হৃদয়ের গহীনে - সাজি আফরোজ (পর্ব ৪)


-তোমার মনে আছে আপু আমরা শেলি খালার বিয়েতে গিয়েছিলাম ওখানে তুমি তোমার ফোন-টা আমার ছোট ব্যাগে রাখতে দিয়েছিলে?
-হুম।
-তুমি শেলি খালার সাথে উনার শ্বশুর বাড়ি চলে গিয়েছিলে নতুন বউ এর সাথে বাড়ির কাউকে যেতে হয় বলে। আমার শরীর খারাপ থাকায় আমি যাইনি।
-হুম মনে আছে।আমার গোপণ মোবাইল-টি থেকে যায় তোর ব্যাগে।

-হুম।বাসায় গিয়ে যখন দেখেছিলাম তুমি মোবাইল নিতে ভূলে গিয়েছো সে-কি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।কোথায় লুকোবো ভেবেই পাচ্ছিলাম না।যদি আম্মু দেখে ভাবতো আমার মোবাইল।এই ভয়ে সেদিন সারা রাত ঘুমটাই হয়নি আমার।
-হাহাহা।
-হুম অনেক হেল্প করেছিস আরো তুই।
-তুমিও,তুমি না থাকলেতো জারিফের সাথে কথা বলার সাহস পেতাম না তখন।আর সম্পর্ক-টা এতোটাও আগাতো না।
-লাভ কি হলো!ব্রেকাপ!
-হুম।কোথাও যাওয়ার সময় জারিফকে বলে বর হতাম।
এই ৫মাসে বলা হয়না।মনে পড়ছে ওকে।
-হুম।
পিয়ালীদের বাসার খুব কাছাকাছি চলে আসে তারা।হঠাৎ হিয়ার মাথায় আসে আর একটু পার হলেই একটা শপিং মল রয়েছে।ওখান থেকেই কোমরের চেইনটা নেওয়া যাবে।তাই তারা নেমে সোজা শপিং মলের দিকে যায়।তবে রাস্তা পার হতে হবে।আর দিয়া রাস্তা পার হতে জানেনা।ছোট থেকেই বাসার পাশের স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছে সে,ঠিক মতো কিছু চিনেও না।
তাই হিয়া দিয়ার হাত শক্ত করে ধরে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছিলো।আর দিয়া ভাবছিলো কেনোযে এই হিয়া মেয়েটা ওর আপন বোন হলোনা।
অনেক খুঁজা-খুজির পরে পাওয়া যায় কোমরের চেইন।কিন্তু হরেক রকমের ডিসাইন এর ছিলো।জহুরের পছন্দের কোনটা হবে হিয়া বুঝতে পারছেনা।
তখনি দিয়া বুদ্ধি দেয় ছবি তুলে জহুরকে পাঠানোর জন্য।তার কথামতো ছবি তুলে জহুরকে পাঠিয়ে দেয় সে।ছবি দেখার জন্য ফোন করে জহুরকে।
-হ্যালো জহুর?
-আপনি কে বলছেন?
-আমি কে মানে!আপনি কে?
-আমি পুলিশ অফিসার আসিফ।এই মাত্র এখানে একটা এক্সিডেন্ট হয়।আপনি ফোনের মালিকের বাসায় যোগাযোগ করুন।
-কি বলছেন কি আপনি!এটা হতে পারেনা।
হিয়া দেখলো ওপাশ থেকে ফোন কেটে দিয়েছে।
-কি হয়েছে আপু?
-এক্সিডেন্ট হয়েছে বললো।
-কিছু হবেনা ভাইয়া ভালো হয়ে যাবে।তুমি উনার বাসার কাউকে ফোন দাও।
-হুম ওর মেজো ভইয়াকে দিচ্ছি।
ভাইয়ার সাথে কথা বলার পরে হিয়া মেঝতে বসে পড়ে....
-আপু কি হলো?
-মরে গেছে বলে বোন।জহুর মরে গেছে।
-ফাইযলামি করছে।তুমি ভাইয়াকে চাকরী নিয়ে বেশি বলোতো তাই ক্ষেপাচ্ছে তোমায়।
আশেপাশের মানুষ দেখছিলো বলে দিয়া হিয়াকে উঠিয়ে আড়ালে নিয়ে যায়।
হিয়ার মোবাইল নিয়ে জহুরের বন্ধুকে ফোন দেয়।
-হ্যালো ভাইয়া জহুর ভাইয়া কোথায়?
-আপনি কে?
