বান্ধবী - সাজি আফরোজ (পর্ব ২)
ঘুমটা ভাঙতেই শোয়া থেকে উঠে বসলো ঝুমু। পাশ ফিরে দেখলো, মুনিয়া গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার বালিশের পাশেই মোবাইলটা দেখা যাচ্ছে।
ঝুমু খুব সাবধানে মুনিয়ার মোবাইলটি হাতে নিলো। সকাল ১০টা বেজে গেলো! আজ এতোক্ষণ ঘুমিয়েছে সে, অবিশ্বাস্য!
আর কিছু না ভেবে মেসেজ অপশন চেক করতে থাকলো ঝুমু। মুনিয়ার ফোনের পাসওয়ার্ড তার অজানা নয়।
চ্যাট দেখে মুচকি হাসলো ঝুমু। মুনিয়া ঠিক তার মতোই কথা বলেছে ইমরুলের সাথে। কোনো হাবিজাবি কথা বলেনি। কিন্তু তবুও ইমরুলের জানা উচিত, চ্যাট করা মেয়েটি কে।
ঝুমু কিছু টাইপ করতে যাবে ঠিক তখনি তার হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিলো মুনিয়া।
ভাঙ্গা গলায় বললো-
ফাজলামো করিস না ঝুমু। ঘুমিয়ে পড়।
-১০টা বাজলো, আরো ঘুমোবো!
-পরীক্ষা শেষে দিনের ১২টা পর্যন্ত ঘুমানো উচিত।
-তোর গলা ভেঙে গিয়েছে। কেনো যে কাল আইসক্রিম খাবার আবদার রাখতে গেলাম...
.
ঝুমু খেয়াল করলো মুনিয়ার চোখের ঘুম কাটেনি এখনো। তাই সে আর কথা না বলে উঠে পড়লো।
বারান্দায় এসে দেখলো, আকাশটা একেবারেই পরিষ্কার। মনেই হচ্ছেনা, কাল বৃষ্টি পড়েছে।
পেছন থেকে মুনিয়া বলে উঠলো-
মেসেজ এসেছে ইমরুলের। ছাতা নিয়ে যেতে বললো।
-নিয়ে যা।
-আমি! ছাতাটা বুঝি আমি নিয়েছিলাম?
.
নিশ্চুপ ঝুমু। তার যে এই সময়ে বের হতে ইচ্ছে করেনা।
মুনিয়ার ব্রাশে পেস্ট লাগাতে লাগাতে বললো-
কেনো যে ছাতাটা নিতে গেলি!
.
.
নিজেদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে একটি টঙের দোকানে বসে আছে ঝুমু ও মুনিয়া। এদিকটায় তাদের এলাকার মানুষজন খুব কমই আসে। তবে ঝুমু ও মুনিয়ার সাথে টঙের দোকানের রহিম চাচার সাথে ভালোই ভাব আছে। বয়স্ক লোকটি সময় পার করার জন্যই এই দোকানটাই বসেন।
ইমরুল আসার কথা আরো ১৫মিনিট আগে। কিন্তু সে এখনো আসেনি। এদিকে টঙের দোকানে রঙ চা খেতে-খেতে রহিম চাচার সাথে আড্ডায় মেতে উঠেছে মুনিয়া। ঝুমু মৃদু স্বরে বললো-
ছেলেটি কি দোকানটি চিনতে পারছেনা?
-এতো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করলাম, না চেনার কি আছে!
-সে এই এলাকায় নতুন এসেছে। নাও চিনতে পারে। একটা মেসেজ তো করে দেখ।
.
-ঝুমু আর মুনিয়া না?
.
একটি ছেলের মুখে নিজেদের নাম শুনে যতোটা না অবাক হয়েছে তার চেয়ে বেশি অবাক তারা ছেলেটিকে দেখে।
লম্বা, ফর্সা, গালে চাপ দাঁড়ি সব মিলিয়ে যেনো স্বপ্নের পুরুষ।
তাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো মুনিয়া ও ঝুমু।
মুনিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও ঝুমু জিজ্ঞাসা করলো-
আপনি কি ইমরুল?
-জ্বী। আমাকে চেনেন নি?
