শেষ থেকে শুরু - সাজি আফরোজ (পর্ব ৫)


-শাম্মি?
.
অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে চোখের পানি লুকোনোর চেষ্টায় ছিলো শাম্মি। কিন্তু হঠাৎ ফিরোজের গলার স্বর শুনতে পেয়ে অবাক হয়ে বা দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো ফিরোজকে।
কাঁদতে কাঁদতেই শাম্মি বললো-
আপনি!
.
চেয়ার টেনে শাম্মির পাশে বসে ফিরোজ বললো-
মায়ের কাছে ফোন করে মিনুর মোবাইল নাম্বার নিয়েছিলাম।
-প্রেম আলাপ করার জন্য?
.
উচ্চশব্দে হেসে উঠলো ফিরোজ, শাম্মির কথা শুনে। হাসতেই হাসতেই বললো-
কি যে বলোনা! তুমিতো বুঝেছই এলিকে আমি কতোটা ভালোবাসি।
- কচু টা বাসেন। বাসলে আমার দেওয়া প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ওই মিনু ফিনু আন্টির নাম্বার জোগাড় করতে যেতেন?
-মিনুর কাছে ক্ষমা চেয়েছি আমি। এলির কথা জানিয়েছি। মিনু আমাকে বললো আমি যা করতে চাচ্ছি এটাই ঠিক।
-কি করতে চাইছেন আপনি?
-এলিকে বিয়ে।
-সত্যি?
-হুম।
.
.
.
ডাক্তারের কাছে যাবে যাবে করে যাওয়াও হচ্ছে না এলির। তবে এর ভেতর থেকেই একদিন সময় বের করে যেতে হবে এবং তা অতিদ্রুত। কেননা আজকাল হাটা চলাফেরা করাটাও কঠিন হয়ে গিয়েছে এলির জন্য্য। অল্পতেই বেশ হাপিয়ে উঠে সে। মাঝেমাঝে কোমরে ব্যথা অনুভব হয়। আগে এসব উপসর্গ গুলো সামান্য আকারে দেখা দিলেও এখন তা ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে। যার চেয়ে হয়তো মরণ যন্ত্রণা হাজার গুণে সহজ হবে।
.
.
-মা?
.
শাম্মির ডাকে পেছনে ফিরতেই চমকে গেলো এলি।
শাম্মির পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফিরোজ।
ফিরোজ কিভাবে, কেনো এখানে এসেছে নানারকম প্রশ্ন এসে জমতে থাকলো এলির মনে।
-ভালো আছো?
.
ফিরোজের প্রশ্নে ঘোর কাটলো এলির। শাড়ির আঁচল টেনে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বললো-
আপনি?
-আসতে পারিনা বুঝি?
-কেনো নয়! বসুন না।
.
সোফার উপরে বসতে বসতে ফিরোজ বললো-
একটুও বদলাওনি তুমি। যেমন আগে ছিলে তেমনি রয়ে গেলে। কেউ দেখলে কি বলবে, তোমার বয়স চল্লিশ এর কাছাকাছি!
.
ফিরোজের কথা শুনে এলি খানিকটা লজ্জা পেলেও হেসে উঠলো শাম্মি।
হাসতে হাসতেই সে বললো-
আপনারা বসুন, আমি আসছি।
.
শাম্মি ভেতরে যেতেই ফিরোজের উদ্দেশ্যে গম্ভীর গলায় এলি বললো-
শাম্মি আমার মেয়ে। ওর সামনে এসব না বললেই কি নয়?
-শাম্মি আমারো মেয়ে হতে চলেছে।
-মানে!
-মানে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। ২০বছর আগে যেটা সম্ভব হয়নি সেটা এখন করতে চাই। শাম্মি আর শাকিলের দায়িত্বও আমি নিতে চাই।
.
ফিরোজের কথা শুনে বিস্ময়ের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো এলি। অবাক চোখে তাকিয়ে সে বললো-
কি বলছেন টা কি আপনি! এতো বড়বড় ছেলেমেয়ে আমার, তারা এসব শুনলে কি বলবে?
-শাম্মি নিজেই আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে। সে চায় তুমি সুখী থাকো।
-শাম্মি?
-হুম শাম্মি।
.
ফিরোজের কথা শুনে দাঁড়িয়ে পড়লো এলি।
শাম্মির উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে বলে উঠলো-
শাম্মি? এই শাম্মি?
.