-আমি হিয়া আপুর কাজিন।
-আসলে রোড এক্সিডেন্ট এ একটু আগে তার মৃত্যু হয়।আমরা কয়েকজন এখানেই আছি।
-কোনো ছবি পাওয়া যাবে?
-হুম যাবে।জহুরের ফেবু এর পাসওয়ার্ড হিয়ার কাছে আছে।ওখানে দিচ্ছি।দেখতে বলুন।
রক্তাক্ত শরীর,হলুদ শার্ট এ রক্ত ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।তবে চোখ দুটো আর মুখটা হা করা ছিলো।যেনো হিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে কিছু বলতে চায়ছে।
কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলো হিয়া।
দিয়া বুঝতে পারছিলোনা,এই পরিস্থিতিতে তার কি করা উচিত।বোনের অবস্থা দেখে সেও কাঁদতে থাকলো।
একটু পরে ভাবলো নিজেকে শক্ত করে তার বোনকে সামলানো উচিত।তাড়াতাড়ি পিয়ালীকে ফোন দেয়।
-হ্যালো আপু?
-হুম কোথায় তোরা?
-জহুর ভাইয়ার রোড এক্সিডেন্ট এ স্পট ডেড হয়।
-কি আবুল-তাবুল বলছিস তুই?
-সত্যি বলছি।
-তোরা কোথায় এখন?
-কাছেই।
-আচ্ছা আমি সামনে আসতেছি।আস্তে আস্তে ওকে নিয়ে আয়।
একটু আগে যে মেয়ে ছোট বোনের হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দিয়েছিলো তার হাত ধরেই এখন দিয়া রাস্তা পার করাচ্ছে।
একটু যেতেই দেখতে পায় তারা পিয়ালীকে।
পিয়ালী তাদের বাসায় নিয়ে যায়।
ফুফুকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পিয়ালীর রুমে গিয়ে বসে তারা।সে সময়টা হিয়াকে শান্তনা দেওয়াটা ছিলো মুশকিল।
হঠাৎ দিয়ার মনে পড়ে জারিফের কথা।
অস্থির লাগে তার জন্য।আর না ভেবে ফোন দেয় জারিফকে।
-ভূল করে ফোন দিয়েছো?
-না।ঠিক আছো?
-আমিতো আছি।তোমার কি হলো?
গলাটা এমন শুনাচ্ছে কেনো?
-জহুর ভাইয়ার বাইক এক্সিডেন্ট এ স্পট ডেড হয়েছে।
-সিরিয়াসলি!কখন?
-একটু আগে খবর পেলাম।
-তোমরা কোথায়?
-পিয়ালী আপুদের বাসায়।
-হিয়া আপুর কি অবস্থা?
-সামলানো যাচ্ছেনা।
-আচ্ছা আপুকে দেখো।আর কোনো সাহায্য লাগলে বলবা।
-ঠিক আছে।
-আর শুনো মনি?
-হুম?
-নিজেরও যত্ন নিও।
-ঠিক আছে।
পিয়ালীর-ও ইচ্ছে হলো রিয়াদকে ফোন দিতে।কিন্তু সে নিজেকে সামলিয়ে নেয়।রিয়াদের খবর নেওয়ার মানুষ রয়েছে এখন।সে না নিলেও চলবে।
পিয়ালী এমন একটা মেয়ে যে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারে,অন্যকে শান্তনা দিতে পারে।
কিন্তু দিয়া ছিলো তার উল্টো।
পিয়ালী জহুরের ভাইয়ার কাছ থেকে জানতে পাতে জহুরের ডেড বডি পুলিশের কাছে এখন।যেহেতু এটা এক্সিডেন্ট ফর্মালিটি শেষ হলেই ডেড বডি পাবে তারা।
এদিকে হিয়া অস্থির হয়ে যায় বান্দরবান যাওয়ার জন্য।
-পিয়ালী আপু আমি বান্দরবান যাবো।
-কোথায় যাবি ওখানে?গ্রাম এলাকায় এইরকম গফ কেউ বুঝবেনা।সারারাত কোথায় থাকবি তুই??বাসায় গেলেও তোর কি মনে হয় পরে জহুরের বাসায় যেতে দিবে তোকে?ওটা পিয়ালী শহর নয়,গ্রাম।বুঝতে চেষ্টা কর।
-তাহলে আমি থাকবোনা।ওকে দেখেই এখানে চলে আসবো আবার।তোমরা কেউ চলো আমার সাথে।
-জানাজা কখন হবে জেনে নেয়।তারপর ঠিক করা যাবে।
ফোন বেজে উঠে হিয়ার।
.