-আসলে কাল তো অন্ধকার ছিলো তাই...
-তা অবশ্য ঠিক। আমিও ছাতাটা দেখে চিনেছি।
-ওহ।
.
রহিম চাচার দিকে তাকিয়ে ইমরুল বললো-
চাচাজান? তিন কাপ চা দিন। আমারটাই দুধ বেশি দিবেন।
.
ইমরুল বসে পড়লো দোকানে থাকা বেঞ্চের উপরে। তার পাশের বেঞ্চে মুনিয়া ও ঝুমু বসলো।
মুনিয়া কোনো কথা কেনো বলছেনা বুঝতে পারলোনা ঝুমু। ইমরুলের উদ্দেশ্যে সে বললো-
একটা কথা ছিলো...
.
ফোনটা বেজে উঠলো ইমরুলের।
-আমি ফোনে কথা সেরে নিই?
.
মুখে হালকা হাসির রেখা এনে ঝুমু বললো-
সিউর।
.
ফোন রিসিভ করে ওপাশের কথা শুনে ইমরুল বললো-
মিথ্যে আমি একেবারেই সহ্য করতে পারিনা। দুষ্টুমি অনেক ভাবে করা যায়, মিথ্যে বলে কেনো করতে হবে! ওকে বলবি, ওর সাথে কোনো কথা আমি বলবোনা আর। রাখ এখন।
.
কালকের চ্যাট করা মেয়েটি ঝুমু নয়, এটাই বলতে চেয়েছিলো ঝুমু। কিন্তু ইমরুলের মুখে এসব কথা শুনে আর বলার সাহস পেলোনা সে। যদি ভুল বুঝে মুনিয়াকে...
.
ইমরুল বললো-
কি যেনো বলতে চেয়েছেন আপনি?
-ও হ্যাঁ। এখানে কার বাসায় এসেছেন আপনি?
-বলেছিলাম, আমার মামা।
-তা জানি। আপনার মামার নাম?
-ফোরকান।
-ওহ! ফোরকান আঙ্কেলের বাসায় এসেছেন আপনি! তার ছেলের সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক আমাদের।
-ফারুক অনেক ভালো। তবে জুনিয়র বলে তেমন মেশা হয়না।
-আমাদেরও জুনিয়র কিন্তু।
-হবেই তো। মাত্র ক্লাস ১০ এ পড়ে সে।
-আপনি কি করেন?
-একটা প্রাইভেট কোম্পানি জব পেয়েছি। আগামী মাস থেকে জয়েন করবো। তবে এটা পার্মানেন্ট নয়। যতোদিন না ভালো কোনো জব পাচ্ছি, এখানে করে যাবো।
.
এখন ফোন বেজে উঠলো ঝুমুর। মায়ের ফোন এসেছে তার। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে জানতে চায়লো সে কোথায় এখন।
জবাবে ঝুমু বললো-
এইতো আম্মু বের হলাম মুনিয়ার বাসা থেকে। একটু ঘোরাঘুরি করেই চলে আসবো বাসায়।
.
ফোন রাখতেই ইমরুল প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
আপনারা বোন নয়?
-বান্ধবী।
-আমি বোন ভেবেছিলাম বলে সত্যিটা বলেন নি?
.
এপর্যায়ে মুখ খুললো মুনিয়া।
-দুটোর শুরুই ব দিয়ে। কি এসে যায়!
.
মুনিয়ার কথা শুনে ইমরুল বললো-
আসলেই।
.
.
ঝুমুর রুমে বসে আছে মুনিয়া। ঝুমু দুই বাটি নুডলস এনে বিছানায় বসতে বসতে বললো-
এমন উদাসীন কেনো মনে হচ্ছে তোকে?
-বড়সড় একটা ক্রাশ খেয়েছি রে!
-ইমরুলের উপর?
-হু। তুইও খেয়েছিস। তাইনা?
-সত্যি বলবো?
-না বললেও জানি।
-হ্যাঁ খেয়েছি।
-ফারুকের মামাতো ভাই এতো সুদর্শন হতে পারে জানা ছিলোনা।
-ফারুকের মামাতো ভাই আছে, এটা যেনো আগে জানতে তুই।
.
