বৈধ সম্পর্ক - সাজি আফরোজ (পর্ব ৮)


সকাল সকাল সমুদ্র দেখার মাঝেও আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে।আরো ভালো লাগে যদি প্রিয় মানুষটি সাথে থাকে।আফরানের ভালো লাগাটা দ্বিগুণ করতে সায়নী-কি আসবে!
অনেক চেষ্টা করেও আজ না এসে পারেনি সায়নী।আফরান তার সমস্ত মন জুড়ে রয়েছে।
কি করে তাকে কষ্ট দিবে সে,তাও আজকের মতো বিশেষ দিনে!
-আফরান?
পেছনে ফিরতেই সায়নীকে দেখতে পায় আফরান।
তার দেওয়া লাল শাড়ি পরে এসেছে সে।খানিকক্ষণ তাকে দেখে কাছে গিয়ে আফরান বলে-
লাল বানুর চোখও লাল কেনো?
-কেনো হতে পারে?
-কষ্ট পেয়েছো?আমি তোমার জায়গা কাউকে দিবোনা।
-আফরান আমি আর পারছিনা।কখন যাবে মুনিরার বাবারা!যাওয়ার নাম ঠিকানা নেই কোনো তাদের।উনারা যাওয়ার আগেই মনে হচ্ছে ওই মুনিরা তোমাকে কাবু করে ফেলবে।
-মনে হয় পারবে?

-না পারার কি আছে!আমিতো পুরোন হয়ে গিয়েছি....
-একটা থাপ্পড় দিবো ধরে।
-শুধু থাপ্পড় কেনো!মেরেই ফেলোনা তুমি আমাকে,মেরেই ফেলো।
শেষের কথাটা প্রায় চিৎকার করেই বলে সায়নী মাটিতে বসে পড়ে।এই অবস্থায় সায়নীকে দেখে আফরানের চোখেও পানি চলে আসে।কেনো সে সেইদিন গ্রামে গিয়েছিলো?কেনইবা মুনিরাকে বিয়ে করেছিলো?ছেড়ে দিবে ভেবে!পারছে কই!
সকলের চোখে বৈধ বউকে ছাড়া এতোটা সহজ নয় তার জানা ছিলোনা।কিভাবে কি হয়ে গেলো!এসবের মাঝে যদি সায়নী তাকে ছেড়ে দেয়!
হাটু গেড়ে আফরানও মাটিতে বসে পড়ে সায়নীর পাশে।সায়নীকে বুকে জড়িয়ে বলে
-শুভ ভালোবাসা দিবস।তবে আমার জন্য তোমাকে ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু প্রতিদিন তো স্পেশাল কিছু করার সুযোগ হয়না।তাই একটা দিবস উপলক্ষে আজকের দিনে না হয় এক সাথে সময় কাটিয়ে স্পেশাল কিছু করলাম।
সায়নী নিজেকে আফরানের কাছ থেকে ছাড়িয়ে অভিমানী স্বরে বলে-
আচ্ছা তাই!শুধু ভালোবাসা দিবসের কথা মনে আছে তোমার?
-হেহে কথা শেষ হয়নি।আরো আছে।
-কি?
-শুভ বিবাহ বার্ষিকী।
-মনে আছে তোমার?
-হুম।আজকের দিনটা কি ভূলে যাওয়া সম্ভব!আগামীবার থেকে সকলের সামনে, সকলের সাথে উদযাপন করবো।
-সত্যি?
-একদম।
চোখ দুটো মিটিমিটি করে খুলে মুনিরা।
কালকের রাতটি তার জন্য অনেকটায় স্পেশাল ছিলো।
আফরান তাকে আশ্বাস দিয়েছে।এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে!বিছানা ছেড়ে উঠতেই চোখ যায় তার সোফার দিকে।
আফরানকে দেখতে পায়না সে।আবারো কি তিনি বারান্দায় আছেন?আজকে একটা গান শুনেই ছাড়বো,
আর গানটা আমার জন্যই হবে।এসব ভেবে মুনিরা বারান্দায় যেতেই তা শূন্য দেখতে পায়।আফরান কে না পেয়ে হতাশ হয়ে রুম থেকে বের হয় সে।কেনো যেনো এখুনি আফরানের সাথে তার সময় কাটাতে বড্ড ইচ্ছে করছে।হয়তো বাসায় কোথাও আছে ভেবে সারাবাড়ি খুঁজে মুনিরা।এতো সকালে গেলো কই!হঠাৎ মুনিরার মাথায় আসে আফরান,সায়নীর রুমে নাতো!দুজনে হয়তো গল্প করছে।তবে তাদের গল্পের আসরে তিনজন হলে মন্দ হয়না।
-আসবো সায়নী আপু?