হিয়ার মায়ের ফোন।
-হ্যালো হিয়া।
-আম্মু সব শেষ হয়ে গেলো।
-কঁাদছিস কেনো তুই?কি হয়েছে?
-জহুর বাইক এক্সিডেন্ট এ মরে গিয়ে সবাই কে মুক্তি দিয়ে গেলো।
-মানে?
-মানে ও মরে গিয়েছে।
-কখন?
-তোমার কি দরকার?
-এভাবে কথা বলছিস কেনো মা!আমিতো মেনেই নিয়েছিলাম।শান্ত হো।
-পারছিনা হতে আমি শান্ত।
-তুই কি বান্দরবন আসবি?
-জহুর-কে দেখতে যেতে দিবে?
-তোর আব্বু দিবেনা,জানিসতো গ্রামের মানুষ কেমন।
-তাহলে আমি গিয়ে কি করবো ওখানে!
-আচ্ছা চাচির বাসায় চলে যা।একা একা বান্দরবন আসার চেষ্টা করিস না,গ্রাম এলাকা ওটা....
-প্লিজ আম্মু আল্লাহু এর দোহাই লাগে চুপ করো।যাবোনা কোথাও।রাখো এখন ফোন।
ফোন রেখে কঁাদতে থাকলো হিয়া।তার মনের ভেতর কি চলছে কেউ বুঝবেনা।স্বপ্ন অপূরণ হওয়ার কষ্ট,প্রিয় মানুষ-টাকে হারানোর কষ্ট এতো তীব্র হতে পারে জানা ছিলোনা তার।
-হিয়া তোর মা তোর ভালোর জন্যই এসব বলেছে।
-হুম জানি পিয়ালী আপু।
-না যাওয়াটায় ভালো হবে তোর জন্য।দেখলে আরো কষ্ট পাবি।জহুরের পরিবার দেখতে না দিলে তোকে তখনো কষ্ট পাবি।তাছাড়া আরো ঝামেলা হতে পারে।
-হুম।
রাত ২টা।ঘুম নেই কারো চোখে।জারিফ ও জেগে রয়েছে।দিয়ার কাছ থেকে হিয়ার খবর নিচ্ছে।অনেক শুনেছিলো দিয়ার মুখে হিয়াদের প্রেমের কথা সে।তাই হয়তো তারও কষ্ট হচ্ছে।
রাত ৩টা।ফোন আসে হিয়ার।
-হ্যালো কে?
-আমি জহুরের বোন।
-আপু....(কাঁদতে থাকলো)
-কেদোনা বোন।তুমি কাঁদলে আমার ভাইটা যে কষ্ট পাবে।
-আপু আমার বুকটা জ্বলছে।
-দোয়া করো বোন দোয়া করো।
-আমি কি আসতে পারি?একটু দেখবো ওকে।
-আসিও।জানাজা কাল সকাল ১০টাই।
ফোন রাখার পরে পিয়ালীকে বলে হিয়া-
আমি যাবো।
-জানাজা ১০টাই হলে আমরা কি করে বের হবো বল?বাসায় কি বলবো?
-না না তুমি না।তুমি থাকো।দিয়াকে নিয়েই যাবো। এতো তাড়াতাড়ি তুমি বের হলে ফুফুকে কি বলবে!
-দিয়াকে নিবি!পাগল তুই?জানিস না ও এতদূর গেলে নিজেই অসুস্থ হয়ে যায়।তোকে কি সামলাবে ও।আর তোরা ২টা মেয়ে এভাবে...