মেসেজের শব্দে বেজে উঠলো মুনিয়ার ফোন। ইমরুলের মেসেজ-
আজ মুনিয়াকে চুপচাপ দেখেছি। সেদিন তো অনেক বকবক করেছিলো। উনার কি শরীর খারাপ?
.
মুনিয়া ঝুমুর উদ্দেশ্যে বললো-
ইমরুলের মেসেজ এসেছে।
-আজ বলতে চেয়েও বলতে পারিনি, নাম্বারটি তোর।
-কেনো?
-সে মিথ্যে পছন্দ করেনা শুনে। যাক গে। বলার কি আছে! আমরা তো আর তার সাথে প্রেম করতে যাচ্ছিনা। সো বলার কিছু নেই।
-কিন্তু মেসেজ দিলে রিপ্লাই না দেয়া ঠিক হবে?
-সমস্যা কি! দিবি। আমি আর তুই ডিফারেন্স কি! সে কয়েকদিন পর এখান থেকে চলে গেলে এমনিতেও আমাদের কথা মনে থাকবেনা তার। আর তুই যদি বলে দিতে চাস বলে দিতে পারিস।
.
ঝুমু নুডলস খাওয়া শুরু করলো।
মুনিয়ার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গিয়েছে ইমরুলকে। এখন কিভাবে জানতে পারে, ইমরুলের তাকে পছন্দ কিনা?
.
চট করে একটা বুদ্ধি চলে এলো মুনিয়ার মাথায়। ঝুমুর কাছে মনের কথা নিশ্চয় বলতে পারে ইমরুল। এইতো এখনি ঝুমুকে মেসেজ পাঠালো, তার খবর জানতে চেয়ে। তার মানে তাকে দেখে ইমরুলের মনেও অন্য কোনো অনুভূতি জন্ম নিয়েছে? যেমনটা মুনিয়ার মনে নিয়েছে?
.
ঝুমু বললো-
কিরে নুডলস পাগলী? খাচ্ছিস না কেনো?
-হু খাচ্ছি।
.
মুনিয়া রিপ্লাই দিলো-
হ্যাঁ মুনিয়ার সর্দি এসেছে।
.
.
রাতে নিজের রুমে শুয়ে ইমরুলের সাথে চ্যাটে ব্যস্ত মুনিয়া। ঘড়িতে সময় ঠিক ১১টা।
কথার এক ফাঁকে ইমরুল বললো-
আমি আপনার বাসার সামনে।
.
মুনিয়া একটু অবাক হয়ে রিপ্লাই দিলো-
বাসা কি করে চিনলেন?
-ফারুকের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
-ওহ! হঠাৎ?
-হাঁটতে হাঁটতে চলে আসা।
.
ঝুমুর বাসার সামনে ইমরুল দাঁড়িয়ে আছে বুঝতে পারলো মুনিয়া। এখন যদি ইমরুল তাকে দেখা দিতে বলে?
তাকে অবাক করে ইমরুল লিখলো-
আপনি চ্যাটের এক পর্যায়ে বলেছিলেন আপনারা প্রায় একসাথে থাকেন। আজ কি মুনিয়া নেই আপনার সাথে?
-না নেই।
-ওহ! আচ্ছা রাত হয়ে যাচ্ছে। আমি বাসার দিকে যাচ্ছি।
-ঠিক আছে।
-একটা কথা রাখবেন?
-বলুন?
-কাল এলাকা টা ঘুরিয়ে দেখাবেন আপনারা আমাকে? ফারুকও থাকবে। আশা করি সমস্যা হবেনা।
-নিশ্চয়।
-গুড নাইট।
-ইউ টু।
.
চ্যাট শেষেই বিছানার উপরে দাঁড়িয়ে লাফাতে লাগলো মুনিয়া।
কাল যে আবারো ইমরুলের দেখা পাবে সে!
কিন্তু পরক্ষণেই মুখটা মলীন হয়ে গেলো। এলাকায় ছেলে নিয়ে ঘুরতে রাজী হবার মেয়ে ঝুমু নয়। এখন কি হবে! ইশ, ইমরুল যদি এলাকায় না বলে বাইরে কোথাও বলতো!