কয়েকবার ডেকে সাড়া না পেয়ে সামান্য দরজাটা ফাঁক করে মুনিরা।ইদানিং সায়নীকে দূর্বল লাগে।ঠিক আছেতো সে!
দরজার ফাঁক দিয়ে সায়নীকে দেখতে না পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ে সে।
এ কি!রুমে সায়নী নেই।বারান্দায়ও দেখে নেয় মুনিরা।এতো সকালে কই গেলো সায়নী!
হঠাৎ মুনিরার চোখ পড়ে বিছানার উপরে রাখা কার্ড-টার উপরে।কৌতুহলবশত হাতে নিয়ে দেখতে থাকে সে।একপর্যায়ে খুলে দেখে তাতে কি লেখা আছে।
-কাল সকাল ৮টাই তোমার জন্য সমুদ্রের পাড়ে অপেক্ষা করবো।আমি জানি তুমি আসবে।
এইরকম কার্ড সায়নীকে কে দিতে পারে?
হুম পাবেল ছাড়া কেউনা।তাহলে পাবেলের সাথেই আছে সায়নী!ইশ কি রোমান্টিক ওরা।ভালোবাসা দিবসের দিন এক সাথে আছে সমুদ্রের পাড়ে।আর আমার উনি!একদমই আনরোমান্টিক।আনরোমান্টিক কি একেবারেই ফালতু।এই সকাল সকাল কোথাও হাওয়া হয়ে গিয়েছে।আচ্ছা ছাদে যায়নি-তো!
সায়নীর চোখ দুটো রুমাল দিয়ে বন্ধ করে তাকে সমুদ্রের পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় আফরান।
-উফ...হয়েছে তোমার?চোখ খুলি?
-খুলো।
চোখ থেকে কাপড় সরিয়ে সায়নী কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়।
ছোট-খাটো একটি অন্যধরনের রেস্টুরেন্ট।
চারপাশে রঙ-বেরঙের বেলুন দিয়ে সাজানো।মাটিতে ছিটানো ফুলের পাপরি।মাঝখানে একটি টেবিল,তাতে একটি কেক আর লাল গোলাপের তোড়া রাখা।
এসব দেখে সায়নী আনন্দিত হয়ে যায়।অবাক চোখে আফরানের দিকে তাকিয়ে বলে-
এসব আমার জন্য?
-হুম আমার লাল বানুর জন্য।সামান্য খুশি করার চেষ্টা।
-আর কাউকে দেখছিনা যে?
-আরে ম্যাম,বুকিং করে ফেলেছি।
-কি বলো!
আফরান কিছু বলার আগেই গান বেজে উঠে-
তুমি দূরে দূরে আর থেকোনা,
এই চোখে চেয়ে দেখোনা,,
তুমি ভালোবেসে আমাকে,,
ওই হৃদয়ে বেঁধে রাখোনা....
-তুমি মিউজিক এর ও ব্যবস্থা করেছো!এতো কিছু!কিন্তু আমিতো কিছুই করিনি,কিছু আনিনি তোমার জন্য।
-তুমি চাইলেই কিন্তু কিছু দিতে পারো আমাকে।
-কি?
সায়নীর কাছে গিয়ে তার গালে দুহাত দিয়ে ধরে কপালে একটা আলতো করে চুমু খেয়ে আফরান বলে-
আজ কি আমি একটা পেতে পারি?
-কি?
-না বুঝলে আমিও আর কোনোদিন দিবোনা আর কি।
আফরানের মুখে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে পালিয়ে যেতে চাইলে আফরান তার হাত ধরে টেনে নিজের বাহুডোরে বন্দী করে সায়নীকে।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে-
হয়ে যাক একটা কাপল ডান্স?