না হিয়া আমি কিছুতেই পারিনা এভাবে তোদের একা ছাড়তে।এদিকে তোর মাও নিষেধ করেছে তোকে না যেতে।একটু ঘুমা বোন।শান্ত হো।দেখলে কষ্ট বাড়বে আরো।
রাত বাড়ার সাথে সাথে পিয়ালীদের চোখে ঘুম এলেও হিয়ার চোখে ঘুম নেই।
ভাবতে থাকে জহুরের সাথে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা।
পাশাপাশি গ্রামের ছিলো তারা।তখন তারা
অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।একই ক্লাস হলেও স্কুল ছিলো ভিন্ন।
হিয়াদের জেলার পক্ষ থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সে প্রতিযোগিয়ার হিয়াদের সাথে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছিলো।আর সেখানে অংশগ্রহণকারীর মাঝে জহুরও ছিলো।সেখানেই হয় তাদের প্রথম দেখা।
হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতার মাঝে ফাইনালে পৌছায় হিয়া আর জহুরের দল।
সবশেষে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয় জহুরের দল।
জহুরের দক্ষতায় তার দল জয়ী হয়েছিলো।তাই হিয়া জহুরের প্রতি মুগ্ধ হয়।কিন্তু তখনো বুঝেনি এই জহুর হবে তার ভালোবাসার মানুষ।
২বছর কেটে যায়।এস.এস.সি. পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য হিয়ার বাবা হিয়াকে একটি নামকরা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেন।
প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকতেই ধাক্কা লাগে হিয়ার একটি ছেলের সাথে।চারদিকে সব অপরিচিত এর মাঝে এই মানুষটিকে বড্ড চেনা মনে হয় তার।একটু পরেই মনে পড়ে এটাতো বিতর্ক প্রতিযোগিতার জহুর নামের ছেলেটি।
হিয়ার সময় লাগলেও জহুরের সময় লাগেনি হিয়াকে চিনতে।হিয়াকে দেখে আজ তার অন্যরকম ভালো লাগছে।অথচ এই মেয়েটিকে সে আগেও দেখেছিলো তখন এতোটা ভালো লাগেনি তার।
হিয়া অন্যসব মেয়েদের চেয়ে আলাদা।শান্ত,
সুন্দর স্বভাবের একটা মেয়ে।দেখতেও অসাধারণ।তবে ওর শান্ত স্বভাবের প্রেমেই পড়েছিলো জহুর।
ক্লাস টাইম এ হিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা যেনো জহুরের পেশা।
হিয়া তা তাকিয়েও বুঝতে পারতো জহুর তার দিকে তাকিয়ে আছে।
অসুস্থতার জন্য হিয়া কিছুদিন কোচিং ক্লাসে আসতে পারেনি।
আর তখনি জহুর বুঝতে পারে হিয়াকে ছাড়া সে অচল।
৩দিন পর হিয়াকে দেখে জহুরের প্রাণ ফিরে এসেছে মতো লেগেছিলো।
হিয়া ক্লাসের এক মেয়ের কাছে নোট চায়।জহুরের কানে কথাটি যায়।সে অনেকগুলো কপি করে এনে নোট-টি ক্লাসে যারা পায়নি তাদের বিতরণ করে যাতে হিয়াও পায়।
পরেরদিন হিয়াদের কোচিং এর ঝাড়ুদার এসে হিয়ার হাতে একটি চিঠি দিয়ে বলে..
-আম্মা এইডা কেলাসে পাইছি ঝাড়ু দেওনের সময়।তোমার নাম দেইখা তোমারে দিলাম।
চিরকুটে লিখা ছিলো-
ভালোবাসি তোমায় হিয়া।
হিয়ার বুঝতে বাকি রইলোনা কার কাজ এটা।
পরেরদিন হিয়ার ক্লাসের একটি মেয়ে হিয়ার হাতে একটি প্যাকেট ধরিয়ে দেয়।তাতে ছিলো কিছু চকলেট আর একটা সুন্দর ডায়েরী।
ডায়েরীর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা
-আবারো বলছি ভালোবাসি তোমায়।
বাসায় পড়ার টেবিলে বসে ডায়েরীটা দেখছিলো হিয়া।
হঠাৎ বাবা তার রুমে আসে।
-কিরে মা কি করছিস?
-এইতো বাবা পড়া শুরু করবো এখন।
-পড় মা পড় ভালো করে।আমি বাজারে যাচ্ছি কিছু লাগবে?
-না আব্বু লাগবেনা।
পড়াতে মন বসতেই হঠাৎ ফোন বেজে উঠার শব্দ পায় হিয়া।
বাবা ভূলে তার ফোন রেখে বাজারে চলে গিয়েছে।
তাই সে নিজেই রিসিভ করে বলে-
হ্যালো আসসালামু-আলাইকুম,আব্­বুতো বাজারে গিয়েছেন।আপনি কে?
-যাক তুমি ধরেছো ফোনটা।
-মানে?
-মানে আমি তোমাকেই খুজছিলাম।দেখো কি ভালো ভাগ্য আমার।
-কিন্তু আপনি কে?
-জহুর।
(জহুরের নাম শুনতেই হিয়ার অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।যেনো সে তার-ই অপেক্ষা করেছিলো।)
-আপনি!!কি করে আব্বুর নাম্বার পেলেন?
-সে অনেক কথা।
হিয়া এই হিয়া....