মায়ের ডাকে দ্রুতবেগে ড্রয়িংরুমে আসলো শাম্মি।
তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এলি বললো-
তুই কি উনাকে বিয়ে করতে বলেছিস আমায়?
-মা আসলে...
-হ্যাঁ নাকি না?
.
শাম্মি মায়ের পাশে এসে তার হাত ধরে বললো-
আমার কথাটা শুনো তুমি।
-তুই শুধু বল, হ্যাঁ নাকি না?
.
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে শাম্মি বললো-
হ্যাঁ।
.
শাম্মির হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে কষিয়ে একটা থাপ্পড় বসালো তার গালে এলি।
এলির এমন কান্ড দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো ফিরোজ।
ভীতকণ্ঠে সে বললো-
এটা কি করলে তুমি এলি?
.
ফিরোজের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে এলি বললো-
আপনি এখন আসতে পারেন।
.
কিছু বলতে চেয়েও শাম্মির ইশারায় বললো না ফিরোজ। চুপচাপ বেরিয়ে যেতে থাকলো সে এই বাড়ি ছেড়ে। বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার পাশে একজন যুবককে দাঁড়ানো দেখতে পায় সে। একবার তার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে বেরিয়ে পড়লো ফিরোজ।
.
.
-আমি তোর কাছে এটা আশা করিনি শাম্মি। তুই আমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই এতো বড় একটা কাজ করে ফেললি! কি করে পারলি তুই এটা?
.
এলির কথা শুনে তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে সাব্বির বললো-
শাম্মি কি করেছে আন্টি?
.
সাব্বিরকে দেখতে পেয়ে নিজেকে সামলে নিলো এলি। হাসিমুখে সাব্বিরের উদ্দেশ্যে বললো-
তেমন কিছুনা। তুমি বসো, আমি আসছি।
.
ড্রয়িংরুম ছেড়ে এলি বেরিয়ে যেতেই শাম্মির দিকে তাকিয়ে সাব্বির বললো-
আমি বলেছিলাম না? আন্টি এটা মানতে পারবেন না।
.
সাব্বিরের কথা শুনে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো শাম্মি।
কাঁদতে কাঁদতেই বললো-
আমিতো মায়ের খুশির কথা ভেবেই এসব করলাম। আর উনি কিনা আমাকে ভুল বুঝলো! উপহার স্বরূপ একটা থাপ্পড়ও দিলো। তাও জীবনের প্রথম। এইজন্যই মানুষ বলে, কারো উপকার করতে নেই।
.
শাম্মির কথায় হো হো শব্দে হেসে উঠলো সাব্বির।
তা দেখে গাল ফুলিয়ে শাম্মি বললো-
তুমিতো চাওনি এটা হোক। তাই বেশি খুশি হয়েছো।
.
শাম্মির পাশে গিয়ে তার হাত ধরে সাব্বির বললো-
দেখি বসো আমার পাশে।
-না।
-বসতে হবে। না বসলে কিন্তু তোমারই ক্ষতি।
-কিসের?
-আরে বসোনা শাম্মু!
.
চুপচাপ সাব্বিরের পাশে বসে পড়লো শাম্মি। সাব্বির আশেপাশে তাকিয়ে শাম্মির গালে ঠোঁটটা ছুইয়ে দিতেই শাম্মি বললো-
সেদিনই তোমার সাথে সব শেষ হয়ে গেলো আমার। এখন আবার এসব কি? দূরে যাও বলছি।
-উহু যাবোনা!
-হুম যাবেনা এখন। এখনতো সিউর হয়ে নিয়েছো বিয়েটা হচ্ছেনা। এখন কেনো যাবা!
-বিয়েটা হবে। আন্টি আর মি.ফিরোজের বিয়েটা হবে।
-বুঝলাম না?
-স্বার্থপরের মতো নিজের দিকটা ভেবেছিলাম এতোদিন। কিন্তু কাল রাতে প্রথম থেকে সবটাই ভাবলাম। তুমি আমাকে বলেছিলে, কোন পরিস্থিতিতে আন্টির মি.ফিরোজের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হয়েছিলো। উনার জন্যই কিন্তু তুমি আর শাকিল নতুন একটা জীবন পেয়েছো। তোমাদের জীবনে উনার অবদান অনেকখানি। চাইলেই উনি তোমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি এমনটা করেননি। আমার সবটা আগেই ভাবার দরকার ছিলো শাম্মি। তোমার সাথে যা করেছি অন্যায় করেছি আমি। আমার উচিত ছিলো তোমাকে সাহায্য করা। যেটা এখন আমি করতে এসেছি। দুইটা ভালোবাসার মানুষের মিলন ঘটাতে এসেছি।
.