এদিকে আফরান-কে কোথাও দেখতে না পেয়ে মুনিরা ফোন দেয় আফরানকে।কিন্তু ফোন বন্ধ পেয়ে আফরানের জন্য তার চিন্তা হতে শুরু করে।সকাল সকাল মানুষটা গেলো কই!ফোনটাও বন্ধ।সায়নীকে কি বলে গিয়েছে?তাকে নিশ্চয় বলেছে।সায়নীকে কি একটা ফোন দিয়ে দেখবে সে?কিন্তু সায়নীতো পাবেলের সাথে এখন।তাকে বিরক্ত করাতো ঠিক হবেনা।
আফরানের সাথে সময় কাটিয়ে বাসায় ফিরে সায়নী।আফরান ওদিক থেকেই অফিসে চলে যায়।কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দেয় মুনিরা।লাল শাড়িতে আসলেই সায়নীকে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।
-ওয়াও আপু!তোমাকে একদম লালবানু লাগছে।
মুনিরার কথায় থমকে যায় সায়নী।লালবানু তাকে আফরান ডাকে।মুনিরা কি করে জানলো!
প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
লাল বানু মানে?
-তোমার রুমে গিয়েছিলাম তোমার সাথে গল্প করতে,ওখানে পাবেল ভাইয়ার কার্ডটা পেয়েছি।উপর থেকে দেখতে এতোটা সুন্দর লেগেছে ভেতরে কেমন দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।
স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলে বাসার ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে সায়নী বলে-
ওহ।
-আপু উনি কোথায় জানো?সকাল থেকেই উনাকে দেখছিনা।ইয়ে মানে উনাকে ঘুম থেকে উঠে না দেখলে ভালো লাগেনা ইদানিং।
মুনিরার কথায় সায়নীর মেজাজটায় বিগড়ে যায়।বলে কি এই মেয়ে!৭দিন হয়নি বিয়ে হয়েছে,সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাকি আফরানকে দেখতে হবে।এসব পটানি টাইপের কথা আফরান শুনলেতো আকৃষ্ট হয়ে পড়বে মুনিরার উপর।যতই সায়নীকে ভালোবাসুক সে,ছেলের মনতো!
-তোমাকে নিশ্চয় বলে গিয়েছে?
দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগ সংযত করে সায়নী বলে-
কেনো তোমাকে বলেনি?
-বলেনি বলেইতো জিজ্ঞেস করলাম।আমাকে কিছু বলে নাকি!তুমি জানলে বলোনা প্লিজ।
-বন্ধুর সাথে বাইরে গিয়েছে,ওখান থেকেই অফিসে যাওয়ার কথা।
-ফোনটা অফ।অফিসের নাম্বারটা বাবার কাছ থেকে চাইতে লজ্জা লাগছিলো।তুমি দিবা প্লিজ?
সায়নী বেশ অবাক-ই হলো মুনিরার কাণ্ড দেখে।ওরে আমার লজ্জাবতীরে....
তার নাকি নাম্বার খুঁজতে লজ্জা লাগে!
সায়নী আর কিছু না বলে নিজের মোবাইল থেকেই আফরানের অফিসের ফোনে ডায়াল করে।
-হ্যালো আফরান?
-কি ব্যাপার মিস করছো?
-মুনিরা মিস করছে।
-মানে?
-ওকে না বলে চলে গিয়েছো কেনো?জানোনা সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমাকে দেখতে হয় ওর।
-তোমাকে বলেছে সে এসব?
-না আমি বানিয়ে বলছি।
মুনিরার এসব কথায় যে সায়নীর মেজাজ খারাপ হয়েছে আফরান বুঝতে পারে।শান্ত গলায় বলে-
মুনিরাকে ফোনটা দাও।
সায়নী ফোন মুনিরার দিকে এগিয়ে দিতেই সে ফোনটা কানে লাগিয়েই বলে উঠে-
এইরকম আর না বলে যাবেন না।বুঝলাম যে আমি ঘুমোচ্ছিলেন তাই বিরক্ত করেন নি।কিন্তু পরেরবার থেকে বলেই যাবেন।
এসব কথা সায়নীর সামনে বলার কোনো মানে হয়!এমনিতেই মেয়েটার মনে তাকে হারানোর ভয় জমে আছে, এসব কথা শুনেতো ভাববে মুনিরার সাথে সম্পর্কটা এগুচ্ছে।ধমকের সুরেই আফরান বলে-
এই মেয়ে কখন তোমাকে বলে বের হয়েছি আমি!আর এসব কথা তুমি সায়নীকে কেনো বলতে গিয়েছো?আমি বাইরে থাকা অবস্থায় আর কখনও ফোন করবেনা আমাকে, কোনো দরকার হলেও না।
-আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো?
