শেষ থেকে শুরু - সাজি আফরোজ (পর্ব ৮)


-কি বলতে চাইছো আপু? বলো তুমি।
.
শাকিলের একটা হাত নিজের হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে শাম্মি বললো-
আমি তোর আপন বোন নারে।
.
শাম্মির মুখে কথাটি শুনে আঁতকে উঠলো শাকিল। মনে হচ্ছে কিছু একটা সে ভুল শুনেছে! বোনের দিকে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
কি বললে আপু তুমি? বুঝলাম না।
-আমাদের মায়ের বড় বোন ছিলো। শুনেছিস না?
-হু।
-আমি তার মেয়ে।
-আপু তুমি কি বলছো আমি কিছুই বুঝছিনা!
.
লম্বা একটা দম ফেললো শাম্মি।
শাকিলের দিকে তাকিয়ে সে বলতে লাগলো-
মায়ের বড় বোনের সাথেই আমাদের বাবার বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে৷ খুব সুখী পরিবার ছিলো তারা। কিন্তু আমার জন্মের সময় মায়ের বড় বোন মানে আমার জন্মদাত্রী মা মারা যান।
.
কথাটি বলেই থেমে গেলো শাম্মি।
শান্ত গলায় শাকিল বললো-
তারপর?
-তারপর মাকে সবাই অনুরোধ করে বাবাকে বিয়ে করতে যাতে আমার কোনো অসুবিধে না হয়। নানাভাই আমাকে মায়ের কোলে তুলে দিয়ে বলেছিলেন আমার সমস্ত দায়িত্ব তার। এদিকে মায়ের সম্পর্ক ছিলো মি.ফিরোজের সাথে। দুজনে কতো স্বপ্ন সাজিয়েছিলো দুজনকে ঘিরে! কিন্তু আমার জন্য মা তার ভালোবাসা ত্যাগ করলো। বিয়ে করে নিলো বাবাকে। মি.ফিরোজ সবটা জানতেন। মায়ের অসহায়ত্ব বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। একবুক কষ্ট নিয়ে চলে যান বিদেশে।
.
আবারো থামলো শাম্মি। শাকিলের হাতটা ছেড়ে নিজের চোখের গড়িয়ে পড়া পানি মুছে বললো-
বাকিগুলো তো তুই জানিসই।
তোর যখন প্রায় ৬বছর বাবা মারা যান। মা শিক্ষকতা করে আমাদের ভোরণ পোষণ করতো। কোনো কিছুর অভাব তিনি হতে দেননি।
-আপু তুমি কিভাবে এসব জানলে? মা আর তার প্রাক্তন প্রেমিকের ব্যাপারে?
-খুব ছোট থেকে দেখতাম নানাভাই মাকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য অনুরোধ করতেন, তিনি মা রাজি হতেন না। একসময় আমি নিজেই মাকে বলেছিলাম আরেকটা বিয়ের কথা। সেদিনই মা আমাকে মি.ফিরোজের কথা বলেছে আর বলেছে এসব। নিজের জন্মদাত্রী কে এটা আমার জানার অধিকার বলেই মা আমাকে সবটা জানিয়েছে।
সেই যাই হোক, মি.ফিরোজের সাথে শপিংমলে দেখা হয় আমাদের কিছুদিন আগে। জানতে পারলাম তিনি অবিবাহিত। আমি নিজেই তার সাথে যোগাযোগ করেছি অনেক কষ্ট করে। বিশ্বাস কর ভাই মা এসবের কিছুই জানে না। আমি আর সাব্বির দুজনে মাকে বিয়েটা করার জন্য রাজি করাচ্ছিলাম।
-আর আমি সব ভেস্তে দিলাম!
.
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে শাম্মি বললো-
তোকে আগেই সবটা জানানো উচিত ছিলো আমার। আসলে মা আমার জন্য তার ভালোবাসাকে হারিয়েছে। আমাদের জন্য তার সুন্দর সময়টা ব্যয় করেছে। অন্য জেলায় বদলি করেছে বলে মা শিক্ষকতাও ছেড়ে দিয়েছে। সব কিছু ভেবে আমি চেয়েছি মি.ফিরোজের সাথে মায়ের বিয়েটা হোক। আমি কি খুব খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছি রে ভাই?
.
নিশ্চুপভাবে শাকিলরে বসে থাকতে দেখে পা বাড়ালো শাম্মি নিজের রুমের দিকে।
.
.
.
ঘড়িতে সময় সকাল ৬টা..
সারারাত ঘুম না হয়াতে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে শাম্মি। এলি এসে তার উদ্দেশ্যে বললো-
শাকিলকে দেখেছিস শাম্মি?
.
শাম্মির কাছে কোনো সাড়া না পেয়ে তার পাশে বসে চেঁচিয়ে এলি বলে উঠলো-
এই শাম্মি?