সাব্বিরের কথা শুনে হতাশ গলায় শাম্মি বললো-
তুমি নাহয় সবটা বুঝলে। কিন্তু মা? সেতো বুঝলোনা।
-আমি সবটা দেখেছি। তোমাদের ভুল ছিলো।
-কি ভুল?
-এভাবে হুট করে বলা ঠিক হয়নি। আরে কিছুদিন মি.ফিরোজ আসা যাওয়া করতেন, তোমাদের সাথে মিশতেন, ধীরেধীরে সম্পর্ক গভীর হতো। তারপর নাহয় আন্টি বুঝতেন তোমাদের জন্য হলেও মি.ফিরোজকে তার দরকার। এখন যেভাবে হুট করে উনার সামনে কথাটা তোমরা তুললে, মাথা এমনিতেই খারাপ হবার কথা নয় কি?
-আমিতো এসব ভেবে দেখিনি!
-অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত ছিলো।
.
সাব্বিরের পেটে একটা ঘুষি মেরে শাম্মি বললো-
তুমি এতোদিন কই ছিলা? গালটা না ফুলালে ভালো ভালো আইডিয়া পেতাম।
.
মুখটা কুচকে পেটে হাত রেখে সাব্বির বললো-
আহ মারছো কেনো! তখন ছিলাম না কি হয়েছে? এখনতো আছি নাকি?
-এখন আর উপায় আছে?
-অবশ্যই আছে।
-কি?
-তার জন্য যে ঘুষ দিতে হবে?
-কি?
-একটা ইয়ে আরকি।
-ঘুষি?
.
একটু দূরে সরে বসলো সাব্বির। শাম্মির উদ্দেশ্যে সে বললো-
না, তোমার জন্য ফ্রি।
-তাহলে বলো তোমার আইডিয়া।
-বলছি, আমি যেমন যেমন বলবো তেমনটাই করবা। দেখবে কাজ হয়ে গিয়েছে।
-ঠিক আছে!
-তাহলে আজ থেকে শুরু হবে আন্টির বিয়ের মিশন।
-হু। মায়ের বিয়ের মিশন!
.
.
.
-আপনাকে পারতে হবে আঙ্কেল। না পারলে কি করে এলি আন্টি আপনার হবে বলুনতো?
.
কফি শপে সাব্বির আর শাম্মির পাশে বসে রয়েছে ফিরোজ। সাব্বির এতোক্ষণ যাবৎ এলিকে পটানোর কৌশল বলেছে ফিরোজকে। কিন্তু এই বয়সে কি এসব তার পক্ষে করা সম্ভব! ছেলে হয়েছে বলে কি লজ্জা নেই তার? অবশ্যই আছে। বুড়ো বয়েছে এসব তার পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়। তাই সে সাব্বিরকে বলেছে তার পক্ষে এসব হবেনা। সেই থেকেই সাব্বির বুঝিয়ে চলেছে তাকে।
.
ফিরোজের কাছে কোনো সাড়া না পেয়ে সাব্বির বললো-
শুনছেন?
-হু।
-শুনলে হবেনা, করতে হবে। আমি আর শাম্মি আপনার পাশে আছিতো।
-কিন্তু....
-কোনো কিন্তু নয়।
.
শাম্মির দিকে তাকিয়ে সাব্বির বললো-
উনার মোবাইলটা নিয়ে আন্টিকে একটা রোমান্টিক মেসেজ পাঠাও শাম্মু।
.
টেবিলের উপর থেকে মোবাইল নিয়ে শাম্মি একটা মেসেজ লিখে সেন্ড করে দিলো এলির নাম্বারে-
একটাবার তুই করে ডাকবে এলি? একটাবার ফ্রিজ বলে ডাকবে? শোনার জন্য যে অস্থির হয়ে আছি আমি। বিশ্বাস করো আগের মতোই ভালোবাসি তোমাকে। আমি এটাও জানি, তুমিও আমাকে ভালোবাসো। তাহলে কেনো এই দূরুত্ব বলো?
.
শাম্মির হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিতেই ফিরোজ দেখতে পেলো মেসেজ সেন্ড হয়ে গিয়েছে!