আর কিছু না বলে আফরান ফোনের লাইন কেটে দেয়।
মুনিরার কথা শুনে সায়নী বুঝেছে আফরান তাকে কটু কথা শুনিয়েছে।তার ছলছল দৃষ্টি সায়নীর ভালো না লাগলেও মনটা শান্ত লাগছে।
সন্ধ্যা ৭টা....
সকাল সকাল বের হওয়ার কারণে আফরানের শরীরটা ভালো লাগছেনা।তাই সে বাসায় ফিরে আসে।হাসির মা দরজা খুলতেই জিজ্ঞেস করে-
মুনিরার আম্মারা চলে গিয়েছেন?
-না আব্বাজান,আছেতো।
-ওহ।
বিরক্তি ভাব নিয়ে নিজের রুমে পা রাখতেই দেখতে পায় ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ির কুচি ঠিক করছে মুনিরা।আজ সে সায়নীর মতই সেজেছে চুল খোলা রেখে।
আজ প্রথম মুনিরাকে খোলা চুলে দেখছে আফরান।সায়নীর মতো লম্বা চুল না হলেও খোলা চুলে সুন্দর-ই লাগছে তাকে।কিন্তু তার সায়নীর মতো সাজার কারণ-টা কি!
-এসবের মানে কি?
আফরানের কণ্ঠ শুনে চমকে যায় মুনিরা।
পেছনে তার দিকে তাকিয়ে বলে-
আপনি এতো তাড়াতাড়ি?
-তোমার সমস্যাটা কি?তাড়াতাড়ি বের হলেও সমস্যা আসলেও সমস্যা!
-আমিতো এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম।
-করবেনা।আর হঁ্যা,সায়নীর মতো সাজে তোমাকে মানায়নি।ওর মতো হওয়ার চেষ্টা করবেনা।
মনটা ছোট হয়ে যায় মুনিরার।অভিমানী সুরে বলে-
ঠিক আছে।
আফরান বুঝতে পারে কষ্ট পেয়েছে সে।পরিস্থিতি ঠিক করতে আবার বলে-
নিজের মতোই সাজবা।খোপা করে,মাথায় কাপড় দিয়ে রাখলে ভালোই লাগে।
কথাটি বলেই আফরান ড্রয়ার থেকে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমের উদ্দেশ্য চলে যায়।আর মুনিরা খুশিতে খোপা করতে থাকে।আফরানের যেমন পছন্দ তার-ই তেমন পছন্দ।
-আজ নাকি ভালোবাসা দিবস মুনিরার আব্বা!
-এগুলা কি আমাদের জন্য এসেছে নাকি!
-হুম তুমিতো এসব বলবাই।মানুষতো শখ করেও বউকে এই দিনে কিছু একটা দেয় আর তুমি....
-কিছু দিতে দিবস লাগে?
-দিবস ছাড়াও তো দাওনা।তাই তোমাদের মতো কিপ্টাদের জন্যই এই দিবস বের করছে যাতে একদিন হলেও বউরে একটু সময় দিতে পারো,কিছু একটা উপহার দিতে পারো।কিন্তু তোমরা এই দিনেও কিপ্টানি করবা।কিছু দেওয়ার ভয়ে বলবা,'আমার জন্য প্রত্যেকদিন দিনই ভালোবাসা দিবস।'
-হাহাহা,তুমি পারোও মুনিরার মা!বুড়ো বয়সে.....
-বুড়ি যখন ছিলাম না তখনও দাওনি।
তাই এখন শোক তুলি আরকি!