.
ঘুমঘুম চোখে শাম্মি বললো-
কি হয়েছে মা?
-শাকিলকে দেখেছিস?
-দেখছোই আমি ঘুমোচ্ছি।
-মাত্র ৬টা বাজলো সকাল। ছেলেটা গেলো কোথায়!
.
হাই তুলতে তুলতে শাম্মি বললো-
আছে হয়তো কোথাও!
-আমি ওর রুমে গিয়েছিলাম। মনটা কেমন করছিলো তাই! কিন্তু শাকিল নেই রুমে। সারাবাড়ি এমনকি ছাদেও দেখে এসেছি। সদর দরজা খোলা দেখতে পেয়েছি। এইরকম না বলে শাকিল কোথাও আগে যায়নি।
.
মায়ের কথা শুনে বসে পড়লো শাম্মি। কাল রাতে যে কথা গুলো বলছে শাকিল কে এসব কি সে সহজভাবে নিতে পারেনি!
.
-এই শাম্মি? কি ভাবছিস?
-একটু অপেক্ষা করো মা। চলে আসবে, পাশে কোথাও আছে।
.
.
.
বাড়ির একটু দূরেই
একটা বড় খেলার মাঠের ঠিক মাঝখানে বসে রয়েছে শাকিল।
হঠাৎ একই এলাকার তার সমবয়সী কয়েকটা ছেলে এসে বসলো তার পাশে। একজন তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে উঠলো-
আজকে এতো ভোরে শাকিলকে দেখা যাচ্ছে! এটা শাকিল নাকি তার ভুত!
.
অন্যএকজন তাল মিলিয়ে শাকিলের উদ্দেশ্য বললো-
শিশু শাকিল আজ তুই এখানে কেনো?
.
গলাটা গম্ভীর করে শাকিল বললো-
তোরা এখন যা। ভালো লাগছেনা আমার।
.
শাকিলের কথা শুনে উচ্চশব্দে হেসে উঠলো সকলে। হাসতে হাসতেই একজন বলে উঠলো-
সকাল ১০টার আগে যাকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়না। রাত ১০টার আগেই যে বাইরের সব কাজ শেষে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে শিশু শাকিল না বলে কি বলবো? বলদ শাকিল? অবশ্য তোর মাতো তোকে বলদই বানাচ্ছে। তা তোকে দুটো চুড়ি কেনো পরিয়ে দেয়না হাতে?
.
কথাটি শুনতেই শাকিলের মাথায় যেনো রক্ত উঠে গেলো। বসা অবস্থায় সে ছেলেটির শার্টের কলার ধরে বললো-
আমার মা আমাকে কি বানাচ্ছে তাতে তোদের এতো ইন্টারেস্ট কেনো? আমি শিশু শাকিল তাইনা? আজ আমি তোদের সব কটাকে মেরে প্রমাণ করবো আমি শিশু শাকিল নয়।
.
ছেলেটিকে এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো শাকিল।
অন্য দুটি ছেলে তাকে থামাতে চেয়েও ব্যর্থ হয় বিধায় তারাও শাকিলের গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে সবাই শাকিলকে মারতে থাকে এলোপাথাড়ি।
হঠাৎ শাকিল কারো ধমকের শব্দ শুনতে পেলো।
চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো সে ফিরোজকে।
এদিকে একজন মধ্যবয়স্ক লোককে দেখে বাকি ছেলেরা দাঁড়িয়ে পড়লো।
ফিরোজ তাদের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে বললো-
তিনটা ছেলে এক হয়ে একটা ছেলেকে মারছো। লজ্জা করেনা?
.
একজন কিছু বলতে চাইলে ফিরোজ তাকে থামিয়ে শাকিলের কাছে সবটা জানতে চায়।
শাকিল তাকে সবটা জানাতেই সে ছেলেগুলোর উদ্দেশ্যে বললো-
তোমরা যেটা করেছো অন্যায় করেছো। এটা ঠিক গায়ে হাত তোমরা আগে তুলোনি। কিন্তু শাকিলকে বাধ্য করেছো এমনটা করতে। সেক্ষেত্রে দোষ আমি তোমাদেরই দিবো। তোমরা কি চাও, তোমাদের বাসায় নালিশ নিয়ে যাই আমি?
.
সকলের 'না' জবাব পেয়ে ফিরোজ বললো-
শাকিলকে প্রত্যেকে সরি বলবে এবং আজকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবেনা তাও সিউর করবে।
.
.
.
শাম্মিকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হবার কথা ভাবতেই সদর দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো তারা শাকিল কে। তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ফিরোজ। শাকিলের কপালে ব্যান্ডেজ দেখে এলি দৌড়ে তার পাশে এসে বললো-
কি হয়েছে শাকিল? ব্যান্ডেজ কেনো তোর কপালে?