মায়ের ডাক শুনতে পায় হিয়া।তাই তাড়াতাড়ি জহুরকে বলে-
আমি পরে কথা বলবো এখন রাখছি।
-শুনো?
-হুম।
-সুযোগ পেলে ফোন দিও।অনেক কথা আছে।
সারাদিন হিয়া আর বাবার ফোন নিতে পারেনি।
পরের দিন কোচিং ক্লাসে দেখা হলেও কেউ কারো সাথে বলেনি।
রাতে সুযোগ পেয়ে ফোন নিয়ে নিজের রুমে চলে আসে হিয়া।নাম্বারটা মুখস্ত হয়ে রেখেছে।দেরী না করে ডায়াল করে সে।কিন্তু ওপাশ থেকে কেটে দেয় জহুর।কাল ফোন না দেওয়ার কারণে কি রেগে আছে সে!
নাহ ফোন বেজে উঠেছে হিয়ার।
-হ্যালো কেটে দিয়েছেন কেনো?
-আমি করবো তাই।তোমার আব্বুর ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেতো তোমায় সন্দেহ করবে তাইনা।
-হুম।
-ভালোবাসি তোমাকে।
-কি?
-হুম আজ আর দেরী করলাম না,বলেই দিলাম।
-কিন্তু আমিতো আপনাকে বাসিনা।
-চেষ্টা করবা।
-কি করে?
-এই যে প্রথমে আপনি আপনি বলা বন্ধ করবা।
-তুই করে বলবো?
-হাহা বলতে পারো।
-তারপর?
-সুযোগ পেলেই কথা বলবা আমার সাথে,প্রেমে ফেলানোর দায়িত্ব আমার।
-সম্ভব না।
-কেনো?
-আমার বাসায় সবাই অনেক বিশ্বাস করে আমাকে।জানলে কষ্ট পাবে।
-আরে ওসব ব্যাপার না।
প্রেমতো কেউ আর জানিয়ে করেনা বাসায়,লুকিয়ে করে।
-আমার সময় লাগবে ভাবতে।
-আরে নাও সময়।আমিতো কোথাও যাচ্ছিনা।তোমার পিছেই পড়ে থাকবো।
-প্রেমের শেষ পরিণতি বিয়ে,আপনি কি পারবেন বিয়ে করতে?
-অবশ্যই।
এভাবে তাদের সময় কেটে যাচ্ছিলো।ক্লাসে কথা না হলেও ফোনে কথা হত মাঝে মাঝে।হিয়ার জহুরকে ভালো লাগতো কিন্তু ভালোবাসতো কিনা সে জানেনা।
দেখতে দেখতে তাদের এস.এস.সি পরীক্ষা চলে আসে।
২জনের ২প্রান্তে পরীক্ষার সেন্টার পরে।
অংক পরীক্ষার দিন হিয়ার জন্মদিন ছিলো।টানা ৩ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়ে হল থেকে বের হয়ে দেখে জহুর দাঁড়িয়ে আছে গেইট এর পাশেই।হিয়াকে দেখে কাছে ডাকে সে।এই প্রথম তাদের সরাসরি কথা হয়।
-এ কি তুই এখানে?
-অনেকক্ষণ যাবৎ এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
-কি!পরীক্ষা না দিয়ে?
-আরে আমি অংকে অনেক পটু।তাড়াতাড়ি সব শেষ করেই বের হয়েছি।
-কিন্তু কেনো?
-এইযে তোকে এটা দিতে।
নে ধর।
-এটা কিসের জন্য?
-ওরে পাগলি শুভ জন্মদিন।
সেদিন পরীক্ষার চাপে হিয়ার নিজেরই মনে ছিলোনা ওর জন্মদিনের কথা অথচ এই জহুর টা মনে রেখেছে।জহুরের প্রতি ভালোলাগা আরো বেড়ে যায় হিয়ার।
হিয়া ভালো না বাসলেও জহুরের সাথে কথা বলতে পছন্দ করতো।যেটাকে এক প্রকার সময় কাটাতে ভালো লাগা বলা যায়।কিন্তু হিয়া জহুরের ভালোবাসার টানে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়।
অবশেষে শুরু হয় হিয়া আর জহুরের প্রেমের সম্পর্ক।
.
(চলবে)

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আছো বলে - নৌশিন আহমেদ রোদেলা (সকল পর্ব ১-১৮)

রঙ চা - মাহফুজা মনিরা (সকল পর্ব ১-২৬)

কলঙ্কের ফুল - সাজি আফরোজ (সকল পর্ব ১-২৯)