মেসেজটা দেখে হেসে ফিরোজ বললো-
তুমি দেখছি সবই জানো।
-হু জানি।
-এই মেসেজটা দেখে আসলেই এলির মুখে সেই তুই ডাক, ফ্রিজ ডাক শুনতে ইচ্ছে করছে আমার!
-তাহলে লাজলজ্জা ভুলে আমি যা বলবো তাই করবেন বলুন?
.
সাব্বিরের কথা শুনে মৃদু হেসে ফিরোজ বললো-
হুম।
.
.
.
ফিরোজের মেসেজ পেয়ে শাম্মির উপরে মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হয়েছে এলির।
শাম্মি ফোন নাম্বার না দিলে কখনই ফিরোজ পেতোনা।
আর ফিরোজই বা কি? শাম্মি বলেছে বলেই কি এসব করতে হবে? কেনো? দয়া দেখাচ্ছে সে?
ফিরোজের সাথে এতোবড় অন্যায় করার পরেও এসব করে সে কি প্রমাণ করতে চাইছে? সে অনেক মহৎ? কিন্তু সেতো কারো দয়া চায়না। এতোদিন যখন একা থাকতে পেরেছে৷ বাকি পথটাও স্বামী ছাড়া কাটিয়ে দিতে পারবে সে। প্রয়োজন নেই তার কারো দয়ার।
.
ভাবতে ভাবতেই ফোনের রিং বেজে উঠলো এলির।
হাতে নিয়ে না দেখেই রিসিভ করে বললো-
হ্যালো?
- এলিয়ান?
.
ফিরোজের কণ্ঠ শুনে এলির মনে প্রশান্তির বাতাস বয়ে গেলেও নিজেকে শক্ত রেখে সে বললো-
কে আপনি?
-না চেনার কথা নয়।
-চিনছি না।
-চিনেছো।
.
এপর্যায়ে চেঁচিয়ে এলি বলে উঠলো-
মোটেও চিনছি না।
-আরে এইরকম গরম হচ্ছো কেনো তুমি? ফ্রিজের কাছে এসো, ঠান্ডা করে দিই?
.
আগের কথা মনে পড়ে গেলো এলির। এলিকে রাগানোর জন্য ফিরোজ তাকে এলিয়ান বলে ডাকতো। সে রাগ করলে ফিরোজ এভাবেই তার রাগ ভাঙাতো।
তার মতো সবই মনে আছে ফিরোজের?
.
-হুম সব মনে আছে আমার।
-আমি এটা ভাবছিলাম আপনি কি করে বুঝলেন?
-আমার চেয়ে বেশি তোমাকে কে বুঝতে পারবে বলো?
.
মন ঘেমে যাচ্ছে এলির। কিন্তু না, এটা হতে দেয়া চলবেনা।
গলার স্বরটা আবার গম্ভীর করে এলি বললো-
আমি রাখছি। আর ফোন না করলেই খুশি হবো।
.
ফোন রাখতেই ফিরোজের উদ্দেশ্যে সাব্বির বলে উঠলো-
কি মনে হয়? শাশুমা গলবেনা?
.
হালকা হেসে ফিরোজ বললো-
না গলে পারবেই না।
.
.
এতোবছর পর এই কোন পরিস্থিতি চলে এলো! ফিরোজ তার জীবনে ফিরে আসতে চাইছে। কিন্তু সে কি তার যোগ্য? তাছাড়া লোক, সমাজ কি বলবে? এতোবছর সে বিয়ে করেনি তবে আজ কেনো? আর সাব্বির? সে জানলে বা কি বলবে? এই কোন খেলায় নেমেছে শাম্মি? কোন ঝামেলায় জড়াতে চলেছে তারা? ভাবতেই বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো এলির।
.
.
.
-আমি একা যেতে পারবো।
.
শাম্মির কথা শুনে সাব্বির বললো-
সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি থাকতে তোমাকে একা যেতে দিতে পারিনা।
-ঢং।
-ঢং হলে ঢং।
.
শাম্মিকে চুপচাপ দেখতে পেয়ে সাব্বির বললো-
তুমি কি আমাকে ক্ষমা করোনি?
.
আবারো তাকে নিশ্চুপ দেখে সাব্বির বললো-
তুমি ক্ষমা না করলেও আন্টি আর ফিরোজ আঙ্কেলের মিল আমি করিয়েই ছাড়বো।
.
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)