.
-ওকে ভেতরে নিয়ে বসাও, পানি দাও। আমি তোমাকে সব খুলে বলছি।
.
.
ফিরোজের মুখে সবটা শুনে শান্ত গলায় এলি বললো-
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি না থাকলে ওরা হয়তো শাকিলের আরো বেশি ক্ষতি করতে পারতো। আজকালকার ছেলেপুলেরা সাংঘাতিক কাজ কারবার করে বসে কিছু না ভেবেই।
-ধন্যবাদ বলার কিছু নেই। আমি এদিকে হাটতে এসেছিলাম। এসব দেখে কি করে চুপ থাকতাম! আচ্ছা আমি আসি।
.
-শুনছেন?
.
শাকিলের ডাকে দাঁড়িয়ে পড়লো ফিরোজ।
পেছনে ফিরে শান্ত গলায় বললো-
বলো বাবা?
-আমি খুবই লজ্জিত। আমি কাল যা বলেছি তার জন্য ক্ষমা চাইছি।
.
ফিরোজ কিছু বলার আগেই এলি বলে উঠলো-
তুই কেনো ক্ষমা চাইছিস বাবা! দোষটা আমাদেরই।
-না মা। আমারি ভুল। তুমি আমাকে ক্ষমা দাও।
-ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু তুই করিসনি!
-করেছি। করতে হবে ক্ষমা তোমাকে।
.
মৃদু হেসে এলি বললো-
আচ্ছা যা করলাম!
-কিভাবে বুঝবো তুমি আমাকে ক্ষমা করেছো?
-কিভাবে বুঝতে চাস তুই?
-একটা কথা রাখলে বুঝবো।
-কি কথা?
-ফিরোজ আঙ্কেলকে বিয়েটা করে নাও তুমি।
.
শাকিলের কথা শুনে সকলে নিশ্চুপ হয়ে গেলেও শাম্মি খুশিতে বলে উঠলো-
এই নাহলে আমার ভাই!
.
অবাক দৃষ্টিতে এলি বললো-
তুই কি বলছিস শাকিল ভেবে বলছিস? আমার বিয়ের কোনো দরকার নেই। তোদের নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবো আমি।
-আমি যা বলছি ভেবেই বলছি মা। অনেক করেছো তুমি আমাদের জন্য। এখন না হয় নিজের সুখটাও একটু দেখো!
-কিন্তু...
.
এলির কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে শাকিল বললো-
মা প্লিজ না করোনা। রাখো আমার আবদারটা! রাখবেনা বলো?
.
হালকা হাসলো এলি। শাকিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো-
হু।
.
.
.
৯দিন পর...
বাসরঘরে পাশাপাশি বসে আছে এলি ও ফিরোজ।
হালকা কেশে এলি বললো-
এই প্রথম কোনো মেয়ে তার শ্বশুড় বাড়িতে ২টা বড়বড় বাচ্চা নিয়ে এসেছে! ভাবা যায় এগুলা!
.
হেসে উঠলো ফিরোজ।
এলি তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে তার দিকে।
ফিরোজ তার হাত ধরে বললো-
তোমার ঘর ছেড়ে তোমাই চলতে আসতে হয়েছে এলি। কিন্তু তুমি মন খারাপ করোনা। আমরা ১মাস এখানে থাকবো আর ১মাস ওখানে। ঠিক আছে?
-হু।
-সব কিছু কেমন স্বপ্নের মতো তাইনা এলি? আমি ভাবতে পারিনি ২০বছর পর এসে যে স্বপ্নটা দেখেছিলাম তা পূরণ হবে!
-আমিও কি ভাবতে পেরেছি ফ্রিজ!
-ফ্রিজ! ও হ্যাঁ! তুমিতো এলিয়েন।
-ওই? আমি তোকে ফ্রিজ ডাকতে পারবো তুই আমাকে এলিয়েন ডাকতে পারবিনা।
-হেই আল্লাহ! জামাইকে কেউ তুই করে বলে?
-এলিয়েন ডাকলে এটাই শুনবি।
.
দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে এলিকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে ফিরোজ বললো-
গরম হচ্ছো কেনো? ফ্রিজের কাছে এসো। ঠান্ডা করে দিবো।
.
.
.
-আমি যে সবটা জানি তা মা জানেনা আপু। আমিও চাইনা মা জানুক। কেননা যে সত্যিটা মা চাইনি আমি জানি, তা এখন আমি জানি জানলে হয়তো মা কষ্ট পাবে।
.
শাকিলের কথা শুনে শাম্মি বললো-
বাহ! এই নাহলে আমার ভাই! কতো বড় হয়ে গিয়েছে গর্ব হচ্ছে তোকে নিয়ে আমার।
-উফফ.... তুমি একটু বেশি বেশিই বলো আপু!
.