-আচ্ছা।
-আমার মেয়ের কপাল টাও আমার মতো।নতুন বিয়ে হইছে।জামাই কোথাও নিয়ে যায় নাই,উল্টো নিজে অফিস চলে গেছে,মেয়েটারে কিছু দেয়নাই ও।
-দিছে হয়তো।
-দেয়নাই।দিলে তোমার মেয়ে এসে বলতো।
ড্রয়িং রুমের উদ্দেশ্য আসছিলো আফরান।
মুনিরার মায়ের শেষের কথাটি তার কান স্পর্শ করে।আসলেইতো!মেয়েটার কি দোষ!এমন দিনে সে আরো খারাপ ব্যবহার করতে থেকেছে মেয়েটার সাথে যা ঠিক হয়নি।
আফরান আর অপেক্ষা না করে বাসার বাইরে চলে যায়।
বাড়ির পাশের গিফট শপ থেকে হলেও মুনিরার জন্য কিছু আনা উচিত।আজ মুনিরাকে কড়া কথা বেশি শুনিয়েছে,তার জন্য একটু মন ভালো করতে একটা উপহার দিতেই পারে।তাছাড়া উপহার না দিলে মুনিরার মা এটা নিয়েও তার বাবাকে অভিযোগ করতে পারে।
সায়নীর ফোন বাজছে।পাবেলের ফোন এসেছে।যা রিসিভ করতে তার একদমই ভালো লাগছেনা।না চাইতেও রিসিভ করে সে।
-হ্যালো?
-কেমন আছো?
-ভালো।আপনি?
-আছি ভালোই।
-ফুফুরা ভালো আছেন?
-হুম আছেন।আসলে দরকারে ফোন দিয়েছি তোমাকে।
-কি দরকার?
-মা চাচ্ছেন,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা সেরে ফেলতে।বিয়ের কথা বলতে আমরা তোমাদের ওখানে আসবো।
কথাটি শুনে বুকটা ধুক করে উঠে সায়নীর।
লাইন কেটে ফোনটা বন্ধ করে দেয় সে।
কি বলবে সে পাবেল কে!ফুফু কতো আশা করে আছেন।সবার বিশ্বাস নিয়ে আর কতো খেলবে সে!কি করা উচিত তার!
-মুনিরা এটা তোমার জন্য।
ছোট একটা প্যাকেট আফরান তার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে দেখে বেশ অবাক হয় সে।
-কি হলো নাও!
-এটা আমার জন্য?
-হুম,তোমার জন্য।
আফরানের হাত থেকে প্যাকেট-টি নিয়ে অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে মুনিরা বলে-
সত্যি?না মানে,কেনো?
-ভালো লেগেছে তাই।
কথা না বাড়িয়ে আফরান রুম ছেড়ে চলে যায়।এদিকে মুনিরা তাড়াতাড়ি করে প্যাকেট-টি খুলে।প্যাকেটের ভেতর থেকে একটা ছোট বক্স বের করে।বক্সটি খুলেই দেখে এক জোড়া পায়েল!যা দেখে খুশিতে মুনিরার চোখে পানি চলে আসে।পায়েল জোড়া হাতে নিয়ে দেখতে থাকে সে।
-এতো সুন্দর পায়েল জোড়া কে দিয়েছে তোকে?
-আম্মা তুমি!ভেতরে আসো।
মেয়ের কথায় মুনিরার মা ভেতরে গিয়ে তার পাশে বসে বলে-
কে দিয়েছে?
-তোমাদের জামাই।
-কি!আমি আরো তোর বাবাকে বলছিলাম আমাদের জামাই তোর বাবার মতো পানসে।
এখন দেখছি আমার ধারণা ভূল।ভালোবাসা দিবসে তোকে সময় দিতে না পারলেও উপহার দিয়েছে।
মায়ের কথা শুনে মুনিরার মনে আরো এক ধাপ আশা জেগে উঠে।মুখে কিছু না বললেও আজকের দিনে আফরান তাকে উপহার দিয়েছে মানে তাদের সম্পর্কটা এগুচ্ছে।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর সায়নী তার ফোনটা অন করে ডায়াল করে পাবেলের নাম্বারে।ঠিক করে আজ সে পাবেল-কে সব বলবেই।
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)