বিড়বিড়িয়ে মুনিয়া বললো-
সেই সময়টাও আসবে রে মুনু! সেই সময়টাও আসবে।
.
(চলবে)
ঝুমু খুব সাবধানে মুনিয়ার মোবাইলটি হাতে নিলো। সকাল ১০টা বেজে গেলো! আজ এতোক্ষণ ঘুমিয়েছে সে, অবিশ্বাস্য!
আর কিছু না ভেবে মেসেজ অপশন চেক করতে থাকলো ঝুমু। মুনিয়ার ফোনের পাসওয়ার্ড তার অজানা নয়।
চ্যাট দেখে মুচকি হাসলো ঝুমু। মুনিয়া ঠিক তার মতোই কথা বলেছে ইমরুলের সাথে। কোনো হাবিজাবি কথা বলেনি। কিন্তু তবুও ইমরুলের জানা উচিত, চ্যাট করা মেয়েটি কে।
ঝুমু কিছু টাইপ করতে যাবে ঠিক তখনি তার হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিলো মুনিয়া।
ভাঙ্গা গলায় বললো-
ফাজলামো করিস না ঝুমু। ঘুমিয়ে পড়।
-১০টা বাজলো, আরো ঘুমোবো!
-পরীক্ষা শেষে দিনের ১২টা পর্যন্ত ঘুমানো উচিত।
-তোর গলা ভেঙে গিয়েছে। কেনো যে কাল আইসক্রিম খাবার আবদার রাখতে গেলাম...
.
ঝুমু খেয়াল করলো মুনিয়ার চোখের ঘুম কাটেনি এখনো। তাই সে আর কথা না বলে উঠে পড়লো।
বারান্দায় এসে দেখলো, আকাশটা একেবারেই পরিষ্কার। মনেই হচ্ছেনা, কাল বৃষ্টি পড়েছে।
পেছন থেকে মুনিয়া বলে উঠলো-
মেসেজ এসেছে ইমরুলের। ছাতা নিয়ে যেতে বললো।
-নিয়ে যা।
-আমি! ছাতাটা বুঝি আমি নিয়েছিলাম?
.
নিশ্চুপ ঝুমু। তার যে এই সময়ে বের হতে ইচ্ছে করেনা।
মুনিয়ার ব্রাশে পেস্ট লাগাতে লাগাতে বললো-
কেনো যে ছাতাটা নিতে গেলি!
.
.
নিজেদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে একটি টঙের দোকানে বসে আছে ঝুমু ও মুনিয়া। এদিকটায় তাদের এলাকার মানুষজন খুব কমই আসে। তবে ঝুমু ও মুনিয়ার সাথে টঙের দোকানের রহিম চাচার সাথে ভালোই ভাব আছে। বয়স্ক লোকটি সময় পার করার জন্যই এই দোকানটাই বসেন।
ইমরুল আসার কথা আরো ১৫মিনিট আগে। কিন্তু সে এখনো আসেনি। এদিকে টঙের দোকানে রঙ চা খেতে-খেতে রহিম চাচার সাথে আড্ডায় মেতে উঠেছে মুনিয়া। ঝুমু মৃদু স্বরে বললো-
ছেলেটি কি দোকানটি চিনতে পারছেনা?
-এতো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করলাম, না চেনার কি আছে!
-সে এই এলাকায় নতুন এসেছে। নাও চিনতে পারে। একটা মেসেজ তো করে দেখ।
.
-ঝুমু আর মুনিয়া না?
.
একটি ছেলের মুখে নিজেদের নাম শুনে যতোটা না অবাক হয়েছে তার চেয়ে বেশি অবাক তারা ছেলেটিকে দেখে।
লম্বা, ফর্সা, গালে চাপ দাঁড়ি সব মিলিয়ে যেনো স্বপ্নের পুরুষ।
তাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো মুনিয়া ও ঝুমু।
মুনিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও ঝুমু জিজ্ঞাসা করলো-
আপনি কি ইমরুল?
-জ্বী। আমাকে চেনেন নি?
-আসলে কাল তো অন্ধকার ছিলো তাই...
-তা অবশ্য ঠিক। আমিও ছাতাটা দেখে চিনেছি।
-ওহ।
.