-কি বেশি বললো?
.
সাব্বিরের কথা শুনে শাকিল বললো-
আপুর থেকেই জেনে নিয়েন হবু দুলাভাই। আমি গেলাম।
.
শাকিল নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যেতেই আচমকা শাম্মির হাত ধরে সাব্বির বললো-
চলো?
-কোথায়?
-ছাদে।
.
.
ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শাম্মি।
সাব্বিরের উদ্দেশ্যে সে বললো-
চাঁদটা কি সুন্দর তাইনা?
-জানিনা। আমিতো চাঁদ দেখছিনা। দেখছি তোমাকে।
-দেখো চাঁদ।
-নজর ওদিকে আর যাবেনা। আমি যা দেখছি তা সবকিছুর চেয়ে সুন্দর।
.
সাব্বিরের কথায় খানিকটা লজ্জা পেলো শাম্মি।
সাব্বির মৃদু হেসে বললো-
লজ্জা পেলেও তোমাকে এতো সুন্দর লাগে জানতাম নাতো?
.
ভ্রু জোড়া কুচকে শাম্মি বললো-
পটাতে চাইছো? পটছিনা।
-আমি যাকে পটাতে চাই না পটে পারেনা সেই।
-যেমন?
-এই যে শাশুমাকে পটিয়েছি আইডিয়া দিয়ে। আমার বাসায় পটিয়েছি ইমোশন করে। নাহলে আমার বাবা যেমন ট্যারা প্রকৃতির লোক, শাশুমার বিয়ের কথা জেনে তিনি কি আমাদের বিয়ের জন্য রাজি হতেন! আর সবার আগে তোমাকেই পটিয়েছি। তাইতো প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়েছো। বলো পটায়নি?
.
সাব্বিরের কথা শুনে হাসলো শাম্মি।
হেসেই বললো-
হু।
-এসব বাদ দাও। আমার একটা আবদার রাখো।
-কি?
-এই যে শাশুমা শশুরজি কে ফ্রিজ ডাকে আবার শশুরজি শাশুমাকে এলিয়েন ডাকে। এদিকে আমি তোমাকে শাম্মু ডাকি। এসব কি জানো?
-নিকনেইম!
-ভালোবাসার নাম এগুলা। তা আমাকে একটা ভালোবাসার নাম দিবা?
-দেওয়া যেতেই পারে।
-দাও দাও?
-উম্ম.... সাবুদানা?
.
সাব্বির কিছু বলার আগেই শাম্মি বললো-
এমন নাম দিবো ভেবেছো? একদমই না। তোমাকে আজ থেকে আমি ছাগল বলে ডাকবো।
.
মুখটা ফ্যাকাসে করে সাব্বির বললো-
ছাগল!
-হু।
-কোথায় স আর কোথায় ছ! মিলছেনা তো!
-ভালোবাসার নাম। মিলতে হবে কথা নেই। এখন যাও তুমি। এতো রাতে কেউ দেখলে কি ভাববে বলো!
-যাবো। নামটা বদলানো যাইনা?
.
চোখ রাঙিয়ে শাম্মি বললো-
যাবা তুমি!
.
কয়েকপা এগিয়ে গিয়ে থেমে গেলো সাব্বির। পেছনে ফিরে শাম্মির উদ্দেশ্যে বললো-
শাম্মু? ভালোবাসো আমাকে?
-অনেক বেশি।
-এভাবে বললে ছাগল হয়ে সারাজীবন মে মে করে তোমার সাথে থাকতে রাজি আমি!
.
হেসে উঠলো শাম্মি।
হাসতে হাসতেই বললো-
তুমি কি যাবা?
-ইচ্ছেতো করছেনা কিন্তু যাচ্ছি।
-যাও।
-গেলাম কেমন?
-আরে যাও!
.
সাব্বির চলে যেতেই স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললো শাম্মি।
তার আর সাব্বিরের মাঝে সবকিছুই এখন স্বাভাবিক। কিছুদিন পরেই তাদের বিয়ে। এদিকে তার মায়ের ভালোবাসা এতদিন পর পূর্ণতা পেলো। সবমিলিয়ে নিজেকে একজন সুখী মানুষ মনে হচ্ছে শাম্মির।
আকাশের দিকে তাকিয়ে দুটো তারা একসাথে দেখতে পেলো সে।
মনেহচ্ছে তার জন্মদাত্রী মা ও জন্মদাতা বাবা তার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
শাম্মি মুখে এক চিলতে হাসি এনে বললো-
মায়ের অভাববোধ কখনো করিনি। আজ বাবাও পেয়ে গিয়েছি। একটা ভাই আছে। কিছুদিন পর কারো বউ হবো। আমার মতো সুখী কতোজনই বা আছে! আমাদের এই বন্ধন যেনো আজীবন অটুক থাকে!
.
(সমাপ্ত)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)