার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো।
হুরাইরাকে আর কিছু না বলেই নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
তিশা আবারো চোখ বুজে ভাবছে,
তাহলে হুরাইরা কি তার কাছ থেকে কিছু লুকোচ্ছে???
চলবে.....

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)