রহিম চাচার দিকে তাকিয়ে ইমরুল বললো-
চাচাজান? তিন কাপ চা দিন। আমারটাই দুধ বেশি দিবেন।
.
ইমরুল বসে পড়লো দোকানে থাকা বেঞ্চের উপরে। তার পাশের বেঞ্চে মুনিয়া ও ঝুমু বসলো।
মুনিয়া কোনো কথা কেনো বলছেনা বুঝতে পারলোনা ঝুমু। ইমরুলের উদ্দেশ্যে সে বললো-
একটা কথা ছিলো...
.
ফোনটা বেজে উঠলো ইমরুলের।
-আমি ফোনে কথা সেরে নিই?
.
মুখে হালকা হাসির রেখা এনে ঝুমু বললো-
সিউর।
.
ফোন রিসিভ করে ওপাশের কথা শুনে ইমরুল বললো-
মিথ্যে আমি একেবারেই সহ্য করতে পারিনা। দুষ্টুমি অনেক ভাবে করা যায়, মিথ্যে বলে কেনো করতে হবে! ওকে বলবি, ওর সাথে কোনো কথা আমি বলবোনা আর। রাখ এখন।
.
কালকের চ্যাট করা মেয়েটি ঝুমু নয়, এটাই বলতে চেয়েছিলো ঝুমু। কিন্তু ইমরুলের মুখে এসব কথা শুনে আর বলার সাহস পেলোনা সে। যদি ভুল বুঝে মুনিয়াকে...
.
ইমরুল বললো-
কি যেনো বলতে চেয়েছেন আপনি?
-ও হ্যাঁ। এখানে কার বাসায় এসেছেন আপনি?
-বলেছিলাম, আমার মামা।
-তা জানি। আপনার মামার নাম?
-ফোরকান।
-ওহ! ফোরকান আঙ্কেলের বাসায় এসেছেন আপনি! তার ছেলের সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক আমাদের।
-ফারুক অনেক ভালো। তবে জুনিয়র বলে তেমন মেশা হয়না।
-আমাদেরও জুনিয়র কিন্তু।
-হবেই তো। মাত্র ক্লাস ১০ এ পড়ে সে।
-আপনি কি করেন?
-একটা প্রাইভেট কোম্পানি জব পেয়েছি। আগামী মাস থেকে জয়েন করবো। তবে এটা পার্মানেন্ট নয়। যতোদিন না ভালো কোনো জব পাচ্ছি, এখানে করে যাবো।
.
এখন ফোন বেজে উঠলো ঝুমুর। মায়ের ফোন এসেছে তার। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে জানতে চায়লো সে কোথায় এখন।
জবাবে ঝুমু বললো-
এইতো আম্মু বের হলাম মুনিয়ার বাসা থেকে। একটু ঘোরাঘুরি করেই চলে আসবো বাসায়।
.
ফোন রাখতেই ইমরুল প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
আপনারা বোন নয়?
-বান্ধবী।
-আমি বোন ভেবেছিলাম বলে সত্যিটা বলেন নি?
.
এপর্যায়ে মুখ খুললো মুনিয়া।
-দুটোর শুরুই ব দিয়ে। কি এসে যায়!
.
মুনিয়ার কথা শুনে ইমরুল বললো-
আসলেই।
.
.
ঝুমুর রুমে বসে আছে মুনিয়া। ঝুমু দুই বাটি নুডলস এনে বিছানায় বসতে বসতে বললো-
এমন উদাসীন কেনো মনে হচ্ছে তোকে?
-বড়সড় একটা ক্রাশ খেয়েছি রে!
-ইমরুলের উপর?
-হু। তুইও খেয়েছিস। তাইনা?
-সত্যি বলবো?
-না বললেও জানি।
-হ্যাঁ খেয়েছি।
-ফারুকের মামাতো ভাই এতো সুদর্শন হতে পারে জানা ছিলোনা।
-ফারুকের মামাতো ভাই আছে, এটা যেনো আগে জানতে তুই।
.
মেসেজের শব্দে বেজে উঠলো মুনিয়ার ফোন। ইমরুলের মেসেজ-
আজ মুনিয়াকে চুপচাপ দেখেছি। সেদিন তো অনেক বকবক করেছিলো। উনার কি শরীর খারাপ?
.
মুনিয়া ঝুমুর উদ্দেশ্যে বললো-
ইমরুলের মেসেজ এসেছে।
-আজ বলতে চেয়েও বলতে পারিনি, নাম্বারটি তোর।
-কেনো?
-সে মিথ্যে পছন্দ করেনা শুনে। যাক গে। বলার কি আছে! আমরা তো আর তার সাথে প্রেম করতে যাচ্ছিনা। সো বলার কিছু নেই।
-কিন্তু মেসেজ দিলে রিপ্লাই না দেয়া ঠিক হবে?
-সমস্যা কি! দিবি। আমি আর তুই ডিফারেন্স কি! সে কয়েকদিন পর এখান থেকে চলে গেলে এমনিতেও আমাদের কথা মনে থাকবেনা তার। আর তুই যদি বলে দিতে চাস বলে দিতে পারিস।
.
ঝুমু নুডলস খাওয়া শুরু করলো।
মুনিয়ার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে গিয়েছে ইমরুলকে। এখন কিভাবে জানতে পারে, ইমরুলের তাকে পছন্দ কিনা?
.
চট করে একটা বুদ্ধি চলে এলো মুনিয়ার মাথায়। ঝুমুর কাছে মনের কথা নিশ্চয় বলতে পারে ইমরুল। এইতো এখনি ঝুমুকে মেসেজ পাঠালো, তার খবর জানতে চেয়ে। তার মানে তাকে দেখে ইমরুলের মনেও অন্য কোনো অনুভূতি জন্ম নিয়েছে? যেমনটা মুনিয়ার মনে নিয়েছে?
.
ঝুমু বললো-
কিরে নুডলস পাগলী? খাচ্ছিস না কেনো?
-হু খাচ্ছি।
.
মুনিয়া রিপ্লাই দিলো-
হ্যাঁ মুনিয়ার সর্দি এসেছে।
.
.
রাতে নিজের রুমে শুয়ে ইমরুলের সাথে চ্যাটে ব্যস্ত মুনিয়া। ঘড়িতে সময় ঠিক ১১টা।
কথার এক ফাঁকে ইমরুল বললো-
আমি আপনার বাসার সামনে।
.
মুনিয়া একটু অবাক হয়ে রিপ্লাই দিলো-
বাসা কি করে চিনলেন?
-ফারুকের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
-ওহ! হঠাৎ?
-হাঁটতে হাঁটতে চলে আসা।
.
ঝুমুর বাসার সামনে ইমরুল দাঁড়িয়ে আছে বুঝতে পারলো মুনিয়া। এখন যদি ইমরুল তাকে দেখা দিতে বলে?
তাকে অবাক করে ইমরুল লিখলো-
আপনি চ্যাটের এক পর্যায়ে বলেছিলেন আপনারা প্রায় একসাথে থাকেন। আজ কি মুনিয়া নেই আপনার সাথে?
-না নেই।
-ওহ! আচ্ছা রাত হয়ে যাচ্ছে। আমি বাসার দিকে যাচ্ছি।
-ঠিক আছে।
-একটা কথা রাখবেন?
-বলুন?
-কাল এলাকা টা ঘুরিয়ে দেখাবেন আপনারা আমাকে? ফারুকও থাকবে। আশা করি সমস্যা হবেনা।
-নিশ্চয়।
-গুড নাইট।
-ইউ টু।
.
চ্যাট শেষেই বিছানার উপরে দাঁড়িয়ে লাফাতে লাগলো মুনিয়া।
কাল যে আবারো ইমরুলের দেখা পাবে সে!
কিন্তু পরক্ষণেই মুখটা মলীন হয়ে গেলো। এলাকায় ছেলে নিয়ে ঘুরতে রাজী হবার মেয়ে ঝুমু নয়। এখন কি হবে! ইশ, ইমরুল যদি এলাকায় না বলে বাইরে কোথাও বলতো!
বিড়বিড়িয়ে মুনিয়া বললো-
সেই সময়টাও আসবে রে মুনু! সেই সময়টাও আসবে।
.
(চলবে)

Comments
Post a Comment